প্রচ্ছদ

‘‘একে মেয়র বলে? এ রক্ত চুষে চুষে খাচ্ছে, এর কাজ চেয়ারে বসে বসে টাকা গোনা’’

2021/09/30/_post_thumb-2021_09_30_06_16_05.jpg

চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদে নালায় পড়ে সেহেরীন মাহবুব সাদিয়া (১৯) নামে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর মৃত্যুতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীকে দুষছে তার পরিবার।

বুধবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রশাসক এবং চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন দেখা করতে গেলে মেয়রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে তার পরিবার।

নিহত সেহেরীন মাহবুব সাদিয়ার আত্মীয় ওয়াসিম জানান, সাদিয়ার ফুফু রোকসানা বেগম এ সময় আহাজারি করে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সাদিয়ার মা সেলিনা আকতার এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

খোরশেদ আলম সুজনের ওই সাক্ষাতের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে সাদিয়ার ফুফু রোকসানা বেগমকে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ক্ষোভ প্রকাশ করতে শোনা যায়। তিনি বর্তমান মেয়রের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করেন।

একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘‘সিঙ্গাপুর বানাদ্দে, ইবা সিঙ্গাপুর নে, ...রক্ত চুষি চুষি হাদ্দে, ইবা মেয়র নে, ইবা রক্ত চুষি চুষি হাদ্দে, ইবা হাম চেয়ারত বই বই টিয়া...। ( সিঙ্গাপুর বানায়? এটা সিঙ্গাপুরের নমুনা? ...চুষে চুষে খাচ্ছে, একে মেয়র বলে? এ রক্ত চুষে চুষে খাচ্ছে, এর কাজ চেয়ারে বসে বসে টাকা গোনা)’’।

ওয়াসিম এ ভিডিওর সত্যতা নিশ্চিত করেন।

এ দিকে এ সাক্ষাতের বিষয়ে এক সংবাদ বিবৃতিতে খোরশেদ আলম সুজনের পক্ষ থেকে বলা হয়, বুধবার বেলা ১১টায় নালায় তলিয়ে গিয়ে অকালে প্রাণ হারানো মেধাবী শিক্ষার্থী সেহেরীন মাহবুব সাদিয়ার বাসায় তার পরিবারবর্গকে সমবেদনা জানাতে সেখানে যান তিনি।

বিবৃতিতে বলা হয়, সুজন সমবেদনা জানাতে সেহেরীন মাহবুব সাদিয়ার বাসায় পৌঁছালে তার স্বজনরা সেখানে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

বিবৃতিতে সুজন বলেন, আউটার সিটি রিং রোড, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, নদীর তলদেশে টানেল, বে-টার্মিনাল, ওয়াসার পানি সরবরাহ প্রকল্প ছাড়াও বিভিন্ন সেবা সংস্থার মাধ্যমে চট্টগ্রামে হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে। প্রকল্পগুলো পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হলে সব দিক থেকে চট্টগ্রামের গুরুত্ব অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেখা যাচ্ছে যে সংস্থাসমূহের অদক্ষতা এবং উদাসীনতার কারণে জনভোগান্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের উন্নয়নের কারণে দেওয়ানহাট থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত চট্টগ্রামের প্রধান সড়কটি খানাখন্দে পরিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। নির্মাণকাজ করতে গিয়ে ওই সড়কে অসংখ্য ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হলে রাস্তার দুই পাশে পানি জমে কর্দমাক্ত হয় আবার শুষ্ক মৌসুমে ধূলিঝড়ে একাকার হয়ে পড়ে পুরো এলাকা। এই এলাকার মানুষের একটুকু স্বস্তির যাতায়াত কিংবা বসবাস যেন স্বপ্নের মতো। প্রতিদিন ছোট খাটো দুর্ঘটনা যেন ওই রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী জনগণের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। মানুষ এ অবস্থা থেকে মুক্তি চায়।

নিখোঁজের প্রায় ৫ ঘণ্টা পর অভিযান চালিয়ে সোমবার রাত ৩টার দিকে ওই ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস। এদিন রাত ১০টার দিকে আগ্রাবাদ শেখ মুজিব সড়কে জেক্স মার্কেটের সামনে পা পিছলে নালায় পড়ে নিখোঁজ হন আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে প্রথম বর্ষে পড়ুয়া এ ছাত্রী।

তিনি সাদিয়া হালিশহর থানার বড়পোল এলাকার প্রবাসী মোহাম্মদ আলীর মেয়ে।

মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর আগ্রাবাদে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী।

মেয়র সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখানে সিডিএর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ চলছে। রাস্তায় গর্ত হয়েছে। ফুটপাতের ওপর কাদা জমেছে। বৃষ্টির পর সেই কাদা পিচ্ছিল হয়ে গিয়েছিল। কাদার ওপর পা পড়ার পর পিছলে মেয়েটি নালায় পড়ে গেছে বলে শুনেছি। এখানে যারা প্রকল্পের কাজ করছে, তাদের সতর্ক হওয়া দরকার ছিল। পানিতে রাস্তা এবং নালা এক হয়ে গেছে, মানুষ বুঝবে কীভাবে? খুঁটি গেড়ে লাল পতাকা টানিয়ে দিলেও তো মানুষ সতর্ক হতে পারত। কিছুটা অবহেলা আছে। অবশ্যই আছে। যারা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ করছে তাদের অবহেলা আছে।’

তবে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-সিডিএ বলছে, খালের মালিকানা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের। তাই খালের মুখে সুরক্ষা নিশ্চিতের দায়িত্বও তাদের।

সিডিএর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান বলেন, এটা ওদের (সিসিসি) খাল। খালটা অনেক আগে থেকেই ওপেন ছিল। সেটা সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব। তারা যদি খালের ওপর স্ল্যাব না দেয় আমরা কী করব?

ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক ফারুক হোসেন সিকদার বলেন, সড়কের পাশে থাকা ফুটপাতের নিচে বড় নালা। এ নালার ওপর কোনো স্ল্যাব ছিল না। চলমান এলিভেটেড এক্সপ্রেস নির্মাণকাজের কারণে ওই সড়কে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। স্ল্যাব না থাকায় নালা নাকি গর্ত বোঝা যায়নি। হাঁটতে গিয়ে হঠাৎ করে নালায় পড়ে গিয়েছিল মেয়েটি। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরি ও একটি স্পেশাল দলসহ মোট চারটি টিম প্রায় ৫ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে নিখোঁজ স্থানের ৩০ গজ দূরে মেয়েটি মরদেহ উদ্ধার করে।

সূত্র: দেশ রূপান্তর

মন্তব্য