প্রচ্ছদ

অভাবের তাড়নায় লাশ হলেন দুই মেয়ের মা

2022/05/14/_post_thumb-2022_05_14_00_02_27.jpg

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার নাসিরাবাদ ইউনিয়নের দুয়াইর গ্রামে মাহমুদা বেগম (২৮) নামে এক গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার লাশটি ঘরের আড়ার সাথে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলে ছিলো।

অভাব ও দৈন্যতায় স্বামীর সাথে বিবাদের জের ধরে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, মাহমুদা বেগম ভাঙ্গা উপজেলার কাউলীবেড়া ইউনিয়নের শেখপুরা গ্রামের শেখ নুর আলীর মেয়ে। বছর দশেক আগে ওই গ্রামের ভ্যানচালক শেখ শামীমের সাথে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়। সামিয়া (৬) ও হাবিবা (২) নামে তাদের সংসারে দুটি

সন্তান রয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, হতদরিদ্র পরিবারটি নানাবিধ প্রতিকুলতায় অভাব ও দৈন্যদশার শিকার। এ নিয়ে সংসারে তাদের মাঝে কলহ বিবাদ লেগেই থাকতো। শুক্রবার দুপুরের দিকে বড় মেয়ে সামিয়াকে মা মাহমুদা বেগম গালমন্দের পর মৃদু মারধর করেন। এ নিয়ে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে শামীম শেখ স্ত্রী মাহমুদাকে উল্টো বকাঝকার পর হালকা আঘাত করেন। এরপর দুপুরে পরিবারের লোকজন ঘরের আড়ার সাথে মাহমুদাকে ঝুলতে দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ

ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্বার করে থানায় নিয়ে আসে। নাসিরাবাদ ইউনিয়নের স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার মনিরুজ্জামান মনির বলেন, ভ্যানচালক শামীমের পরিবারে অভাব-অনটন লেগেই থাকতো। এজন্য স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সাংসারিক টানাপোড়েনও ছিলো। অভাব ও দৈন্যতার কারণেই তার স্ত্রী ঘরের আড়ার সাথে ওড়না

ঝুলিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এ ঘটনার পর দুটি অবুঝ শিশুর প্রতিপালন কে করবে সেটি নিয়েও তারা চিন্তিত। এছাড়া ভ্যানচালক শামীমকেও এ ঘটনার জের ধরে আরো অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হতে পারে।

এ ব্যাপারে লাশ উদ্বারকারী ভাঙ্গা থানার এসআই শহীদুল্লাহ জানান, লাশ উদ্বার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে বিষয়টি মূল বিষয়টি জানা যাবে।

মন্তব্য