অন্যান্য

এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে ধর্ষণে অভিযুক্ত এমপি নাজিম

2021/01/31/_post_thumb-2021_01_31_20_53_58.jpg

ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়ার প্রায় ৪ মাস হতে চললেও এখনো ধরাছোয়ার বাইরে ময়মনসিংহ-৩ আসনের আওয়ামীলীগ সমর্থিত সাংসদ এমপি নাজিম উদ্দিন আহমেদ। গত বছরের অক্টোবরে তার বিরুদ্ধে চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ এবং ভিডিও ধারণ করে প্রায় দুই বছর যাবত যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছিল গৌরীপুর উপজেলার তৌহিদা আক্তার (৩২) নামের একজন ভুক্তভোগী।

কিন্তু সাংসদ নাজিম তার প্রভাব খাঁটিয়ে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি একপ্রকার ধামাচাপা দিয়ে ফেলেছে। অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্ত নাজিম প্রভাবশালী সরকার দলীয় সাংসদ হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসনও এই ঘটনা নিয়ে আর আগ্রহ দেখায়নি। 

  গৌরীপুরে ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করলেন এমপি নাজিম উদ্দিন | Aporadh Barta

ভুক্তভোগী তৌহিদা আক্তার তার অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করেছিলেন, আমি সাধারণ একজন পরিবারের মেয়ে। আমার চাকুরীর বিশেষ প্রয়োজন থাকায় ময়মনসিংহ-৩ আসনের এমপি নাজিম উদ্দিন আহমেদের সাথে দেখা করে চাকুরীর কথা বলি। উনি আমাকে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে পরদিন ময়মনসিংহ জেলার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কার্যালয়ে দেখা করতে বলেন।

ওনার কথামতো পরদিন অর্থাৎ ২০ শে জানুয়ারি ২০১৯ ইং তারিখ রবিবার আনুমানিক সন্ধ্যা ৭.৩০ এ উল্লেখিত কার্যালয়ের অফিস কক্ষে দেখা করি আমার চাকরির বিষয়ে কথা বলার জন্য উক্ত কার্যালয়ে দু’তলায় অন্য একটি কক্ষে উনি আমাকে নিয়ে যান। কথা বলার এক পর্যায়ে উনি আমাকে সাধারণ কোলড্রিংস জাতীয় পানি পান করতে বলায় আমি পান করি।

আসলে উনি আমার সরলতার সুযোগে সাধারণ কোল্ড্রিংসের বোতলে অন্য অতি মাত্রার এলকোহল মিশ্রিত পানি পান করিয়ে আমার মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটিয়ে নির্যাতন ও ভয় দেখিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে আমাকে ধর্ষণ করে ভয় দেখায় ও হুমকি দেয় যে উক্ত যৌন হয়রানির বিষয়টি গোপন ক্যামেরায় ভিডিও রেকর্ডিং করে রেখেছেন। আমি যদি এই বিষয়গুলো অন্য কাউকে জানাই তাহলে আমাদের পরিবারের অন্য সদস্য ও আমাকে মারাত্মক ক্ষতি করে গৌরীপুর উপজেলা ছাড়া করবেন।

তারপরও এমপি সাহেব উল্লেখিত ভিডিও রেকর্ডিং এ আমার আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও আমার পরিবারের অন্য সদস্যদের দেখানোর হুমকিও ভয় দেখিয়ে বার বার আমাকে যৌন হয়রানি করতেছেন। আমি অনেক কৌশল করে গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও রেকর্ডিং কপি সংগ্রহ করি।

যৌন নির্যাতনের শিকার তৌহিদা ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার পূর্ব দাপুনিয়া গ্রামের মোঃ আব্দুল হাই এর কন্যা।

তৌহিদা আক্তার গৌরীপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন এ ব্যাপারে। সেই অভিযোগপত্রের কপিটি ধর্ষণের ভিডিওর সাথে তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ ভাইরাল হয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন প্রকার তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এই ঘটনার। স্থানীয় প্রশাসন থেকে একপ্রকার চেপে যাওয়া হয়েছে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি। 

এদিকে এই বিষয়ে জানার জন্য গৌরীপুর থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) কে ফোন করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

মন্তব্য