ঢাকা ১০:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মাভাবিপ্রবিতে শিক্ষক নিয়োগ

রাষ্ট্রপতি স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত প্রার্থীকে বাদ দিতে ‘নীল নকশা’

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৭:০৫:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
  • / ২৫ বার পড়া হয়েছে

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) ফার্মেসি বিভাগের প্রভাষক নিয়োগ চূড়ান্ত হওয়ার আগে রাষ্ট্রপতি স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত সাবেক শিক্ষার্থীকে বাদ দিতে মরিয়া একটি পক্ষ। সাফিয়া আফরিন নামে এই প্রার্থী বর্তমানে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত। ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনাপত্তিপত্রসহ (এনওসি) আবেদন করলেও তার ফটোকপি যুক্ত না করাকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ প্রচারে নেমেছে পক্ষটি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রভাবশালী প্রার্থীকে সুবিধা দিতে যোগ্য প্রার্থীকে বাদ দেয়া প্রয়োজন। কিন্তু কোনোভাবে সেটি সম্ভব না হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির অস্পষ্টতার সুবিধা নিয়ে নিয়োগপ্রক্রিয়া এবং প্রার্থীকে বিতর্কিত করছেন সেই প্রভাবশালী প্রার্থীর ঘনিষ্ঠরা।

সাফিয়া আফরিন বিশ্ববিদ্যালয়টির ফার্মেসি বিভাগের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি বি.ফার্ম ও এম.ফার্ম উভয় পরীক্ষায় যথাক্রমে ৩.৯৮ ও ৩.৯৭ সিজিপিএ অর্জন করেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের সব অনুষদের মধ্যে সর্বোচ্চ ফলাফল করে রাষ্ট্রপতি স্বর্ণপদক লাভ করেন এবং প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের জন্য মনোনীত হন। পাশাপাশি তিনি ইউজিসি মেধাবৃত্তি, ইউনিভার্সিটি একাডেমিক জিনিয়াস অ্যাওয়ার্ডসহ বিভিন্ন সম্মাননা অর্জন করেন। বর্তমানে স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের ফার্মেসি বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত তিনি।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে অভিযোগ করা হয়, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ থাকলেও সাফিয়া যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করেননি। এরপরও তাকে বিশেষ সুবিধা দিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের ১২ আগস্ট বিভাগে নিয়োগ দিতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। পরবর্তীতে চলতি বছরের ১১ মে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর প্রেজেন্টেশন ও মৌখিক পরীক্ষাতেও অংশগ্রহণ করেন সাফিয়া আফরিন। পরবর্তীতে নিয়োগ কমিটি তাকে প্রাথমিকভাবে বাছাই করে। তবে এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে যে, সাফিয়া আফরিন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত মেনে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করেননি।

নথিপত্র বলছে, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে চাকরিরত প্রার্থীদের ক্ষেত্রে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদনের শর্ত আরোপ করা হয়েছিল। অর্থাৎ, বর্তমান কর্মস্থল থেকে অনাপত্তিপত্রের (এনওসি) প্রয়োজন রয়েছে। এক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি প্রার্থী স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়নি। সাফিয়া আফরিন শর্ত মেনে একটি এনওসি মূল আবেদনপত্রের সঙ্গে যুক্ত করেন। তবে ১০ সেট আবেদনপত্র চাওয়ার প্রেক্ষিতে, তিনি মূল আবেদনপত্র ছাড়া বাকিগুলোতে এনওসির অনুলিপি সংযুক্ত করেননি।

এ নিয়ে গত ২৪ জানুয়ারি বিভাগীয় প্ল্যানিং কমিটি রেজিস্ট্রারের কাছে একটি সুপারিশপত্র প্রেরণে করে। মূলত বিভাগীয় প্ল্যানিং কমিটির কাছে প্রেরিত আবেদনপত্রের মধ্যে ৮ জনের এনওসি পাওয়া যায়নি। এর প্রেক্ষিতে প্ল্যানিং কমিটি সুপারিশ করে বলে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদনের কপি মূল কপির সাথে সংযুক্ত আছে কিনা তা যাচাই করে ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করা হলো।

এনওসি না পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন তৎকালীন বিভাগীয় চেয়ারম্যান ও প্ল্যানিং কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান মোগলও। তিনি বলেন, প্ল্যানিং কমিটির সুপারিশ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয়েছে, পরে তারা আমাকে কিছু জানায়নি।

