অন্যান্য

শতবর্ষী জামেয়া ইউনুছিয়ায় ছাত্রলীগ সশস্ত্র হামলা চালালে বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে বি. বাড়িয়াবাসী

2021/03/30/_post_thumb-2021_03_30_16_12_07.jpg

বাংলাদেশে গত তিন দিনের সহিংস বিক্ষোভে সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়। যদিও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফরকে কেন্দ্র করে ঢাকায় বায়তুল মোকাররম এলাকায় সংঘর্ষের শুরু, কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেই তা সবচেয়ে ব্যাপক সহিংস রূপ পেয়েছে। ঢাকায় মুসল্লিদের উপর পুলিশ ও আ.লীগ-ছাত্রলীগের সশস্ত্র হামলার প্রতিবাদে পুরো ব্রাহ্মণবাড়িয়াজুড়েই ছাত্র-জনতা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।  

সারাদেশে মোদিবিরোধী বিক্ষোভে যে ১৭ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা গেছে তার মধ্যে ৯ জনই এই জেলার। সেখানে রবিবার সারা শহরের বহু সরকারি দপ্তর, প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়, আ.লীগ-ছাত্রলীগ নেতাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে ছাত্র-জনতা।      


প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা

রবিবারের ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে বিক্ষুদ্ধ জনতার যে ধরনের বিক্ষোভ দেখা গেছে তাকে যুদ্ধক্ষেত্রের সাথে তুলনা করেছেন স্থানীয় সাংবাদিক মাশুক হৃদয়।

তিনি বলছিলেন, "বিক্ষুদ্ধ জনতা এমন একটা আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছিল যে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে আশপাশের সব লোকজন মারাত্মক আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল।


যে ধরনের হামলা হয়েছে

অন্য অনেক জেলা শহরের মতো একটি সড়ককে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর। সড়কটির নাম টি-এ রোড। শহরের যা কিছু গুরুত্বপূর্ণ তার সব কিছুই এই সড়কের দুই ধারে অবস্থিত।

স্থানীয় প্রশাসন, সাংবাদিক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা থেকে জানা গেছে টি-এ রোডের দুই ধারে জেলা সদরের পৌর সভা, শিল্পকলা, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, পৌর মিলনায়তন, ভূমি অফিস, প্রেস ক্লাব ছাড়াও আরও বেশ কিছু সরকারি ভবনে একে একে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। বেলা এগারোটা থেকে চলতে থাকে এই ক্ষোভের আগুন।  একটি ট্রেনে হামলা করা হয় যেটি এর আগের দিন পুড়িয়ে দেয়া রেল স্টেশন পার হচ্ছিল।


স্থানীয় এক হেফাজত নেতা বলছেন, "উচ্ছৃঙ্খল কোন একটি গোষ্ঠী যাদের দুরভিসন্ধি আছে, তারা হয়ত বা মিছিলের পেছন থেকে ঢুকে থাকতে পারে। তবে সেটা আমার জানার কথা না, কারণ আমি শরীর খারাপ থাকায় মিছিল শেষ হওয়ার আগেই বের হয়ে যাই। এখানে অনেক সুবিধাবাদী তৃতীয় কোন পক্ষ সরকারকে লাভবান করার উদ্দেশ্যে এই হামলা ঘটাতে পারে।"


এনিয়ে কথা বলার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কারো কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে বেশ হামলার শিকার হয়েছে জেলার পুলিশ।

রবিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইলে হাইওয়ে পুলিশের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করা হয়। সেখানকার পুলিশের সাথেও যোগাযোগ করার চেষ্টা হয়েছে সোমবার সারাদিন। কিন্তু তাদের তরফ থেকেও কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।


 এদিকে স্থানীয়রা জানায়, কোথাও কোন স্থানে পুলিশ ছিল না। তারা থানাতেই অবস্থান করছিল। দুইটা জল কামান ছিল সেই দুটো পুড়িয়ে দেয়া হয়। কিন্তু এগুলো রক্ষায় তাদের কোন সেলফ ডিফেন্স ছিল না।"


যেভাবে শুরু রবিবারের সহিংস বিক্ষোভ

জেলার একশ বছরের পুরনো জামিয়া ইউনুসিয়া মাদ্রাসায় শনিবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের মিছিল থেকে হামলা করা হয়েছে বলে হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

স্থানীয় সাংবাদিকরাও এরকম একটি হামলার কথা উল্লেখ করে বলছেন, এতে সেখানে আরও বেশি ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। 


ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতে ইসলামের প্রচার সম্পাদক মুফতি এনামুল হক বলেন, "ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একশ বছরের পুরনো একটা মাদ্রাসা আছে জামিয়া ইসলামি ইউনুসিয়া মাদ্রাসা। সেখানে যখন ছাত্রলীগের মিছিল থেকে সশস্ত্র আক্রমণ করা হয়, তখন এই কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাধারণ মানুষ ক্ষেপে যায়"। তবে এত ঢালাও অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের দায় অস্বীকার করেছেন তিনি।


 "হেফাজতে ইসলামের মূল কর্মসূচী ছিল মোদীর আগমন নিয়ে। কিন্তু কিছু রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় এমপির দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষজন আঙুল তুলছে যে ওনার ইঙ্গিতে এসব হয়েছে। ভাঙচুরের জন্য হেফাজতে ইসলাম জড়িত না। যারা আগের দিন মাদ্রাসায় আক্রমণ করেছে তারাই আমাদের নামে বদনাম ছড়ানোর জন্য এসব হামলা চালিয়েছে।"

স্থানীয় সংসদ সদস্যের যা বক্তব্য

শহরে ব্যাপক অগ্নিসংযোগ এবং ভাঙচুরের দায় যেমন নিচ্ছে না হেফাজতে ইসলাম, তেমনি যে সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে সংগঠনটি অভিযোগ তুলেছে তিনিও পাল্টা অভিযোগ করছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের অধীনে রয়েছে সদর এলাকা। এই আসনের সংসদ সদস্য ওবায়দুল মুক্তাদির চৌধুরীর নেতৃত্বেই শনিবার সন্ধ্যার মিছিলটি বের হয়েছিল।

তিনি বলছেন, সেই মিছিল মাদ্রাসা এলাকায় কোনমতেই প্রবেশ করেনি। যদিও স্থানীয় বিভিন্ন অনলাইন মিডিয়ার ভিডিওফুটেজে জামেয়া ইউনুছিয়ায় ছাত্রলীগের মিছিল থেকে সশস্ত্র হামলার ভিডিও দেখা গেছে। 


 

মন্তব্য