অন্যান্য

চট্টগ্রামে হিজাব পরায় শিক্ষার্থীদের লাঞ্ছিত করলো স্কুলের প্রধান শিক্ষক রতন কুমার

2022/03/01/_post_thumb-2022_03_01_16_28_45.jpg

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার সাতবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে হিজাব পরায় দশম শ্রেণীর ৬ শিক্ষার্থীকে লাঞ্ছিত ও অপমান করার খবর পাওয়া গেছে স্কুলের প্রধান শিক্ষক রতন কুমার বড়ুয়ার বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া ইসলামের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, "বিনীত নিবেদন এই যে, আমরা সাতবাড়ীয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী হই। গত ২৭/০২/২০১২ তারিখ প্রতিদিনের মত বােরকা পড়ে ক্লাস করতে আসি। অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রতন কুমার বড়ুয়া আমাদের দশম শ্রেণীর ইংরেজী ১ম পত্র ক্লাস নিতে আসলে আমরা কয়েক জনকে বােরকা ও নেকাব পড়া অবস্থায় দেখে আমাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে বলে তােমরা বােরকা ও নেকাব কেন পড়ে আসছাে? এই বলে ক্লাসের সকল ছাত্রছাত্রীদের সামনে আমাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালি গালাজসহ চিৎকার করে করে বলে উঠে তােমাদেরকে কালাে কাকের মতাে দেখাচ্ছে, আরো বিভিন্ন অশালীন বিষয় বলতে থাকেন।

যদি তোমরা পরবর্তী সময় থেকে বােরকা ও নেকাব পড়ে ক্লাসে আসে তাহলে তােমাদেরকে স্কুল থেকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেব। আমরা অপমান সইতে না পেরে ক্লাসে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ি, আমাদের কান্নার রােল দেখে পুরো ক্লাসের সবাই কান্না বিজড়িত হয়ে পড়ে।

ইতিপূর্বে অনেক ছাত্রীকে এই রকম আচরণ করার কারণে তারা ভয়ে এখন বােরকা ও নেকাব পরা ছেড়ে দিয়ে স্কুল ড্রেস পড়ে স্কুলে আসে।

অতএব মহোদয়ের নিকট বিনীত প্রার্থনা এই যে, আমরা সম্রান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান হওয়ায় ধর্মীয় রীতি নীতি অনুসরণে বিশ্বাসী হই। এমন মুসলিম বিদ্ধেষী আচরণের খবর পেয়ে আমাদের পরিবার দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। সুতরাং উপরােক্ত বিষয়গুলাে ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী বিচার বিশ্লেষণ পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে মহোদয়ের মর্জি হোক।"

এই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় উত্তেজনা বিরাজ করছে উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নে। এটি নিয়ে ওই স্কুল ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। খারাপ ভাষায় কথা বলা ও লাঞ্ছিত করা অভিযোগ এনে ওই শিক্ষার্থীরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে এভাবে অভিযোগ দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক রতন কুমার বড়ুয়ার বিরুদ্ধে। সোমবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষার্থীরা এই অভিযোগটি দেন।

এদিকে এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক রতন কুমার বড়ুয়া জানান, বোরকা পরতে বাঁধা তিনি দেয়নি, তবে স্কুল ড্রেসের সঙ্গে মিলিয়ে বোরকা ও হিজাব পরার কথা বলেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া ইসলামের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হয়। তিনি জানান এ রকম কোন অভিযোগ এখনো হাতে পাননি তিনি। তবে পেলে যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে বলে জানান।

মন্তব্য