প্রচ্ছদ

দ্রব্যমূল্যের দাম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ তবুও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির উদ্যোগ

2022/05/19/_post_thumb-2022_05_19_12_47_15.jpg

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগামী দামের মাঝেই বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদি সরকার। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের দাম বাড়লে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরো বাড়বে বলেই মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। এই অবস্থায়ই বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর লক্ষ্যে লোক দেখানো গণশুনানী শুরু করেছে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ইউনিট প্রতি বর্তমান মূল্য ৫.১৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮.৫৮ টাকা করার প্রস্তাব করেছে।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল গণমাধ্যমকে বলেছেন, বিদ্যুতের পাইকারি মূল্য বাড়ানোর যৌক্তিকতা প্রমাণ করার দায়িত্ব পিডিবি।

বুধবার (১৮ই মে) রাজধানীর বিয়াম অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আয়োজিত বিদ্যুতের পাইকারি দাম বৃদ্ধির গণশুনানী অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে কমিশনের চেয়ারম্যান এই মন্তব্য করেন। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সদস্য মকবুল ই ইলাহী চৌধুরী, বজলুর রহমান, মোহাম্মদ আবু ফারুক ও মো. কামরুজ্জামান।

তিনি বলেন, প্রশ্ন উঠতে পারে গ্যাসের দামের গণশুনানীর ঘোষণা না দিয়ে কেনো আমরা বিদ্যুতের দামের শুনানি নিচ্ছি। আপনারা জানেন দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সরকারের পলিসি সিদ্ধান্তের বিষয় থাকে, সেটি দালিলিকভাবে প্রমাণের বিষয় থাকে। সেটার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। শেষ হলে গ্যাসের দামের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে।

বিইআরসি সর্বশেষ ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিদ্যুতের পাইকারি দর ইউনিট প্রতি ৫.১৭ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছিলো। বিদ্যুতের একক পাইকারি বিক্রেতা পিডিবি। নিজেরা উৎপাদনের পাশাপাশি বিদেশ থেকে আমদানি ও বেসরকারি মালিকানাধীন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাছ থেকে বিদ্যুৎ কেনে রাষ্ট্রীয় এই সংস্থাটি। ৫টি বিতরণ কোম্পানির কাছে পাইকারি দরে বিক্রি করে আসছে। আর নিজেরা ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের শহরাঞ্চলে বিতরণ করে যাচ্ছে।

বিপিডিবির পাইকারি দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবে বলা হয়েছে, চাহিদা মতো গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ায় তেল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে গিয়ে খরচ বেড়ে গেছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে বিদ্যুতের গড় উৎপাদন খরচ ছিল ২ দশমিক ১৩ টাকা, ২০২০-২১ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ১৬ টাকায়। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, কয়লার মূসক বৃদ্ধির কারণে ২০২২ সালে ইউনিট প্রতি উৎপাদন খরচ দাঁড়াবে ৪ দশমিক ২৪ টাকায়। পাইকারি দাম না বাড়লে ২০২২ সালে ৩০ হাজার ২৫১ কোটি ৮০ লাখ টাকা লোকসান হবে বিপিডিবির।

মন্তব্য