সাফিয়া আফরিনের সাথে এনওসি ব্যাপারে কথা বললে তিনি জানান, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ১০টি আবেদনপত্রের প্রতিটি সেটে এনওসি সংযুক্ত করার কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না। মূল আবেদনপত্রের সঙ্গেই এনওসি জমা দেয়া হয়েছিল। পরে বিভাগীয় প্রধানকে বিষয়টি অবহিত করার পাশাপাশি রেজিস্ট্রার অফিসেও তিনি যোগাযোগ করেন।

তিনি জানান, তার কর্মস্থল স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জন্য একবারই এনওসি ইস্যু করে। তাই নিয়োগ পরীক্ষার আগের দিন তিনি এনওসির একটি পুনঃইস্যুকৃত কপি সংগ্রহ করেন এবং মৌখিক পরীক্ষার সময় বোর্ডের চাহিদা অনুযায়ী তা প্রদর্শনও করেন।

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাধারণত বেসরকারি প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এনওসি বা যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদনের প্রয়োজনীয়তা নেই। এই শর্ত সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ওবায়দুর রহমান লিখেছেন, এনওসি কোনো যোগ্যতা বা মেধার মানদণ্ড নয়। এটি থাকা মূলত এই বিষয়টি নির্দেশ করে যে, একজন কর্মচারী যদি বর্তমান চাকরি ছেড়ে অন্য কোথাও যোগদান করতে চান, তাহলে তার বর্তমান নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ এতে আপত্তি করবে না। অন্যদিকে, কোনো ব্যক্তি এনওসি ছাড়াই অন্য প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য আবেদন করলে সেটিও অস্বাভাবিক নয়। এর অর্থ হতে পারে যে তিনি বর্তমান চাকরি থেকে পদত্যাগ করে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে আগ্রহী। এ ক্ষেত্রে তিনি নিজের পূর্ববর্তী চাকরি বা অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন নিয়ে উদ্বিগ্ন নন; বরং নতুন সুযোগ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি লিখেছেন, আমার জানা মতে, অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে এমন কোনো শর্ত থাকে না যে, এনওসি ছাড়া আবেদন করলে কোনো প্রার্থীকে অযোগ্য গণ্য করা হবে বা চাকরির জন্য বিবেচনা করা হবে না। তাই এনওসিকে প্রার্থীর যোগ্যতা নির্ধারণের উপাদান হিসেবে দেখার সুযোগ খুবই সীমিত।

ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুব্রত ব্যানার্জী লিখেছেন, একটি সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে যদি কাউকে নিয়োগ থেকে বঞ্চিত করা হয়, তাহলে সেটি চরম অন্যায় হবে। একজন শিক্ষার্থীকে এত ভালো ফলাফল করে এই পর্যায়ে পৌঁছাতে অনেক সংগ্রাম ও পরিশ্রম করতে হয়। যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন না করলে বিভাগীয় প্ল্যানিং কমিটি থেকেই তো আবেদনপত্র ফরওয়ার্ড করা হয় না। সেখানে ভাইভা ও নিয়োগের চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে এ ধরনের অভিযোগ তোলা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এমন একটি সিলি বা তুচ্ছ কারণে একজন মেধাবী প্রার্থীকে বঞ্চিত করা কোনোভাবেই ন্যায়সঙ্গত নয়।

একই কথা বলছেন খোদ বিভাগীয় প্ল্যানিং কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. মোছা. চাঁদ সুলতানা। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী প্রভাষক পদে নিয়োগের ক্ষেত্র এনওসি যোগ্যতার কোন শর্ত নয়। তবুও ৮ জন প্রার্থীর ক্ষেত্রে প্ল্যানিং কমিটিতে প্রাপ্ত আবেদনপত্রে এনওসি না থাকায় মূল আবেদনপত্র যাচাই ও পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য রেজিস্ট্রার অফিসে সুপারিশ পাঠানো হয়। এরপর বিষয়টি সম্পূর্ণ রেজিস্ট্রার অফিসের এখতিয়ার।

