প্রচ্ছদ

বিধিনিষেধের মধ্যেই প্রকাশ্যে নেতার জন্মদিন পালনে ছাত্রলীগ সভাপতি

2021/07/07/_post_thumb-2021_07_07_14_32_54.jpg

করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি মোকাবিলায় দেশে আরোপ করা হয়েছে কঠোর বিধিনিষেধ। ‘অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া’ বাড়ির বাইরে বের হলে নেওয়া হচ্ছে আইনগত ব্যবস্থা। কিন্তু এই বিধিনিষেধ ভেঙে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উদ্‌যাপন করা হয়েছে ছাত্রলীগের এক কেন্দ্রীয় নেতার জন্মদিন। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খানের উপস্থিতিতে কাটা হয়েছে কেক। এ ছাড়া ওই নেতার জন্মদিন উপলক্ষে আতশবাজি ফোটানো হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) প্রাঙ্গণে।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের অতিথি কক্ষে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাহিত্যবিষয়ক উপসম্পাদক এস এম রিয়াদ হাসানের জন্মদিন পালন করা হয়। ছাত্রলীগ সভাপতির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই নেতা কিছুদিন আগপর্যন্ত নিয়ম ভেঙে হলে থেকেছেন। গত ২৬ জুন জহুরুল হক হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশের যৌথ অভিযানে তিনি পালিয়ে যান।

১ জুলাই আরোপ করা হয় কঠোর বিধিনিষেধ। এ–সংক্রান্ত জারি করা বিধিনিষেধে বলা হয়, সামাজিক অনুষ্ঠান যেমন, বিয়ে, জন্মদিন, বনভোজন, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান ইত্যাদি করা যাবে না। এই বিধিনিষেধ না মেনে গতকাল সন্ধ্যা থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জড়ো হন ছাত্রলীগের একদল নেতা-কর্মী। এরপর শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের অতিথি কক্ষে ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খানের উপস্থিতিতে কাটা হয় কেন্দ্রীয় নেতা এস এম রিয়াদ হাসানের জন্মদিনের কেক। এরপর শ খানেক নেতা-কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) এলাকায় জন্মদিনের আরেকটি কেক কাটেন রিয়াদ হাসান। রিয়াদের জন্মদিন উপলক্ষে সেখানে আতশবাজি ফোটানো হয়। জন্মদিন উপলক্ষে রিয়াদ কয়েকজন নেতা-কর্মীর সঙ্গে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময়ও করেন।

জানতে চাইলে এস এম রিয়াদ হাসান ক্যাম্পাসে জন্মদিন উদ্‌যাপনের বিষয়টি স্বীকারও করেন। তবে এ বিষয়ে জানতে ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খানের মুঠোফোনে একাধিক কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

জহুরুল হক হলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আজিজুর রহমান বলেন, গতকাল সন্ধ্যায় বৃষ্টির সময় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খানসহ ছয়জন হলের অতিথি কক্ষে এসে বসেন। ছাত্রলীগ সভাপতি তাঁর এক কর্মীর জন্মদিন উপলক্ষে অতিথি কক্ষে শুধু কেক কাটা ও ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য ১৫ থেকে ২০ মিনিট অবস্থান করেন। পরে বৃষ্টি শেষ হওয়ামাত্র তাঁরা হল থেকে টিএসসিতে চলে যান। সেখানে কিছুটা জনসমাগম হয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, ‘টিএসসি ও শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি দেখতে বলা হয়েছে। ক্যাম্পাস এলাকায় করোনাকালীন বিধিনিষেধ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমরা সবার সহযোগিতা চাই।’

মন্তব্য