মতামত

অমুসলিম মনীষীদের দৃষ্টিতে বিশ্বনবী সা:

2021/10/17/_post_thumb-2021_10_17_01_08_27.jpg

তৈমূর আলম খন্দকার

আকায়ে নামদার তাজেদারে মদিনা আহমদ মুস্তফা মুহাম্মদ মুস্তফা হজরত মুহাম্মাদ সা: রবিউল আউয়াল মাসেই পৃথিবীতে আগমন করেন বিশ্ব মানবতার মুক্তির দূত হিসেবে। আরব মরুভ‚মিতে যখন এই মহান ব্যক্তিত্বের আগমন ঘটে, তখন অত্যাচার, অবিচার, নির্যাতন, নিপীড়ন, যৌনাচার, অশ্লীলতা, বেহায়াপনা প্রভৃতিতে ছিল পরিপূর্ণ; বর্তমানে পৃথিবীতে সে অবস্থা চলমান রয়েছে। শোষণ, জুলুম, সুদ, মেয়ে মেয়েকে জীবিত কবর দেয়া এবং নারীদের পণ্য হিসেবে ব্যবহারের রীতিসহ সর্বত্রই চলছিল বিচারহীনতার সংস্কৃতি। এ অপসংস্কৃতি পৃথিবীতে এখন প্রকট আকার ধারণ করেছে। ফলে কুরআন শরিফের বক্তব্য মতে, মানুষ অমানবিক, অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ায় পৃথিবী থেকে শান্তি চলে গেছে, সুখ স্বাচ্ছন্দ্যের পরিবর্তে শুরু হয়েছে মহামারী, অতিমারীসহ নানাবিধ প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট বিপর্যয়। এ বিপর্যয় থেকে বাঁচার একমাত্র পথ হজরত মুহাম্মাদ সা:-এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তারই নির্দেশিত পথে সমাজ ও ব্যক্তি চরিত্র গঠন করা।

মুসলিম সমাজও নবী করিম সা: আদর্শিক পথ থেকে সরে যাওয়াতেই পৃথিবীব্যাপী তাদের এ বিপর্যয়। তার সম্পর্কে অমুসলিম মনীষী ও দার্শনিকরা যে মন্তব্য করেছেন কিছুটা নিম্নে উল্লেখ করা হলো :

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে ১৯৩৬ সালে ২৭ ফেব্রুয়ারি নয়াদিল্লি জামে মসজিদ থেকে প্রকাশিত পত্রিকায় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ শুভেচ্ছা বাণীতে হজরত মুহাম্মাদ সা:-এর সম্পর্কে বলেন : ‘যিনি বিশ্বের মহত্তমদের মধ্যে অন্যতম, সেই পবিত্র পয়গম্বর হজরত মুহাম্মাদ সা:-এর উদ্দেশে আমি আমার অন্তরের গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করি। মানুষের ইতিহাসে এক নতুন সম্ভবনাময় জীবনশক্তির সঞ্চার করেছিলেন হজরত মুহাম্মাদ সা:। পয়গম্বর এনেছিলেন নিখাদ, শুদ্ধ ধর্মাচরণের আদর্শ। সর্বান্তকরণে প্রার্থনা করি, পবিত্র পয়গম্বরের প্রদর্শিত পথ যারা অনুসরণ করেছেন, আধুনিক ভারতবর্ষের সুসভ্য ইতিহাস রচনা করে তারা যেন জীবন সম্পর্কে তাদের গভীর শ্রদ্ধা এবং পয়গম্বরের প্রদত্ত শিক্ষাকে যথাযথভাবে মর্যাদা দেন। তারা যেন এমনভাবে ইতিহাসকে গড়ে তোলেন, যাতে আমাদের জাতীয় জীবনে শান্তি ও পারস্পরিক শুভেচ্ছার বাতাবরণটি অটুট থেকে যায়।’

জগৎগুরু মুহাম্মাদ সা: (দ্বিতীয় খণ্ড) বইয়ের উল্লিখিত তথ্যমতে হজরত মুহাম্মদ সা: সম্পর্কে বিভিন্ন অমুসলিম মনীষীর মন্তব্য নিম্নে তুলে ধরা হলো :