তিনি আরও বলেন, প্ল্যানিং কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে রেজিস্ট্রার অফিস আবেদনপত্রের তথ্য ও নথিপত্র যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে। এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর নিয়োগসংক্রান্ত বিষয়ে প্ল্যানিং কমিটির সদস্যদের কোনো প্রত্যক্ষ দায়িত্ব থাকে না। কোনো কমিটির সদস্যদের নিজেদের দেয়া সুপারিশ সম্পর্কে পরবর্তীতে ভিন্ন অবস্থান গ্রহণ করা প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ও সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের  রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ ওয়াহিদ বলেন, প্ল্যানিং কমিটির সুপারিশের পর মূল আবেদনপত্র পুনরায় যাচাই করে সাফিয়া আফরিনের এনওসি পাওয়া যায়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী তাকে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হয় এবং বিষয়টি প্ল্যানিং কমিটির সভাপতিকেও অবহিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে তৎকালীন প্ল্যানিং কমিটির সদস্য ও বর্তমান বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আশরাফ আলী বলেন, প্ল্যানিং কমিটির দেয়া সুপারিশের ভিত্তিতে রেজিস্ট্রার অফিস তা যাচাই করে সাফিয়া আফরিনের মূল আবেদনের সাথে এনওসি সংযুক্ত পাওয়া সাপেক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী তাকে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়। এক্ষেত্রে প্ল্যানিং কমিটি প্রাথমিক সুপারিশ করতে পারে, সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়িত্ব নয়।

তিনি আরও বলেন, এনওসিতে কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদ উল্লেখ না থাকায় সাফিয়া আফরিনের জমা দেয়া এনওসি অবৈধ বলার সুযোগ নেই। সাফিয়া আফরিনের মূল আবেদনে এনওসি যুক্ত থাকার বিষয়টি রেজিস্টার অফিস থেকে আমাকে জানানোর পর আমি প্ল্যানিং কমিটির সদস্যদের সঙ্গে সঙ্গেই অবহিত করেছি।

এনওসির ব্যাপারে প্ল্যানিং কমিটির আরেক সদস্য সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, আবেদনপত্র অনুযায়ী অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত প্রার্থীকে অবশ্যই এনওসি প্রদান করতে হবে। আবেদনকারীদের মধ্যে ৮ জনের এনওসি ছিল না বলে আমরা প্রাথমিকভাবে সুপারিশের জন্য পাঠাই। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের ব্যাপারে এনওসি আছে কি না, অথবা থাকলেও তা বৈধ কি না— সে বিষয়ে আমাদের জানায়নি।

তবে, সংশ্লিষ্ট ওই পদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায়, প্রার্থীর মার্কশিট/ট্রান্সক্রিপ্ট, সার্টিফিকেট, গবেষণামূলক প্রকাশনার কপি, অভিজ্ঞতার প্রমাণপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র, চারিত্রিক সনদপত্রের সত্যায়িত অনুলিপি সরবরাহ করতে হবে। কিন্তু চাকরিরত প্রার্থীকে অবশ্যই যথাযথ কর্তৃপক্ষের (এনওসি) মাধ্যমে আবেদন করতে বলা হলেও এনওসির সত্যায়িত অনুলিপির বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।

এছাড়া সরকারি/আধা-সরকারি/সায়ত্বশাসিত গবেষণা প্রতিষ্ঠান হতে আগত প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সক্রিয় শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা ঐ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সময়ের অর্ধেক সময়কাল বিবেচনা করা যেতে পারে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ থাকলেও, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।

এ বিষয়ে সাফিয়া আফরিন জানান, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলেও এনওসিকে কেন্দ্র করে তাকে অযোগ্যতা প্রমাণের চেষ্টা করছে একটি মহল। কিছু ভুঁইফোড় সংবাদমাধ্যমে এ নিয়ে মনগড়া রিপোর্টও করা হয় বলে জানান তিনি। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ স্বচ্ছতা ও যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যখন তিনি সব কাজ সম্পন্ন করে ফাইনাল ফলাফলের প্রত্যাশা করছেন, তখন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একটি পক্ষ তাকে ফলাফলের আগেই নিয়োগ বঞ্চিত করার সকল ধরনের চক্রান্ত করে যাচ্ছে। আর এ কারণে রিপোর্ট করার ক্ষেত্রে তার কোনো বক্তব্য না নিয়েই মনগড়া রিপোর্ট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সাফিয়া।

এদিকে সাফিয়া আফরিনের এনওসির বৈধতা প্রসঙ্গে স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এইচআরডি প্রধান এ কে এম আখতারুজ্জামান জানান, সাফিয়া আফরিন তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের একজন ফ্যাকাল্টি। তাকে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক পদে আবেদনের জন্য এনওসি দেয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আবেদনকৃত প্রতিষ্ঠানের বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এনওসির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপনের কোনো সুযোগ নেই কেননা প্রদানকৃত এনওসিতে মেয়াদোর্ত্তীর্ণের কোন নির্দিষ্ট তারিখ থাকেনা। একই পদে কর্মরত থাকা সাপেক্ষে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করতে পারবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

