প্রচ্ছদ

মামলার নামে পুলিশের হয়রানি, অতিষ্ঠ হয়ে বাইকে আগুন দিলেন পাঠাও চালক

2021/09/27/_post_thumb-2021_09_27_14_21_34.jpg

রাজধানীর বাড্ডা লিংক রোড এলাকায় এক পাঠাও চালক নিজের মোটরসাইকেলে নিজেই আগুন দিলেন। সকালের দিকে ব্যস্ততম রাস্তায় মোটরসাইকেলে আগুন দেখে চলাচলকারী লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাড্ডা লিংক রোড এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পাঠাও চালক শওকত এখন পুলিশ হেফাজতে বাড্ডা থানায় আছেন।

প্রত্যাক্ষদর্শীরা বলছেন, বিভিন্ন সময় কাগজপত্র ঠিক থাকলেও নানা অযুহাত দেখিয়ে মামলা দেয় পুলিশ। এছাড়া কোন কোন সময় মামলার ভয় দেখিয়ে চাঁদাও আদায় করেন ড্রাইভারদের থেকে। পুলিশের এই মামলা দিয়ে হয়রানি করায় সে অতিষ্ট হয়ে বাইকে আগুন দিয়েছেন। শুধু ওই ব্যাক্তি না রাজধানীতে যারা গাড়ি চালান সবাই ট্রাফিক পুলিশের এমন হয়রানির শিকার হন। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পাঠাও চালক বলেন, করোনায় চাকরি হারিয়ে এই পাঠাও চালাচ্ছি। কিন্তু কাগজ পত্র সব ঠিক থাকলেও কখনও ফিটনেসহীনের নামে, কখনও কাগজের ছোট ভুল বের করে মামলা ঠুকে দেয়। সারাদিনে যে আয় তা যদি মামলাতেই শেষ হয়ে যায় তাহলে পরিবারকে খাওয়াবো কি।

পুলিশের দাবি, কাগজপত্র নিলেও তার মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে কোনো মামলা দেয়নি পুলিশ। মামলা দেওয়ার আগেই তিনি গাড়িতে আগুন দিয়েছেন।

ছোট দোকান চালিয়ে ভালোই চলছিল শওকত আলীর সংসার। করোনার কারণে ছোট ব্যবসাটিও বন্ধ হয়ে যায়। তাই বাধ্য হয়ে গত কয়েক মাস ধরে মোটরসাইকেলে রাইড শেয়ার করে সংসার চালাচ্ছিলেন তিনি।

আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মোটরসাইকেল নিয়ে বাড্ডা লিংক রোডে এসে দাঁড়িয়ে যাত্রীর অপেক্ষায় ছিলেন শওকত আলী। এ সময় ট্রাফিক সার্জেন্ট এসে তার কাগজপত্র নিয়ে যায়। মামলা না দিতে অনুরোধ করে পুলিশের কাছে গাড়ির কাগজপত্র ফেরত চান তিনি। কাগজপত্র ফেরত না পেয়ে হতাশ হয়ে মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেন তিনি।

এদিকে, শওকত আলীর মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়ার ভিডিওটি ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনাটি দুঃখজনক বলেছেন অনেকেই।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওর নিচে মো.মিজান নামের এক ব্যক্তি লিখেছেন,বাস্তবতার করুণ চিত্র। মুকিমুল আহসান হিমেল নামের আরেকজন লিখেছেন, কতটা অসহায় হলে মানুষ এটা করতে পারে।


মন্তব্য