প্রচ্ছদ

ভয়াবহ বন্যায় ভাসছে সিলেট-সুনামগঞ্জ

2022/06/18/_post_thumb-2022_06_18_10_13_23.jpg

কয়েকদিনের টানা ভারি বৃষ্টি আর উজানে ভারতের পাহাড়ি ঢলের পানিতে সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যার পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এরমধ্যেই ভারত উজানের নদী গুলোতে দেওয়া বাঁধ খুলে দেওয়ায় পানির অতিরিক্ত চাপে বন্যা স্মরণকালের ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। নিকট অতীতে বন্যার এরকম ভয়াবহতা দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন বয়বৃদ্ধরা। ধারণা করা হচ্ছে এই বন্যা অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।

বন্যার কারণে ইতোমধ্যেই সারাদেশে মাধ্যমিক স্কুলের পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। সিলেটের পাশাপাশি রংপুর, কুড়িগ্রাম এলাকায় তিস্তা নদীর পানিও বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বাড়ছে ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি। বন্যার পানি হানা দেওয়ায় ইতোমধ্যেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সিলেট এয়ারপোর্ট। বিদ্যুৎ কেন্দ্র গুলোতে পানি উঠে যাওয়ায় যে কোন মূহুর্তে বন্ধ হয়ে যেতে পারে উৎপাদন। এতে বন্যার পানির তোড়ে আটকেপড়া সিলেট-সুনামগঞ্জের মানুষ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে দীর্ঘ অন্ধকারের কবলে পড়তে পারেন। দেখা দিতে পারে মানবিক বিপর্যয়।

বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে অনেক এলাকায় সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। সিলেট ও সুনামগঞ্জ শহরের রাস্তা গুলো তলিয়ে গেছে পানিতে। সুনামগঞ্জের সাথে সড়ক যোগাযোগ ইতোমধ্যেই বন্ধ হয়ে গেছে। সিলেট-সুনামগঞ্জ শহরে অনেক বাসা-বাড়ির নিচতলা ডুবে গেছে। শহরের বাইরে গ্রামের পর গ্রাম পানিতে তলিয়ে যাওয়া বিপাকে পড়েছে লাখো মানুষ। গবাদি পশু ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বন্যার পানির স্রোতে। উদ্ধারের জন্য হাহাকার করছে অনেক এলাকার লাখো মানুষ।

বন্যার পানি সিলেট সুনামগঞ্জ ছাড়িয়ে ভাটির জেলা নেত্রকোনা এবং হবিগঞ্জেও পানি বাড়ছে হু হু করে।

বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় ইতোমধ্যেই সেনাবাহিনী তলব করা হয়েছে। পানিতে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার শুরু করেছে সেনাবাহিনী। তবে পরিস্থিতির ভয়াবহতার তুলনায় এটা খুবই অপর্যাপ্ত বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

এদিকে সিলেটের জৈন্তাপুর, জকিগঞ্জ, কানাইঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, লামাকাজী, বিশ্বনাথ এবং ওসমানী নগরসহ সবকটি এলাকা এখন পানিতে ভাসছে। সিলেট –সুনামগঞ্জের নদ-নদীর পানি বিপদসীমার বেশ ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুরমা, কুশিয়ারা, সারি, পিয়াইন নদীর পানি আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে জনদুর্ভোগ আরো বাড়বে।

স্থানীয়রা বলছেন, কিছুদিন আগের বন্যা ২০০৪ সালের সালের রেকর্ড অতিক্রম করেছে। আর এবারের বন্যা ১৯৮৮ সালের বন্যাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। পূর্ব থেকেই প্লাবিত হওয়া এলাকায় পানি আরো বাড়ছে। কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাট উপজেলার বেশিরভাগ এলাকাই শুক্রবার পানিতে তলিয়ে গেছে। জৈন্তাপুর ও কানাইঘাট উপজেলারও বিস্তীর্ণ এলাকাও পানিবন্দি। সিলেট সদর, দক্ষিণ সুরমা, জকিগঞ্জ ও বিশ্বনাথ উপজেলায় পানি বাড়ছে। নগরীর অনেক এলাকা এখন পানির নিচে।

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আসিফ আহমেদ জানান, শুক্রবার সকাল ৯টায় সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ১ দশমিক ৮ সেন্টিমিটার এবং সিলেট পয়েন্টে ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

সারি নদীর পানি বিপদসীমার ২৩ সেন্টিমিটার উপরে রয়েছে। পানির উচ্চতা বেড়েছে কুশিয়ারা ও লোভা নদীরও। কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ৪০ সেন্টিমিটার উপরে বইছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম জানান, জেলার প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তাদের জন্য ৪৪৩টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে; দুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত আছে।

সিলেট ও সুনামগঞ্জের ৯টি উপজেলার অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে বলে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক অরুণ চন্দ্র পাল জানান।

সিলেট জেলার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গকুল চন্দ্র দেবনাথ বলেন, এ পর্যন্ত জেলায় ২৩০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি উঠেছে। এসব বিদ্যালয়ের পাঠদান সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে।’