মাভাবিপ্রবিতে শিক্ষক নিয়োগ

রাষ্ট্রপতি স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত প্রার্থীকে বাদ দিতে ‘নীল নকশা’

আপডেট সময় ০৭:০৫:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) ফার্মেসি বিভাগের প্রভাষক নিয়োগ চূড়ান্ত হওয়ার আগে রাষ্ট্রপতি স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত সাবেক শিক্ষার্থীকে বাদ দিতে মরিয়া একটি পক্ষ। সাফিয়া আফরিন নামে এই প্রার্থী বর্তমানে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত। ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনাপত্তিপত্রসহ (এনওসি) আবেদন করলেও তার ফটোকপি যুক্ত না করাকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ প্রচারে নেমেছে পক্ষটি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রভাবশালী প্রার্থীকে সুবিধা দিতে যোগ্য প্রার্থীকে বাদ দেয়া প্রয়োজন। কিন্তু কোনোভাবে সেটি সম্ভব না হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির অস্পষ্টতার সুবিধা নিয়ে নিয়োগপ্রক্রিয়া এবং প্রার্থীকে বিতর্কিত করছেন সেই প্রভাবশালী প্রার্থীর ঘনিষ্ঠরা।

সাফিয়া আফরিন বিশ্ববিদ্যালয়টির ফার্মেসি বিভাগের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি বি.ফার্ম ও এম.ফার্ম উভয় পরীক্ষায় যথাক্রমে ৩.৯৮ ও ৩.৯৭ সিজিপিএ অর্জন করেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের সব অনুষদের মধ্যে সর্বোচ্চ ফলাফল করে রাষ্ট্রপতি স্বর্ণপদক লাভ করেন এবং প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের জন্য মনোনীত হন। পাশাপাশি তিনি ইউজিসি মেধাবৃত্তি, ইউনিভার্সিটি একাডেমিক জিনিয়াস অ্যাওয়ার্ডসহ বিভিন্ন সম্মাননা অর্জন করেন। বর্তমানে স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের ফার্মেসি বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত তিনি।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে অভিযোগ করা হয়, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ থাকলেও সাফিয়া যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করেননি। এরপরও তাকে বিশেষ সুবিধা দিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের ১২ আগস্ট বিভাগে নিয়োগ দিতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। পরবর্তীতে চলতি বছরের ১১ মে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর প্রেজেন্টেশন ও মৌখিক পরীক্ষাতেও অংশগ্রহণ করেন সাফিয়া আফরিন। পরবর্তীতে নিয়োগ কমিটি তাকে প্রাথমিকভাবে বাছাই করে। তবে এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে যে, সাফিয়া আফরিন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত মেনে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করেননি।

নথিপত্র বলছে, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে চাকরিরত প্রার্থীদের ক্ষেত্রে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদনের শর্ত আরোপ করা হয়েছিল। অর্থাৎ, বর্তমান কর্মস্থল থেকে অনাপত্তিপত্রের (এনওসি) প্রয়োজন রয়েছে। এক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি প্রার্থী স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়নি। সাফিয়া আফরিন শর্ত মেনে একটি এনওসি মূল আবেদনপত্রের সঙ্গে যুক্ত করেন। তবে ১০ সেট আবেদনপত্র চাওয়ার প্রেক্ষিতে, তিনি মূল আবেদনপত্র ছাড়া বাকিগুলোতে এনওসির অনুলিপি সংযুক্ত করেননি।

এ নিয়ে গত ২৪ জানুয়ারি বিভাগীয় প্ল্যানিং কমিটি রেজিস্ট্রারের কাছে একটি সুপারিশপত্র প্রেরণে করে। মূলত বিভাগীয় প্ল্যানিং কমিটির কাছে প্রেরিত আবেদনপত্রের মধ্যে ৮ জনের এনওসি পাওয়া যায়নি। এর প্রেক্ষিতে প্ল্যানিং কমিটি সুপারিশ করে বলে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদনের কপি মূল কপির সাথে সংযুক্ত আছে কিনা তা যাচাই করে ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করা হলো।

