প্রচ্ছদ

বন্যায় মহাবিপর্যয়ের মধ্যেই চলছে পদ্মা সেতু মহোৎসবের আয়োজন

2022/06/20/_post_thumb-2022_06_20_06_03_42.jpg

পদ্মা সেতুর উদ্বোধন নিয়ে শত কোটি টাকার আয়োজন অব্যাহত থাকলেও স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় আক্রান্ত দুই জেলার ৫০ লাখের বেশি মানুষের জন্য এপর্যন্ত বরাদ্দ মাত্র ৬০ লাখ টাকা। সঙ্গে ১২ হাজার ৯০০ প্যাকেট শুকনা খাবার।

একদিকে বন্যা দুর্গত এলাকার মানুষের আহাজারি। আরেক দিকে চলছে জনগণের শতকোটি টাকা ব্যায়ে আনন্দ ফুর্তি করার প্রস্তুতি। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সঙ্কটে ইতোমধ্যেই মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে দুর্গত এলাকায়। সরকারের এসব দেখার ফুসরত নেই। বন্যা দুর্গত মানুষের চেয়ে পদ্মা সেতুর উৎসব হচ্ছে সরকারের কাছে বড়।

এদিকে বন্যা দুর্গত জেলা গুলোর প্রত্যন্ত অঞ্চলের পাশাপাশি নগরীর আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতেও খাবার জুটছে না অনেকের। আশ্রয়কেন্দ্রে পৌছাতে পারলেও খাবার নেই। অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন অনেক মানুষ। এমন অবস্থায় অনেক এলাকার জনপ্রতিনিধিদেরও দেখা মিলছে না।

সরকারি হিসাবে সুনামগঞ্জ ও সিলেট দুই জেলা মিলে এপর্যন্ত ত্রাণ দেওয়া হয়েছে মাত্র ৬০ লাখ টাকা এবং ১২হাজার ৯০০ প্যাকেট শুকনা খাবার। এরমধ্যে সিলেটে ৪০ লাখ এবং সুনামগঞ্জে ২০ লাখ টাকা। সরকারি বয়ানে বন্যায় সহায়তার এই হিসাবই বলে দেয় দুই জেলার ৫০ লাখের বেশি দুর্গত মানুষ কতটা অসহায় অবস্থায় রয়েছে।

জেলা দুটিতে ভয়াবহ বন্যায় প্রায় সব বাড়িঘরে পানি ঢুকেছে। কোথাও একতলা পর্যন্ত ডুবে যাওয়ায় বিভিন্ন স্কুল-কলেজে দোতালায় আশ্রয় নিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। সময় যতোই গড়িয়ে যাচ্ছে, ততোই উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বাড়ীহারা বানভাসিদের সংখ্যা। বেশিরভাগ মানুষের ঘরের খাবার ফুরিয়ে গেছে। এরই মাঝে দিনভর মুষলধারে বৃষ্টিতে মানুষের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি থাকার পরও সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। কাছে কিংবা দূর দূরান্তে আটকে পড়াদের উদ্ধারে সরকারি তৎপরতাও তেমন দৃশ্যমান নয় বলে জানা গেছে। এমন অবস্থায় ভয়াবহ শঙ্কার মধ্যে আছেন বানভাসি মানুষেরা।

এরমধ্যেই বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র থেকে পাওয়া যাচ্ছে আরো ভয়াবহ খবর। পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী সিলেট-সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনার পাশাপাশি আরো বেশ কয়েকটি জেলায় বন্যা ছড়িয়ে পড়বে আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে। সিলেট-সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটবে বলেই পূর্বাভাস দিয়েছে তথ্যকেন্দ্র। বৃষ্টির পানি বাড়ায় শনিবার পর্যন্ত সুনামগঞ্জের প্রায় ৯০ শতাংশ ও সিলেটের ৬৫ শতাংশের বেশি এলাকা ইতোমধ্যেই প্লাবিত হয়েছে। ডুবতে বসেছে সুনামগঞ্জের পাশের জেলা নেত্রকোনাও।

নগরের বাইরে সিলেট জেলায় সাড়ে ৪শ আশ্রয় কেন্দ্রে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন বন্যার্তরা। অনেক আশ্রয় কেন্দ্রে গবাদি পশু ও মানুষ এক সঙ্গে বসবাস করছে। উজানের ঢল অব্যাহত থাকার কারণে অনেকেই আশ্রয় কেন্দ্রে পৌছাতে পারছে না।

সিলেট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আমরা সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর এলাকার আশ্রয় কেন্দ্রে শুকনো খাবার পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করছি। থানা এবং জেলা পুলিশের সদস্যরা নৌকাযোগে আশ্রয় কেন্দ্রে গিয়ে খাবার পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করছেন।

তবে প্রয়োজনের তুলনায় সেটা খুবই কম বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। সরকারি সাহায্যের সামান্য শুকনা খাবার দিয়েই কোন রকমের জীবন রক্ষা করার চেষ্টা করছেন অনেকে। বেসরকারি অনেক ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠান সাহায্য নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও পারছে না বৃষ্টি এবং পানির স্রোতের কারণে। এছাড়া বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক ধনী পরিবারেও খাবারের সঙ্কট তৈরি হয়েছে। যারা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে এগিয়ে যাবেন তারা নিজেরাও বন্যায় আক্রান্ত হয়ে দিশেহারা।

সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মুহম্মদ মোশাররফ হোসেন শুক্রবারের জানিয়েছিলেন যে, ২ জেলার অন্তত ৩৫ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। প্লাবিত বিস্তীর্ণ এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ না থাকায় অন্ধকারের সঙ্গেও লড়তে হচ্ছে তাদের।

সুনামগঞ্জের জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম জানান, শনিবার পর্যন্ত এখানে ত্রাণ হিসেবে নগদ ২০ লাখ টাকা ও ৫ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ১৫ হাজার মানুষকে রান্না করা খিচুড়ি খাওয়ানো হয়েছে।


এদিকে সিলেট জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার আহসানুল আলম জানান, শনিবার পর্যন্ত সিলেটের জন্য নগদ ৪২ লাখ টাকা, ৭ হাজার ৯০০ প্যাকেট শুকনা খাবার ও ৬১২ টন চাল দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য