জাতীয়

শেখ হাসিনার জন্মদিন ও বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস আজ

2021/09/28/_post_thumb-2021_09_28_22_29_53.jpg

আজ ২৮ সেপ্টেম্বর। ১৯৪৭ সালে আজকের এই দিনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও স্বৈরাচার সরকারের বিতর্কিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জন্মগ্রহণ করেন।  অন্যদিকে প্রতি বছর ২৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস হিসেবে বিশ্বব্যাপী পালিত হয়ে আসছে।

বৈজ্ঞানিক লুইপাস্তুর যিনি সর্ব প্রথম ১৮৮৪ সালে জলাতঙ্ক রোগের টিকা আবিস্কার করে অনাগত ভবিষ্যেতে কোটি কোটি মানুষের জীবন রক্ষার উপায় উদ্ভাবন করে বিশ্বমানবতার জন্য এক অনন্য কল্যাণ সাধন করেছিলেন। এ মহা মনীষীর স্মৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে প্রতি বছর তার মৃত্যু তারিখ ২৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস হিসাবে পালন করা হয়। এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য মরণব্যাধি জলাতঙ্ক রোগ প্রতিরোধে, দেশ বা বিশ্বব্যাপী ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি করা। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় কর্মসূচিটি প্রতিপালন করা হবে। সেজন্য স্বাস্থবিভাগ, প্রাণী সম্পদ ও স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং অন্যান্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা সমূহের সমন্বিত উদ্যোগে দেশব্যাপী সকল বিভাগ ও জেলা শহর এবং উপজেলা পর্যায়ে জনসচেতনতা সৃষ্টিমূলক বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এ দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘জলাতঙ্ক ভয় নয়, সচেতনতায় জয়’।

জলাতঙ্ক প্রাচীনকাল হতে সংঘটিত সর্বাপেক্ষা ভয়ংকর সংক্রামক রোগ, অদ্যাবধি যার কোন চিকিৎসা আবিষ্কৃত হয় নাই এবং মর্মান্তিক মৃত্যুই ইহাতে আক্রান্ত রোগীর অনিবার্য পরিণতি। প্রধানত: কুকুর হতে (৯৫% এর অধিক ক্ষেত্রে) জলাতঙ্ক রোগের সংক্রমণ ঘটে।শিয়াল, বিড়াল, বেজী, বানর এমনকি আক্রান্ত গবাদি প্রাণী হতেও এ রোগ মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীতে সংক্রমিত হতে পারে। জলাতঙ্ক শতভাগ বিপজ্জনক। অপরদিকে ইহা শতভাগ প্রতিরোধযোগ্য। যথাযথ প্রতিরোধ প্রক্রিয়া প্রয়োগ করে প্রায় সকল ক্ষেত্রেই এ ভয়ংকর ব্যাধির সংক্রমণ প্রতিরোধ সম্ভব। কুকুর বা সন্দেহভাজন জলাতঙ্ক গ্রস্থ প্রাণী দ্বারা আক্রান্তের পর রোগীর দেহে সৃষ্ট ক্ষতস্থান যথাশীঘ্র ক্ষারযুক্ত সাবান ও প্রবাহমান পানি দ্বারা ১৫ মিনিট ধৌত করা হলে সেখানে নিপতিত রেবিস ভাইরাস অপসারিত বা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। আর অতিশয় সহজ এ প্রযুক্তি প্রয়োগ করেই প্রায় শতকরা ৮০ ভাগ ক্ষেত্রে এ ভয়ংকর ব্যাধি প্রতিরোধ করা সম্ভব হতে পারে ।

দিবসকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন সরকার, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় সংগঠনের পক্ষ থেকে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

এ কর্মসূচির আওতায় জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে সেমিনার, মুক্ত আলোচনা, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস ২০২১ উপলক্ষে তার বাণীতে বলেছেন, ‘জনসচেতনতা বৃদ্ধি, চিকিৎসা ও টিকা প্রদান, ব্যাপকহারে কুকুরের টিকাদান (এমডিভি), কুকুরের জন্ম নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বাংলাদেশকে জলাতঙ্কের ঝুঁকি থেকে মুক্ত করতে পারি। এক্ষেত্রে সরকারি কার্যক্রমের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা সমূহের কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। আমাদের সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।’

দেশে জলাতঙ্কে মৃত্যুর সংখ্যা কমে এসেছে। গত ১২ বছরে এ মৃত্যু দুই হাজার থেকে কমে ৩০-এ এসেছে।

এদিকে শেখ হাসিনার ৭৫ তম জন্ম দিন পালন করছে আওয়ামীলীগ। তার জন্মদিন উপলক্ষ্যে গণটিকা দান কর্মসূচির আয়োজন করেছে সরকার। ওই দিন সারাদেশে ৮০ লাখ মানুষকে টিকা দেয়া হয়। 

দেশের ১৬ কোটি মানুষ যখন টিকা পাওয়া না পাওয়ার অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে তখন টিকা নিয়ে আরেক নোংরা খেলায় মেতে উঠেছে শেখ হাসিনার দলের নেতাকর্মীরা। রাষ্ট্রের টাকায় কেনা জনগণের এই টিকা দিয়ে উৎসব এ নিয়ে চলছে তুমুল সমালোচনা।

অনেকেই প্রশ্ন তুলেছে, প্রবাসীরা টিকা পাচ্ছে না, মানুষ প্রথম ডোজ দিয়ে দ্বিতীয় ডোজ পাচ্ছে না। আর শেখ হাসিনার জন্মদিনের উৎসব করার জন্য টিাকা মজুদ করে রেখেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালায়! জনগণের করের টাকায় কেনা টিকা দিয়ে শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন কেন?

বিশ্লেষকরা বলছেন, যত অদ্ভুত কর্মকাণ্ড আছে সবই চলছে বাংলাদেশে। সহজ কথায় বললে-বাংলাদেশ বর্তমানে একটি অদ্ভুত দেশে পরিণত হয়েছে। এখানে কোনো নিয়ম-কানুন নেই। সরকার যখন যা খুশি তাই করছে। ইচ্ছেমত দেশ চালাচ্ছে। আর বর্তমানে বাংলাদেশে সরকার বা রাষ্ট্রের মালিকানা বলতে কিছু নাই। রাষ্ট্রের সবই এখন আওয়ামী লীগের দখলে। অবৈধভাবে ক্ষমতা ভোগ আর ক্ষমতার অপব্যবহার করতে করতে আওয়ামী লীগই এখন রাষ্ট্রের মালিক হয়ে গেছে। দেশটা এখন রাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী চলছে না, চলছে আওয়ামী লীগের অলিখিত সংবিধান অনুযায়ী।

তারা বলছেন, করোনা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে সরকার এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত টিকা সংগ্রহ করতে পারেনি। টিকা সংগ্রহের তালিকায় বাংলাদেশের নাম একবারে তলানিতে। প্রথম ডোজ টিকা নেয়ার পর এখনো দেড় কোটি মানুষ দ্বিতীয় ডোজ টিকা পাচ্ছে না। এরপর টিকার জন্য নিবন্ধন করে রাখা প্রায় দুই কোটি মানুষ প্রতিনিয়ত টিকার জন্য অপেক্ষার প্রহর গুনছেন। তারা আদৌ টিকা পাবেন কি না সেটার কোনো নিশ্চয়তা নাই।

মন্তব্য