প্রচ্ছদ

আর্থিক সংকটে শিশু সন্তানকে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যাচেষ্টা

2021/09/27/_post_thumb-2021_09_27_12_38_02.jpg

লক্ষ্মীপুরে সদর উপজেলার লাহারকান্দি গ্রামে আয়ান রহমান নামে ৪ বছরের শিশু সন্তানকে গলা কেটে হত্যার পর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন মা।

রবিবার মধ্যরাতে অভিযুক্ত মা সাবিনা ইয়াসমিনকে আটক করে থানা হেফাজতে ও শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে পুলিশ।

এর আগে রাত ১২টার দিকে সদর উপজেলার লাহারকান্দি গ্রামে পারিবারিক কলহের জের ধরে ভাড়া করা বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শিশু স্থানীয় তেওয়ারীগঞ্জ এলাকার সৌদিপ্রবাসী আজগর রহমান আজীমের ছেলে।

পুলিশ ও স্বজনরা জানান, সৌদিপ্রবাসী আজগর রহমানের স্ত্রী সাবিনা ও তার ৪ বছরের শিশু আয়ানসহ যৌথ পরিবার লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার লাহারকান্দি গ্রামের হাফিজ খাঁর বাড়িতে বাসা ভাড়া নিয়ে বাস করে আসছেন।

সম্প্রতি তাদের সংসারে আর্থিক সংকট দেখা দেয়। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কেও বিরোধ দেখা দেয়। সর্বশেষ রবিবার সন্ধ্যায় মুঠোফোনে স্বামী-স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া হয়। এরপর রাতে শিশুটিকে ধারালো বটি দিয়ে গলা কেটে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

সাবিনার শ্বশুর হুমায়ুন কবির ও দেবর আবির বলেন, সাবিনার সঙ্গে তার স্বামী আজগরের সঙ্গে মুঠোফোনে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। আমরা তাকে সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করি। কিছুক্ষণ পর প্রতিদিনের মতো শিশু আয়ানকে নিয়ে নিজের শোয়ার রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে ফেলেন সাবিনা।

পরে রুমের ভেতর বিকট শব্দ শুনতে পাই। পরে শোর চিৎকার করে দ্রুত দরজা ভেঙে ভেতরে গিয়ে দেখি সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে সাবিনা আত্মহত্যার চেষ্টা করছেন। এ সময় রক্তমাখা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দেখি খাটের ওপর শিশু আয়ানের গলাকাটা মরদেহ ও তার পাশে ধারালো বটি পড়ে আছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সাবিনাকে আটক করে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোজাম্মেল হোসেন মহব্বত জানান, পারিবারিক কলহের জের ধরে প্রবাসী স্বামীর সঙ্গে মুঠোফোনে সাবিনার বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ডিভোর্স দেয়ার কথা সইতে না পেরে সন্তানকে হত্যা করে মা নিজে আত্মহত্যার চেষ্টা করে বলে জানান তিনি।

সদর থানার ওসি জসীম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পারিবারিক কলহের জের ধরে সন্তানকে হত্যা করেছে মা। শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। মাকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

মন্তব্য