এনওসি না পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন তৎকালীন বিভাগীয় চেয়ারম্যান ও প্ল্যানিং কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান মোগলও। তিনি বলেন, প্ল্যানিং কমিটির সুপারিশ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয়েছে, পরে তারা আমাকে কিছু জানায়নি।

সাফিয়া আফরিনের সাথে এনওসি ব্যাপারে কথা বললে তিনি জানান, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ১০টি আবেদনপত্রের প্রতিটি সেটে এনওসি সংযুক্ত করার কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না। মূল আবেদনপত্রের সঙ্গেই এনওসি জমা দেয়া হয়েছিল। পরে বিভাগীয় প্রধানকে বিষয়টি অবহিত করার পাশাপাশি রেজিস্ট্রার অফিসেও তিনি যোগাযোগ করেন।

তিনি জানান, তার কর্মস্থল স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জন্য একবারই এনওসি ইস্যু করে। তাই নিয়োগ পরীক্ষার আগের দিন তিনি এনওসির একটি পুনঃইস্যুকৃত কপি সংগ্রহ করেন এবং মৌখিক পরীক্ষার সময় বোর্ডের চাহিদা অনুযায়ী তা প্রদর্শনও করেন।

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাধারণত বেসরকারি প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এনওসি বা যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদনের প্রয়োজনীয়তা নেই। এই শর্ত সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ওবায়দুর রহমান লিখেছেন, এনওসি কোনো যোগ্যতা বা মেধার মানদণ্ড নয়। এটি থাকা মূলত এই বিষয়টি নির্দেশ করে যে, একজন কর্মচারী যদি বর্তমান চাকরি ছেড়ে অন্য কোথাও যোগদান করতে চান, তাহলে তার বর্তমান নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ এতে আপত্তি করবে না। অন্যদিকে, কোনো ব্যক্তি এনওসি ছাড়াই অন্য প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য আবেদন করলে সেটিও অস্বাভাবিক নয়। এর অর্থ হতে পারে যে তিনি বর্তমান চাকরি থেকে পদত্যাগ করে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে আগ্রহী। এ ক্ষেত্রে তিনি নিজের পূর্ববর্তী চাকরি বা অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন নিয়ে উদ্বিগ্ন নন; বরং নতুন সুযোগ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি লিখেছেন, আমার জানা মতে, অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে এমন কোনো শর্ত থাকে না যে, এনওসি ছাড়া আবেদন করলে কোনো প্রার্থীকে অযোগ্য গণ্য করা হবে বা চাকরির জন্য বিবেচনা করা হবে না। তাই এনওসিকে প্রার্থীর যোগ্যতা নির্ধারণের উপাদান হিসেবে দেখার সুযোগ খুবই সীমিত।

ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুব্রত ব্যানার্জী লিখেছেন, একটি সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে যদি কাউকে নিয়োগ থেকে বঞ্চিত করা হয়, তাহলে সেটি চরম অন্যায় হবে। একজন শিক্ষার্থীকে এত ভালো ফলাফল করে এই পর্যায়ে পৌঁছাতে অনেক সংগ্রাম ও পরিশ্রম করতে হয়। যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন না করলে বিভাগীয় প্ল্যানিং কমিটি থেকেই তো আবেদনপত্র ফরওয়ার্ড করা হয় না। সেখানে ভাইভা ও নিয়োগের চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে এ ধরনের অভিযোগ তোলা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এমন একটি সিলি বা তুচ্ছ কারণে একজন মেধাবী প্রার্থীকে বঞ্চিত করা কোনোভাবেই ন্যায়সঙ্গত নয়।

একই কথা বলছেন খোদ বিভাগীয় প্ল্যানিং কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. মোছা. চাঁদ সুলতানা। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী প্রভাষক পদে নিয়োগের ক্ষেত্র এনওসি যোগ্যতার কোন শর্ত নয়। তবুও ৮ জন প্রার্থীর ক্ষেত্রে প্ল্যানিং কমিটিতে প্রাপ্ত আবেদনপত্রে এনওসি না থাকায় মূল আবেদনপত্র যাচাই ও পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য রেজিস্ট্রার অফিসে সুপারিশ পাঠানো হয়। এরপর বিষয়টি সম্পূর্ণ রেজিস্ট্রার অফিসের এখতিয়ার।

