প্রচ্ছদ

১৫ হাজার টাকা বেতনের চাকরি হারিয়ে এখন রিক্সাওয়ালা

2021/07/09/_post_thumb-2021_07_09_06_04_45.jpg

কিশোরগঞ্জের জয়নাল একটি বেসরকারি কোম্পানিতে ১৫ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করতেন। করোনা পরিস্থিতিতে বহু মানুষের মতো চার মাস আগে তিনি চাকরিচ্যুত হন। দিশেহারা জয়নাল কীভাবে স্ত্রী আর এক ছেলের মুখে দুমুঠো ভাত তুলে দেবেন, সেই চিন্তায় অস্থির হয়ে যান। প্রথম দুই মাস আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকে ধারদেনা করে সংসার চালান। পরে বাধ্য হয়ে রিকশা চালানো শুরু করেন। রিকশা চালিয়ে যে আয়, তা দিয়ে এখন সংসারের খরচ মেটাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে চাকরিজীবী থেকে রিকশাওয়ালা হওয়ার গল্প বলতে গিয়ে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন তিনি।

জয়নাল বলেন, ‘আমি আট বছর ধরে একটি কোম্পানিতে চাকরি করেছি। যে বেতন পেতাম, তা দিয়ে খুব ভালো চলছিলাম। কল্পনাও করিনি, আমার চাকরি যাবে। আমি হয়ে যাব রিকশাচালক। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম বাস্তবতায় আমি আজ রিকশাওয়ালা।’

কেবল জয়নাল নন, বৃহস্পতিবার ঢাকার যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, গুলিস্তান, পল্টন, মতিঝিল, কাকরাইল ও মগবাজার এলাকা ঘুরে অন্তত ১০ জন নতুন রিকশাওয়ালার খোঁজ মিলেছে। যাঁরা আগে অন্য পেশায় ছিলেন, তবে করোনা পরিস্থিতিতে কাজ হারিয়ে নিরুপায় হয়ে এখন তাঁরা রিকশাচালক। নগরজীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি তাঁরা।

এক সপ্তাহ আগে থেকে শুরু হওয়া সরকারি কঠোর বিধিনিষেধে অফিস, আদালত, গাড়ি, দোকানপাট সব বন্ধ। প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর, যানজটের নগরীতে এখন মানুষের আনাগোনা কম। তারপরও নগরীর মোড়ে মোড়ে রিকশাওয়ালার আনাগোনা বেশি।

বেশির ভাগ রিকশাওয়ালার ভাষ্য, যাত্রীর তুলানায় রিকশা বেশি। এ জন্য আগের থেকে আয় কমে গেছে। তারপরও যে যাত্রী তাঁরা পাচ্ছেন, যে আয় হচ্ছে, তাতে সন্তুষ্ট। কারণ, গেল বছরের মার্চ মাসে দেশে করোনা শুরু হওয়ার পর টানা ৬৬ দিন কঠোর বিধিনিষেধে সরকারি–বেসরকারি অফিস, আদালত, দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। তখন ঢাকা নগরীতে যাঁরা রিকশা নিয়ে বের হয়েছিলেন, তাঁদের অনেকে হয়রানির মুখে পড়েন। মোড়ে মোড়ে রিকশা ধরে উল্টে রাখা হয়েছিল। রিকশাওয়ালাদের সেই অসহায়ত্বের ছবি তখন গণমাধ্যমে আসে। গত রমজান মাসেও শুরু হওয়া সরকারি বিধিনিষেধের মধ্যে নগরীর অনেক রিকশা ধরে উল্টে রাখা হয়েছিল। তবে এবারের চিত্র আলাদা।

মন্তব্য