অন্যান্য

চাকরির প্রলোভনে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন চট্টগ্রামের আ.লীগ নেত্রী

2022/03/13/_post_thumb-2022_03_13_17_33_25.jpg

১০ বছর ধরে কখনো ব্যাংকে, কখনো সিটি করপোরেশনে, আবার কখনো সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে বেকার তরুণ-তরুণীদের চাকরি দেন বলে প্রচার করেছেন তিনি। চাকরি ভেদে তিনি অগ্রিম দুই থেকে ছয় লাখ টাকা পর্যন্ত নগদ নিয়েছেন। বিশ্বাস অর্জনের জন্য কাউকে কাউকে নগদ টাকার বিপরীতে নিজের কিংবা তাঁর প্রতিষ্ঠানের নামে চেকও দিয়ে রেখেছেন।

এমন অভিযোগ চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক  এবং বৌদ্ধ ধর্ম কল্যাণ ট্রাস্টের কোষাধ্যক্ষ ববিতা বড়ুয়ার বিরুদ্ধে। নিজেকে দৈনিক মুক্তবাণী নামে পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক বলেও পরিচয় দিতেন। যুক্ত ছিলেন সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও। এত সব পদ–পদবি ব্যবহার করে তিনি লোকজনের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন বলে অভিযোগ। বেকার তরুণ-তরুণীদের অভিযোগ, চাকরি দেওয়ার নাম করে বিভিন্ন নারী-পুরুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এই আওয়ামী লীগ নেত্রী। চেক প্রতারণা মামলায় ববিতা বড়ুয়াকে গত কয়েক দিন আগে পুলিশ গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে। 


গ্রেপ্তার হওয়ার পর ববিতা বড়ুয়ার বিরুদ্ধে প্রতারণার নানা অভিযোগ এখন বের হয়ে আসছে। নগরের দেওয়ানহাটের বাসিন্দা শাওন চৌধুরী নামে এক তরুণকে সিটি করপোরেশনে চাকরি দেবেন বলে টাকা নেন ববিতা বড়ুয়া। চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে পাস করা এই তরুণের অভিযোগ, সিটি করপোরেশনের সহকারী প্রকৌশলী পদে দুই মাসের মধ্যে চাকরি দেওয়ার কথা বলে তাঁর কাছ থেকে ববিতা প্রথমে দুই লাখ টাকা নেন। এরপর ধাপে ধাপে আরও দুই লাখ তিন হাজার টাকা নেন। একই সময়ে করপোরেশনে অফিস সহকারী পদে চাকরি দেবেন বলে শাওনের এক বন্ধুর বোনের কাছ থেকে নেন দুই লাখ টাকা।


এ বিষয়ে শাওন চৌধুরী বলেন, ‘দুই মাসের মধ্যে আমাকে চাকরি দিয়ে দিচ্ছেন বলে জানান ববিতা বড়ুয়া। মোট চার লাখ তিন হাজার টাকা নেন আমার কাছ থেকে। কিন্তু চাকরি হয়নি। আমার বন্ধুর বোনের কাছ থেকে নেন দুই লাখ টাকা। জিজ্ঞেস করলে বলেন চাকরি হয়ে যাবে। কিন্তু হয়নি। এরপর আমাদের চেক দেওয়া হয়, যেন মামলা না করি। চেক ব্যাংকে দেওয়ার জন্য আমাদের নিষেধ করা হয়। অঙ্গীকার করেন টাকা ফেরত দেবেন বলে। কিন্তু টাকা আর ফেরত দেননি। পরে ২০১৭ সালে চেক ব্যাংকে দিলে তা ডিজঅনার হয়। এরপর মামলা করি।’


২০১৮ সালে শাওনদের চেক প্রতারণা মামলা হয় আদালতে। মামলা হওয়ার পর তাঁদের ববিতা হুমকি দেন বলে অভিযোগ। পরে এ বছরের জানুয়ারিতে ওই মামলায় সাজা হয় ববিতার। কয়েক বছর আগে একটি শিল্প গ্রুপের বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি দেওয়ার নাম করে সাত নারী-পুরুষের কাছ থেকে তিনি ২০ লাখ টাকার বেশি আদায় করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই সাতজনকে টাকার বিপরীতে নিশ্চয়তাস্বরূপ ববিতা নিজে চেকও দিয়েছেন।


তাঁদের একজন সুমন বড়ুয়া বলেন, ‘আমি চার লাখ টাকা দিয়েছি ২০২০ সালে। পরে চাকরি না হওয়ায় তিনটি চেক দেওয়া হয়েছে। গত বছর টাকা ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও এখনো দেননি।’

ববিতা বড়ুয়া এখন কারাগারে। জানতে চাইলে ববিতার স্বামী অরুণ বড়ুয়া বলেন, চেক ডিজঅনারের মামলায় তিনি কারাগারে রয়েছেন। আশা করছেন দ্রুত ববিতা মুক্তি পাবেন। পাওনাদারদের টাকা আস্তে আস্তে দিয়ে দেবেন বলে জানান তিনি। দক্ষিণ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চেমন আরা তৈয়ব বলেন, ববিতা আদালতের রায়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন তা পত্রিকায় দেখেছেন। কিন্তু তিনি দলীয় পদ–পদবি ব্যবহার করে এই প্রতারণা করেছেন কি না তা তাঁর জানা নেই। তবে এই ঘটনার পর তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কেন্দ্রকে জানাবেন।

মন্তব্য