এছাড়া জেলার ৬০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদরাসা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এগুলোতে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সাঈদ মো. ওয়াদুদ।

তলিয়ে গেছে বিদ্যুৎ স্টেশন:

বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে সিলেটের কুমারগাওয়ের বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রেও। এই উপকেন্দ্র দিয়ে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। ইতোমধ্যে সিলেটের পুরো কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা, কানাইঘাট, জৈন্তাপুর ও গোয়ইনঘাট উপজেলা এবং নগরীর উপশহরসহ কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

কুমারগাঁও বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সুরঞ্জিত সিংহ বলেন, কুমারগাঁও ১৩২/৩৩ কেভি উপকেন্দ্রের সুইচ ইয়ার্ডে পানি প্রবেশ করেছে। যে বৃষ্টি হচ্ছে তাতে কন্ট্রোল রুমে পানি প্রবেশ করতে বেশি সময় লাগবে না। যদি কন্ট্রোল রুমে পানি প্রবেশ করে তাহলে এই গ্রিড উপকেন্দ্র বন্ধ করে দিতে হবে। এই গ্রিড বন্ধ করলে পুরো সিলেটের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে পুরো সিলেট বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়বে।

গত মাসের বন্যায় দক্ষিণ সুরমা, উপশহরসহ কয়েকটি এলাকার বিদ্যুতের সাব স্টেশন পানিতে তলিতে যাওয়ায় বন্ধ করা হয়েছিল বিদ্যুৎ সরবরাহ। কিন্তু এবারের বন্যায় পুরো সিলেটের বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কুমারগাঁও ১৩২-৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্র বন্ধের উপক্রম হয়েছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বাসাবাড়ির মিটার পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় নগরের উপশহর এলাকায় এরই মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। দক্ষিণ সুরমা বিদ্যুতের সাবস্টেশনে পানি ওঠায় পুরো দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় বৃহস্পতিবার থেকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছে।

সিলেটের চার জেলায় পিডিবির অধীন প্রায় সাড়ে চার লাখ গ্রাহক আছেন। এর মধ্যে সিলেটের ১ লাখ এবং সুনামগঞ্জের ৯০ হাজার গ্রাহক বর্তমানে বিদ্যুৎহীন আছেন।

সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ ও ২-এর জেনারেল ম্যানেজার দীলিপ চন্দ্র চৌধুরী জানান, সমিতির সিলেট-১-এর অধীনে থাকা ৪ লাখ ১৩ হাজার গ্রাহকের মধ্যে প্রায় আড়াই হাজার গ্রাহক এবং সিলেট-২ এর অধীনে থাকা ২ লাখ ১২ হাজার গ্রাহকের মধ্যে অন্তত ৯০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন আছেন।

বিউবোর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী শামছ-ই-আরেফিন বলেন, বন্যার অবনতি হওয়ায় অনেক স্থানেই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

বিউবো সিলেটের প্রধান প্রকৌশলী আবদুল কাদির শুক্রবার বলেন, বৃষ্টিপাত অব্যাহত আছে। যদি আরও দুই থেকে তিন ঘণ্টা এমনভাবে চলে, তাহলে নিয়ন্ত্রণকক্ষে পানি ঢুকে পড়ার আশঙ্কা আছে। এতে পুরো সিলেট জেলা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।


মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যাহত, বিচ্ছিন্নসড়ক যোগাযোগ: 

বন্যা কবলিত এলাকার মানুষ জানান, কেউ কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছে না। এই মুহূর্তে সুনামগঞ্জের সবার ঘরে পানি নেই। বিদ্যুৎ নেই। মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক বন্ধ। পরিস্থিতি ক্রমে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে সিলেট মহানগরীতে ৩১ আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এখনও অনেকেই নিজেদের আসবাবপত্র রেখে আশ্রয়কেন্দ্রে আসতে চাচ্ছেন না। তবে বন্যা কবলিত সবাইকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেয়ার চেষ্টা করব।


উদ্ধারে নামছে সেনাবাহিনী:

সিলেটের আট উপজেলায় কাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনীর সাত ব্যাটেলিয়নের সদস্যরা। দুপুর থেকে তারা উদ্ধার অভিযান শুরু করে। সিলেট সদর, গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, ছাতক, দিরাই, দোয়ারাবাজারে সেনা সদস্যরা পানিবন্দি লোকজনকে উদ্ধার কাজ শুরু করেছে। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝুঁকির মুখে রয়েছে সিলেট বিদ্যুৎ স্টেশন।

এর আগে দুপুরে সিলেটের ১৭ পদাতিক ডিভিশনের হেডকোয়ার্টারে এ নিয়ে ব্রিফিং করেন ডিভিশন প্রধান মেজর জেনারেল হামিদুল হক। তিনি জানান, সেনাবাহিনীর সদস্যরা প্রথমে গিয়ে উদ্ধার কাজ চালাবে। এরপর খাদ্য সহায়তা দেবে। প্রয়োজনে চিকিৎসা সেবাও প্রদান করা হবে। পাশাপাশি কুমারগাঁও বিদ্যুৎ স্টেশন, সুনামগঞ্জের খাদ্য গুদামগুলো কীভাবে বন্যা থেকে রক্ষা করা যায় সে ব্যাপারে মাঠে থাকা সেনা সদস্যরা কাজ করবেন।