পাশ্চাত্য চিন্তাবিদ জর্জ বার্নাড শ বলেছেন, ‘মধ্যযুগের কতিপয় গণ্ডমূর্খ ধর্মোন্মাদ, ইসলাম ধর্মের বীভৎস রূপ পেশ করেছেন। এতেও ক্ষান্ত না হয়ে তারা ইসলামের নবী হজরত মুহাম্মদ সা:-এর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক আন্দোলন করেছেন; তারা মুহাম্মদ সা:-কে মার্জিত ভাষায় প্রকাশ করেননি। আমি তাদের সব উক্তি গভীরভাবে অনুধাবন করে এ সিদ্ধান্তে উপনীত হলাম যে, মুহাম্মদ সা: এক মহান ব্যক্তিত্ব, যিনি সঠিক অর্থে মানবতার মুক্তিদাতা।’

আরবি পত্রিকা ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদ’ এ প্রসিদ্ধ অমুসলিম বিশেষজ্ঞ ও কমিউনিজমের উদগাতা কার্ল মার্কসের একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। এর একাংশে কার্ল মার্কস বলেছেন, ‘এই ট্যাক্স (জাকাত) একটি ধর্মীয় কর্তব্য, এটি আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অবশ্য করণীয়। ধর্মীয় দিক ছাড়াও জাকাত একটি প্রাণবন্ত দৃঢ় সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলার হাতিয়ার। এটিই মুহাম্মদী রাষ্ট্রের কোষাগার। এর দ্বারা অভাবী, গরিব ও দুস্থদের সাহায্য করা হয়। ইতিহাসের এ বিরল পদ্ধতি সর্বপ্রথম ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেছে। জাকাত এমন এক ধরনের ট্যাক্স, যা ধনী সম্পদশালী বিত্তবান ও ব্যবসায়ীদের থেকে বাধ্যতামূলভাবে আদায় করে ইসলামী রাষ্ট্রের অক্ষম, প্রতিবন্ধী, এতিম, নিঃস্ব ও অনাথদের মধ্যে বণ্টন করে থাকে। এ পদ্ধতির মাধ্যমে রাষ্ট্রের নাগরিকদের মধ্যে বিদ্যমান যাবতীয় বিরোধপূর্ণ দেয়াল চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়। এ পদ্ধতির আওতায় সমগ্র জাতি একটি ন্যায় ও ইনসাফপূর্ণ নীতির অন্তর্ভুক্ত হয়। জাকাতের মাধ্যমে সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠার পেছনে কখনো পারস্পরিক শক্রতা অথবা বিদ্বেষ ছিল না। এর ন্যায়সঙ্গত ইনসাফপূর্ণ পদ্ধতি যে নবীর মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে তিনি ছিলেন বিশ্বশান্তির অগ্রদূত।’

মার্কস আরো বলেছেন, হজরত মুহাম্মাদ সা:-এর মাধ্যমে মুসলমানদের যে শিক্ষা দেয়া হয়েছে এর ভিত্তিতে তারা বিশ্বস্রষ্টা ছাড়া অপর কাউকে তাদের নেতা মানে না। মুসলমানরা স্বাধীনতার মহান শিখরে প্রতিষ্ঠিত। যদি ইসলামী স্বাধীনতাকে ইউরোপের উন্নততর স্বাধীনতার সাথে তুলনা করা হয় তবে ইউরোপের উন্নততর স্বাধীনতাকে অত্যাচার ও প্রহসন মনে হবে।’

বিশ্ববিখ্যাত ইহুদি পণ্ডিত, ঐতিহাসিক পি কে হিট্টি বলেছেন, ‘বিশ্বের নবীদের মধ্যে শুধু মুহাম্মাদ সা:-ই একমাত্র নবী যিনি ইতিহাসের পূর্ণ আলোতে জন্ম নিয়েছেন, অর্থাৎ তার সমগ্র জীবন কথা, কাজ ও সমুদয় অবস্থা অবিকল অপরিবর্তিত অবস্থায় অবশিষ্ট রয়েছে। তিনি পৃথিবীতে এমন এক ঐশী ধর্ম পেশ করেছেন, যাতে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা। তাঁর প্রচেষ্টায় এমন একটি উন্নত সংগঠন অস্তিত্ব লাভ করল যাদের ‘আল্লাহর দল’ বলা হয়। এ সংগঠনের অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি সদস্য স্বীয় গোত্র, বংশ, পরিবার ও প্রাচীন সম্পর্ক ভুলে গিয়ে পরস্পর ভাই ভাইয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে গেল। এভাবে তাঁরা গোত্র ও সাম্প্রদায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করে দিলো এবং বর্তমান বিশ্বের এ ষষ্ঠাংশ অধিবাসী পবিত্র সম্পর্কের কারণে এক আত্মা ও অস্তিত্বে পরিণত হয়েছে।’

