প্রচ্ছদ

উপকূলে চিংড়ি চাষ যেন গলার কাঁটা!

2021/06/01/_post_thumb-2021_06_01_10_43_24.jpg
সুন্দরবন সংলগ্ন মোংলা উপকূলের মানুষের আয়ের প্রধান উৎস্য ‘সাদা সোনা’ খ্যাত চিংড়িসহ নানা প্রজাতির মাছ। মাছ চাষ করেই এ অঞ্চলের ৭০ শতাংশ মানুষের জীবিকা আসে। তবে একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে বেশি ক্ষতির শিকার হলো মোংলা উপকূলের চিংড়ি চাষীরা।

এর আগের ঘূর্ণিঝড় আম্পানের ধাক্কা সামলে না উঠতেই এলো ইয়াস। ভেসে গেছে তিনশ’ হেক্টর মাছের জমি। এসব জমিতে চিংড়িসহ অন্যান্য মাছের ৬৮৫টি খামার রয়েছে। প্রায় সবগুলোই ভেসে গেছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ঝড়ের আগে প্রচণ্ড তাপদাহে এখানকার চাষীদের কয়েক লক্ষ টাকার মাছ এমনিতেই মরে গিয়েছিল। এরমধ্যে আবার ইয়াস-এর কারণে উপজেলার চিলা ইউনিয়নের ৪৪৫টি, চাঁদপাইয়ে ১৪৪টি ও বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নের ৮৬টিসহ মোট ৬৮৫টি ঘের ভেসে গেছে। এসব খামারে কত কোটি টাকার মাছ ভেসে গেলো তার হিসাব কেবল শুরু করেছি বলে জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৭ মে) সরেজমিনে এসব এলাকা ঘুরে কথা হয় ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে। জয়মনি ঘোলের হরিপদ মন্ডল বলেন, ‘অনেক কষ্ট করে কয়টা মাছ ছাড়িলাম, সব তলায়া গেছে।’

কাইনমারি এলাকার দিলিপ কুমার বিশ্বাস ও তপন গাইন বলেন, ‘প্রচণ্ড গরমে একদফা মাছ মরে পচে গেলো। এবার ঝড়ে ঘেরের মাছ সব ভেসে গেছে। এখন কী করে বেঁচে থাকবো তা নিয়ে চিন্তায় আছি।’

ধারবাহিক দুর্যোগের কারণে চিংড়ি চাষে জড়িত উপজেলার সহস্রাধিক মানুষ এখন দিশেহারা। উপজেলা চেয়ারম্যান ও চিংড়ি ব্যবসায়ী মো. আবু তাহের হাওলাদার বলেন, ‘চিংড়ি চাষের মৌসুমের শুরুতেই প্রান্তিক চাষীরা হোঁচট থেতে শুরু করেন। এপ্রিল-মে মাসে লকডাউনে হ্যাচারিগুলো বন্ধ থাকায় রেণু-পোনার চরম সংকট দেখা দিয়েছিল। এ ছাড়া চাষীরা স্থানীয় প্রাকৃতিক চিংড়ির পোনাও আশানুরূপ পাননি। এখন তো ঘূর্ণিঝড়ে মাছও গেলো, ধানও গেলো।’

মৎস্য কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে সরকারের উপরের দফতরে পাঠানো হবে। চাষীদের ক্ষতি পোষানোর সাধ্যমতো চেষ্টা করা হবে বলেও জানান তিনি।

তবে বুধবার রাত জেগে ঘের পাহাড়া দিয়েও শেষরক্ষা হয়নি। সব জোয়ারের পানিতে চোখের সামনে তলিয়ে যায়। চড়া সুদে ঋণ নিয়েছিলেন অনেকে। তারাও বলতে পারছেন না কী করে ঋণ শোধ করবেন।

মন্তব্য