শিক্ষাঙ্গন

জড়িতদের স্থায়ী বহিষ্কার দাবিতে অনড় কুয়েট শিক্ষক সমিতি

2021/12/05/_post_thumb-2021_12_05_20_28_43.jpg

অধ্যাপক ড. সেলিম হোসেনের (৩৮) অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর আন্দোলনের মুখে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) বন্ধ রয়েছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন এবং কুয়েট শাখা ছাত্র লীগের সাধারণ সম্পাদক সিএসই বিভাগের ছাত্র সাদমান নাহিয়ান সেজানসহ ৯ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু শিক্ষক সমিতি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে স্থায়ী বহিষ্কার দাবিতে অনড় অবস্থানে রয়েছে। তারা চলমান অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বর্জনসহ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পুনঃঘোষণা দিয়েছেন।

কুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রতীক চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, কুয়েট কর্তৃপক্ষের ৯ জন শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করাকে আমরা নেতিবাচকভাবে দেখছি না। তবে আমাদের প্রধান দাবি ছিল, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় এনে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিস্কার করা হবে। প্রকৃত অপরাধীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিস্কার না করা পর্যন্ত শিক্ষক সমিতি এবং শিক্ষকরা সকল ধরনের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকবেন। তিনি বলেন, মূল (প্রকৃত অপরাধীদের স্থায়ী বহিস্কার) দাবিতে আমরা অনড় রয়েছি।

এদিকে, আজ রোববার সকালে শিক্ষক ক্লাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিকাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংবিভাগের শিক্ষক ড. সেলিম হোসেনের স্মরণে শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে কুয়েটের শিক্ষক ও ড. সেলিম হোসেনের সহকর্মীরা তার কর্মময় জীবনের ওপর আলোচনা করেন। এসময় অনলাইনে যুক্ত হয়ে কান্নাজড়িত কন্ঠে ড. সেলিমের স্ত্রী সাবিনা খাতুন রিক্তা স্বামী হত্যার বিচার দাবি করেন । তার বক্তব্যে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরে কুয়েট জামে মসজিদে শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

শিক্ষক ও ছাত্রদের অভিযোগ, কুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজান তার লোকজন নিয়ে গত ৩০ নভেম্বর ড. সেলিমের কক্ষে প্রবেশ করে অশালীন আচরণ এবং তাকে মানসিক নির্যাতন করেন। এর ফলে তিনি ৩০ নভেম্বর দুপুর ৩টায় মারা যান। ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক সেজানসহ উপস্থিত লোকজন তাদের মনোনীত প্রার্থীকে ডাইনিং ম্যানেজার নির্বাচন করার জন্য হল প্রভোস্ট ড. সেলিম হোসেনকে নিয়মিত হুমকি দিয়ে আসছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় ৩০ নভেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সাদমান নাহিয়ান সেজানের নেতৃত্বাধীন ছাত্রলীগ কর্মীরা ক্যাম্পাসের রাস্তা থেকে ড. সেলিম হোসেনকে জেরা করা শুরু করেন। এরপর তারা ওই শিক্ষককে ধরে নিয়ে তার ব্যক্তিগত কক্ষে (তড়িৎ প্রকৌশল ভবন) প্রবেশ করেন।

সিসি টিভি ফুটেজে দেখা যায়, তারা আনুমানিক আধ ঘণ্টা ওই শিক্ষকের রুমে ছিলেন। পরে ড. সেলিম দুপুরে খাবার খেতে ক্যাম্পাস সংলগ্ন বাসায় যান। দুপুর ২টার দিকে তার স্ত্রী সাবিনা খাতুন রিক্তা লক্ষ্য করেন তিনি বাথরুম থেকে বের হচ্ছেন না। পরে তিনি দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করেন এবং খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সেলিমকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গত শুক্রবার আগামী ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত কুয়েট বন্ধ ঘোষণা এবং ঐ দিন বিকাল টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়। 

মন্তব্য