ব্রিটিশ লেখক বেনথাম বলেছেন, ‘মুহাম্মাদ রাসূলুল্লাহ সা:-এর ধর্মে সব নেশাজাতীয় মাদকদ্রব্য হারাম ঘোষিত হয়েছে। এটিই তাঁর পবিত্র ধর্মের পবিত্রতার দলিল। এ কারণেই তিনি সবচেয়ে বেশি প্রশংসাযোগ্য।’

ইংরেজ পাদ্রি আইজ্যাক টেইলর তার এক নিবন্ধে লিখেছেন, ‘শুধু ইসলাম ধর্মেরই এ বিশেষত্ব যে, মানুষের জীবনের সামগ্রিক অধিকারে জাতির প্রত্যেকটি ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং সঠিক সাম্যের বাস্তব রূপ দিয়েছে। বিভিন্ন বর্ণ ও বংশের মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে যে সমঝোতা ও সহানুভ‚তি ইসলামের সূচনালগ্নে সৃষ্টি করেছে, পৃথিবীর অমুসলিম সম্প্রদায় তাদের শেষ যুগেও এমন নমুনা পেশ করতে ব্যর্থ হয়েছে। ইসলাম কেবল পরস্পরবিরোধী বিভিন্ন বর্র্ণ ও বংশের মানুষের মধ্যে অধিকারে সমতা বিধান করে তাদের মধ্যে একতা প্রতিষ্ঠা করেছে, তা নয়; বরং বলা যায়, ইসলাম এতে সফল হয়েছে। আফ্রিকা, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, চীন, জাপান, রাশিয়া ও অন্যান্য দেশে ছোট-বড় সম্প্রদায়ের মধ্যে একতা, সাম্য ও সমঝোতার কোনো পথ ছিল না। একমাত্র ইসলামই তাদের সঙ্ঘবদ্ধ করে সবাইকে ভাই ভাইয়ের বন্ধনে দাঁড় করিয়েছে। এসব কিছু ইসলামের নবী মুহাম্মাদ সা:-এর আদর্শ ও মহত্বের বড় প্রমাণ, যা অস্বীকার করার কোনো পথ নেই।’

বিখ্যাত অমুসলিম মনীষী লিউ দারবিজ লিখেছেন, ‘ইসলাম মানবতার স্বভাবজাত একটি অর্থনৈতিক, সাহিত্য, সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও সভ্যতার ধর্ম। যখনই আমরা মানব রচিত আইনের প্রতি দৃষ্টিপাত করি, তখনই দেখতে পাই, তা আগে থেকেই ইসলামে বিদ্যমান রয়েছে। অধিকন্তু আমি এটিও অবহিত হয়েছি যে, প্রসিদ্ধ আইনবিদ জন সেমবল যে আইনশাস্ত্র রচনা করেছেন ‘স্বভাবজাত বিধান’ নাম দিয়ে, তার সব আইন ধারা ও ধারণাগুলো ইসলাম থেকে নিয়েছেন। যখন মুসলমানদের অন্তরে ওই ধর্মের প্রভাব সম্পর্কে অবহিত হলাম তখন জানতে পারলাম, তাদের অন্তর ইসলামের বরকতে বীরত্ব, ঔদার্য্য, সহিষ্ণুতা, নম্রতা, কল্যাণকামিতা, সৌন্দর্য, নেকী, সততা, সহমর্মিতা, বিনয়, দানশীলতা প্রভৃতি বহুবিধ গুণে সমৃদ্ধ। আর সব কিছু মুহাম্মাদ সা:-এর শিক্ষার কারণে।’

এডমন্ডওয়ার্ক লিখেছেন, ‘মুহাম্মাদী বিধান রাষ্ট্রপতি থেকে একজন সাধারণ নাগরিক পর্যন্ত সব মানুষের জন্য একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা; যার বুনিয়াদ অত্যন্ত সুদৃঢ় ও সাংবিধানিক, সত্য জ্ঞানের প্রচারক হজরত মুহাম্মাদ সা:-এর ওপর প্রতিষ্ঠিত। না এর দৃষ্টান্ত এর আগে মিলেছে, না পরে কখনো মিলবে।’

