প্রচ্ছদ

যুক্তরাজ্যে ২৫ সহস্রাধিক সংক্রমণেও নেই বিধি নিষেধ, দেশে কারফিউ জারির পরামর্শ!

2021/07/09/_post_thumb-2021_07_09_05_28_55.jpg
করোনা ভাইরাস নিয়ে সরকারের গাফিলতির চরম খেশারত দিচ্ছে বাংলাদেশ। করোনাভাইরাসের ডেল্টা ধরনের বিস্তারে দেশে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে করোনা নিয়ন্ত্রণে দেশে চলমান লকডাউনের পরিবর্তে কারফিউ বা ১৪৪ ধারার মতো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নন কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল এনসিডিসি পরিচালক ও অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন। 

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, দেশে কঠোর লকডাউন চলছে কিন্তু মানুষের চলাফেরা বা জমায়েত নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে করোনার ভয়াবহ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। এক্ষেত্রে দেশের মানুষ কারফিউ বা ১৪৪ ধারার মতো কর্মসূচিগুলো ভয় পায় এবং প্রতিপালনের চেষ্টা করে। এই পরিস্থিতিতে এ ধরনের কর্মসূচি দিলে করোনা নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট সহায়ক হবে।

অফিস আদালত খোলা রেখে শুধু মাত্র গণপরিবহন ও শোপিংমল বন্ধ রেখে জনগণের ভোগান্তি বাড়িয়ে কথিত শাটডাউন দিয়ে যখন সাধারণ মানুষকে নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ তখন ১৪৪ ধারা জারির সিদ্ধান্ত নিয়ে তুমুল সমালোচনা চলছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিভিন্ন দেশ গুলো চিকিৎসা ও টিকা নিশ্চিত করে বিধি নিষেধ উঠিয়ে নিচ্ছে । অন্যদিকে বাংলাদেশ সরকার তাদের চিকিৎসা খাতের ব্যর্থতা ঢাকতে লকডাউনের নামে জনগণের ওপর দোষ চাপাচ্ছে।

এর আগে ডেল্টা ধরনের বিস্তারে দেশে কোভিড সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি দুই সপ্তাহের শাটডাউনের (সব বন্ধ) সুপারিশ করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১ জুলাই থেকে এক সপ্তাহের জন্য সরকার সারা দেশে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে। কিন্তু সরজমিনে দেখা যায় নামে লকডাউন থাকলেও বাস্তবে তার কোন ছিটেফোটাও নেই।
কঠোর লকডাউনের মধ্যেই রাস্তায় বেড়েছে ব্যক্তিগত গাড়ি। পাবলিক পরিবহন ছাড়া রাস্তায় অবস্থাও এখন অনেকটা স্বাভাবিক। এদিকে ব্যাংক, বীমা, শেয়ারবাজার, গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন শিল্প কারখানা চালু রয়েছে। ফলে কর্মজীবী মানুষগুলোকে প্রতিদিন অফিসে ছুটতে হচ্ছে।

কর্মীদের অফিস যাতায়াতের জন্য কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান নিজস্ব পরিবহনের ব্যবস্থা করেছে। ভাড়া করা বড় বাসও রয়েছে এ তালিকায়। যাদের অফিসের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা নেই তারা কেউ রিকশা, কেউ মোটরসাইকেলে, কেউ হেঁটে অফিস যাতায়াত করছেন। অবশ্য বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে ব্যক্তিগত গাড়ি।

অনেকটা অবাধেই চলছে এসব ব্যক্তিগত গাড়ি। এর সাথে ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেলেও যাত্রী নিয়ে অবাধে চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে। যেসব এলাকায় বিশেষ অভিযান চলছে না, সেখানে এসব ব্যক্তিগত গাড়ি, ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চলাচলে কোনো ধরনের বাধা পেতে দেখা যায়নি।

মন্তব্য