শিক্ষাঙ্গন

নামাজ-বোরখা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নয় : বিশ্ববিদ্যালয় ডিন রওশন

2022/09/26/_post_thumb-2022_09_26_16_08_02.jpg

োরখা-নামাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নয় বলে মন্তব্যের অভিযোগ উঠেছে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ডিন রওশন ইয়াজদানী বিরুদ্ধে।


তোমরা বোরখা পরিধান করবে, নামাজ পড়বে তোমাদের জন্য তো বিশ্ববিদ্যালয় নয়। তোমরা মাদরাসায় ভর্তি না হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছ কেন? এখানে এগুলো চলবে না। ধর্ম পালন বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের বাইরে রেখে আসবে নয়তো বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না বলে সর্তক করে দেন ইংরেজি ১ম বর্ষের ১ম সেমিস্টারের শিক্ষার্থীদের।


গতকাল (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টায় শিডিউল অনুযায়ী ডিন রওশন ইয়াজদানীর ১ম বর্ষের ক্লাস ছিল। অভ্যাসগত কারণে দেড়টা বেজে গেলেও ক্লাসে না আসায় চারজন ছাত্রী নামাজ পড়ার জন্য ইংরেজি বিভাগের পেছনে অবস্থিত শেখ হাসিনা হলে যোহরের নামাজ পড়তে যান। নামাজ পড়ে আসার পর তারা ক্লাসে ডিনকে দেখতে পান। ক্লাসে ঢুকতে দিলেও তিনি ৪৫ মিনিট ছাত্রীদের পরিবার, বোরখা, নামাজ, মাদরাসা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এসব বলেন।
এছাড়াও তিনি বলেন এখনো সময় রয়েছে নিজের ভালোর জন্য বোরখা, নামাজ গেটের বাইরে রেখে এসে ছেলেদের সাথে বন্ধুত্ব করার দিকে নজর দেয়ার। এ সময় ছাত্রীদের পরিবারের কোনো সদস্য ধর্মীয় রাজনৈতিক সাথে যুক্ত কিনা সে বিষয়েও জানতে চান তিনি।
উল্লেখ্য, আগামী ২৮ তারিখ প্রেজেন্টেশনের দিন ছাত্রীরা কোন পোশাক পরবেন সে বিষয়ে সর্তক করে বলেন, প্রেজেন্টেশনের দিন অবশ্যই শাড়ি পরিধান করে আসতে হবে। কেউ পর্দা বা ধর্মের অজুহাতে শাড়ি পরিধান না করে এলে তাকে আমি নিজ দায়িত্বে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেব এ বিষয়ে কারো কোনো কৈফিয়ত শুনা হবে না। বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভারসাল, ধর্মের চেয়ে এটা বেশি মানতে শিক্ষার্থীরা বাধ্য।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইংরেজি বিভাগের ডিন রওশন ইয়াজদানী সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি সঠিক ভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। তবে ক্লাশ রুমকে তো আর উপাসনালয় বানাতে দিতে পারি না বলে জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো নির্দিষ্ট পোশাক পরিধান বাধ্যবাধকতা রয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়লে বুঝবেন, প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কিছু নিয়ম রয়েছে।
নামাজ বা বোরখা পরিধান করা ইংরেজি বিভাগের জন্য বেমানান বা অপমানজনক মনে করে এগুলো থেকে বিরত থাকতে কোনো শিক্ষক শিক্ষার্থীর বলতে পারেন কিনা জানতে চাইলে বলেন, এমনটা নয় তবে সাবজেক্ট অনুযায়ী কেউ কিছু বলতেই পারেন।
শাড়ি পরিধান না করে প্রেজেন্টেশন ক্লাসে এলে ঘাড় ধরে বের করে দেয়ার বিষয় জানতে চাইলে বলেন, এটা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ম অনুযায়ী বলা হয়েছে।
রেজিস্টার বিজন কুমার বর্মনের সাথে যোগাযোগের জন্য একাধিক বার তার মোবাইল ফোনে কল দিলে তিনি রিসিভ করেননি।
প্রক্টর মো: কামাল হোসাইন বলেন, বিষয়টি জানা নেই। তবে এমনটা যদি বলে থাকেন তাহলে সেটা সঠিক বলেননি। আমি ছাত্রীদের এবং ওই ডিনের সাথে কথা বলে বিস্তারিত জানাতে পারব।
উল্লেখ্য, ইংরেজি বিভাগের ৫০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে বেশির ভাগই মেয়ে শিক্ষার্থী।

মন্তব্য