বিখ্যাত অমুসলিম লেখক গিবন লিখেছেন, ‘মুহাম্মাদী শরিয়তে ব্যাপকতা বিদ্যমান। বিশ্বের বড় বড় সম্রাট ও গরিব জনসাধারণের সবাই একইভাবে তার সামনে মস্তক অবনত করে থাকে। এ বিধান অত্যন্ত মজবুত ও সুদৃঢ় মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। সারা বিশ্বে আদম হতে কিয়ামত পর্যন্ত তার সমকক্ষ বিধান রচিত হওয়া অসম্ভব।’

মার্কিন জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও সাহিত্যিক মাইকেল হার্ট তার ‘দি হানড্রেড’ (১৯৭৮) গ্রন্থে বলেছেন, ‘মুহাম্মাদকে বিশ্বের সর্বাধিক ও প্রভাববিস্তারকারী মনীষীদের তালিকার শীর্ষে আমি স্থান দিয়েছি, এতে কেউ কেউ এ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন। কিন্তু মানবজাতির সমগ্র ইতিহাসে তিনিই একমাত্র ব্যক্তিত্ব যিনি ধর্মীয় ও ধর্মবহির্ভূত উভয় ক্ষেত্রে একযোগে বিপুলভাবে ও সর্বাধিক সফলকাম হয়েছেন। মাইকেল হার্ট অমুসলিম স্কলারদের এক বিরল সমন্বয় ও দীর্ঘ তালিকা করে ‘দি হানড্রেড’ শত মনীষী নামক যে বই লিখেছেন তাতে মহানবী সা:-কে সর্বাগ্রে উল্লেখ করেন। অসংখ্য লোক তাকে এ ক্রমিক নম্বর পরিবর্তন করতে বলেছে। কিন্তু তিনি সবাইকে এ কথা বলেন, ‘তার চেয়ে উত্তম অন্য কারো নাম পেশ করুন, তা হলে ক্রমিক নম্বর পরিবর্তন করে দিব।’

মরিস গডফ্রে তার ‘মুসলিম ইনস্টিটিউশন’ গ্রন্থে বলেছেন, ‘মুহাম্মাদ একজন রাসূল ছিলেন, কোনো ধর্মবেত্তা ছিলেন না। এটি যেকোনো নিরপেক্ষ মানুষের কাছেও সুস্পষ্ট। প্রাথমিক মুসলমানদের যে সভ্যসমাজ তাঁকে ঘিরে গড়ে উঠেছিল, তাঁরা তাঁর আইন ও দৃষ্টান্ত পালন করে সন্তুষ্ট ছিলেন।’


এডওয়ার্ড মুনন্ট জেনেভা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন স্বনামধন্য অধ্যাপক। নবী সা:-কে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘চরিত্র গঠন ও সমাজ সংস্কার ক্ষেত্রে তিনি যে সাফল্য অর্জন করেছেন, সে প্রেক্ষাপটে তাঁকে মানবতার মহান দরদি বলে বিশ্বাস করতেই হয়।’

ইংরেজ কবি জন কিটস (মৃত্যু : ১৮২২) বলেন, ‘পৃথিবীর যা কিছু মঙ্গলময়, যা কিছু মহৎ ও সুন্দর সবই নবী মুহাম্মাদ। তাঁর তুলনা শুধু তিনি নিজেই।’

অন্যতম ইসলামী চিন্তাবিদ শায়খুল উবুদিয়া ইমাম সাইয়েদ মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ ইবনে আবদুহু আল-হোসাইনি প্রণীত ‘জগৎগুরু মুহাম্মাদ সা: দ্বিতীয় খণ্ড’ বই থেকে হজরত মুহাম্মাদ সা: সম্পর্কে ওই তথ্য উল্লেখ করা হলো। মূল লেখকের প্রতি রইল অকৃত্রিম শ্রদ্ধা; কারণ অমুসলিম মনীষী ও চিন্তাবিদরা নবী করিম সা:-কে যে পর্যায়ে মূল্যায়ন করেন, তা থেকে প্রতিটি মুসলমানের অনুপ্রাণিত হওয়া দরকার। নতুবা অশান্তি বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাওয়ার আমাদের কোনো সম্ভাবনা নেই। শেষ নবী পৃথিবীতে আর ফিরে আসবেন না, কিন্তু তার রেখে যাওয়া আদর্শের প্রতিটি ধূলিকণা হোক আমাদের যাত্রাপথের পাথেয়।


লেখক : রাজনীতিক, কলামিস্ট ও আইনজীবী (অ্যাপিলেট ডিভিশন)

[email protected]

মন্তব্য