এদিকে, সিলেটে হু হু করে পানি বাড়ছে। কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাটের বিভিন্ন এলাকার টিনের চালের উপর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে করে কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্ধি হয়ে পড়েছেন।

কোম্পানীগঞ্জ সড়কে কয়েক হাজার বন্যার্ত মানুষজন এসে রাত থেকে অবস্থান নিয়েছেন। একই সঙ্গে সিলেট-তামাবিল সড়কেও এসে আশ্রয় নিয়েছেন মানুষ।

গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, জৈন্তাপুরসহ কয়েকটি এলাকার আশ্রয় কেন্দ্রে লোকজনের ঠাঁই হচ্ছে না। মানুষ জীবন বাঁচাতে আশ্রয়ের সন্ধান খুঁজছেন। সিলেটের কুমারগাঁও বিদ্যুৎ কেন্দ্র ঝুঁকির মুখে রয়েছে। সেখানে সেনাবাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নিয়েছেন।

সিলেট নগরের উপশহরসহ কমপক্ষে ৫০টি এলাকার লাখো মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় আছেন। সিলেট শহরের নদী তীরবর্তী শতভাগ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। নগরের ৩১টি আশ্রয় কেন্দ্রে ঠাঁই হচ্ছে না।

সুনামগঞ্জে মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা:

এদিকে, সুনামগঞ্জ জেলায় বন্যার পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এই বন্যা অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। টানা কয়েকদিনের ভারি বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলের পানিতে জেলার কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। জেলার সবকয়টি উপজেলার গ্রামের প্রতিটি ঘরে এখন হাঁটু থেকে কোমর পানি। বৃহস্পতিবার রাত থেকে গ্রামের নারী পুরুষ, শিশু বৃদ্ধরা পানি বন্দি হয়ে আটকা পড়ে রয়েছেন। দ্রুত তাদের উদ্ধার করে উঁচু স্হান বা আশ্রয় কেন্দ্রে না দিলে বড় দুর্ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে।

বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের বন্যার পানির উচ্চতা সুনামগঞ্জের সবচেয়ে উঁচু স্হান ও নতুন নতুন এলাকায় উঠেছে । গত দুইদিন ধরে সুনামগঞ্জ সিলেট সড়কে এবং উপজেলার সঙ্গে জেলার সদরের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় সড়কের এপাড়ে ওপারে কয়েক শতাধিক পণ্যবাহী গাড়ি আটকা পড়েছে।

জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোদাচ্ছির আলম সবুল বলেছেন, এবার যে পরিমাণ পানি হয়েছে ২০০৪ সালের বন্যায় এতো পানি হয়নি। স্কুলে আসার সকল রাস্তাঘাট ডুবে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে আসন্ন এসএসসি পরীক্ষা স্থগিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

সুনামগঞ্জ জেলা জাতীয় শ্রমিকলীগের সভাপতি সেলিম আহমদ জরুরি ভিত্তিতে বন্যার পানিতে আটকা পড়া মানুষদের উদ্ধারের জন্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘোষণা দিয়ে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবক উদ্ধারের জন্য জেলা প্রশাসককে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি ।

এইদিকে সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে সারাদেশের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। গত দুইদিন ধরে জেলা সদরের সঙ্গে উপজেলা সদরের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগ সহ কয়েকটি হাসপাতালের নীচতলা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। গত দুইদিন ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর, বিশ্বম্ভপুর, জামালগঞ্জ, মধ্যনগর সহ সব কয়টি উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ এখন পানি বন্দি হয়ে রয়েছেন।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম জানান, সুরমা নদীর সুনামগঞ্জ পয়েন্টে ২০২০ সালের বড় বন্যার সময় পানির উচ্চতা ছিল বিপদসীমার ৭০ সেন্টিমিটার উপরে। বৃহস্পতিবার সেটি অতিক্রম করেছে। বিপদসীমার ৭৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বইছে সুরমার পানি। মেঘালয় ও চেরাপুঞ্জিতেও গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড পরিমাণ ৬৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সুনামগঞ্জে হয়েছে ১৮৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী বলেছেন, আগামী ১০ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে দেখা গেছে, একইভাবে চারদিন বৃষ্টি হবে। এ কারণে সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতিও হতে পারে।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেছেন, বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা অতিতের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বন্যা তথ্য কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ছাতকে ১৭ টি, দোয়ারাবাজারে ১৬টি এবং সুনামগঞ্জ সদরে ১০ টি তাহিরপুরে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বন্যা দুর্গদের মধ্যে বাড়িঘরে থাকার অনুপযোগী সকলকেই আশ্রয়কেন্দ্রে আনা, শুকনো খাবারসহ সাময়িক খাদ্য সহায়তা দিয়ে সহায়তায় করবে প্রশাসন। 

মন্তব্য