তিনি আরও বলেন, প্ল্যানিং কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে রেজিস্ট্রার অফিস আবেদনপত্রের তথ্য ও নথিপত্র যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে। এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর নিয়োগসংক্রান্ত বিষয়ে প্ল্যানিং কমিটির সদস্যদের কোনো প্রত্যক্ষ দায়িত্ব থাকে না। কোনো কমিটির সদস্যদের নিজেদের দেয়া সুপারিশ সম্পর্কে পরবর্তীতে ভিন্ন অবস্থান গ্রহণ করা প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ও সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের  রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ ওয়াহিদ বলেন, প্ল্যানিং কমিটির সুপারিশের পর মূল আবেদনপত্র পুনরায় যাচাই করে সাফিয়া আফরিনের এনওসি পাওয়া যায়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী তাকে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হয় এবং বিষয়টি প্ল্যানিং কমিটির সভাপতিকেও অবহিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে তৎকালীন প্ল্যানিং কমিটির সদস্য ও বর্তমান বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আশরাফ আলী বলেন, প্ল্যানিং কমিটির দেয়া সুপারিশের ভিত্তিতে রেজিস্ট্রার অফিস তা যাচাই করে সাফিয়া আফরিনের মূল আবেদনের সাথে এনওসি সংযুক্ত পাওয়া সাপেক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী তাকে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়। এক্ষেত্রে প্ল্যানিং কমিটি প্রাথমিক সুপারিশ করতে পারে, সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়িত্ব নয়।

তিনি আরও বলেন, এনওসিতে কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদ উল্লেখ না থাকায় সাফিয়া আফরিনের জমা দেয়া এনওসি অবৈধ বলার সুযোগ নেই। সাফিয়া আফরিনের মূল আবেদনে এনওসি যুক্ত থাকার বিষয়টি রেজিস্টার অফিস থেকে আমাকে জানানোর পর আমি প্ল্যানিং কমিটির সদস্যদের সঙ্গে সঙ্গেই অবহিত করেছি।

এনওসির ব্যাপারে প্ল্যানিং কমিটির আরেক সদস্য সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, আবেদনপত্র অনুযায়ী অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত প্রার্থীকে অবশ্যই এনওসি প্রদান করতে হবে। আবেদনকারীদের মধ্যে ৮ জনের এনওসি ছিল না বলে আমরা প্রাথমিকভাবে সুপারিশের জন্য পাঠাই। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের ব্যাপারে এনওসি আছে কি না, অথবা থাকলেও তা বৈধ কি না— সে বিষয়ে আমাদের জানায়নি।

তবে, সংশ্লিষ্ট ওই পদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায়, প্রার্থীর মার্কশিট/ট্রান্সক্রিপ্ট, সার্টিফিকেট, গবেষণামূলক প্রকাশনার কপি, অভিজ্ঞতার প্রমাণপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র, চারিত্রিক সনদপত্রের সত্যায়িত অনুলিপি সরবরাহ করতে হবে। কিন্তু চাকরিরত প্রার্থীকে অবশ্যই যথাযথ কর্তৃপক্ষের (এনওসি) মাধ্যমে আবেদন করতে বলা হলেও এনওসির সত্যায়িত অনুলিপির বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।

এছাড়া সরকারি/আধা-সরকারি/সায়ত্বশাসিত গবেষণা প্রতিষ্ঠান হতে আগত প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সক্রিয় শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা ঐ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সময়ের অর্ধেক সময়কাল বিবেচনা করা যেতে পারে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ থাকলেও, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।

এ বিষয়ে সাফিয়া আফরিন জানান, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলেও এনওসিকে কেন্দ্র করে তাকে অযোগ্যতা প্রমাণের চেষ্টা করছে একটি মহল। কিছু ভুঁইফোড় সংবাদমাধ্যমে এ নিয়ে মনগড়া রিপোর্টও করা হয় বলে জানান তিনি। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ স্বচ্ছতা ও যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যখন তিনি সব কাজ সম্পন্ন করে ফাইনাল ফলাফলের প্রত্যাশা করছেন, তখন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একটি পক্ষ তাকে ফলাফলের আগেই নিয়োগ বঞ্চিত করার সকল ধরনের চক্রান্ত করে যাচ্ছে। আর এ কারণে রিপোর্ট করার ক্ষেত্রে তার কোনো বক্তব্য না নিয়েই মনগড়া রিপোর্ট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সাফিয়া।

এদিকে সাফিয়া আফরিনের এনওসির বৈধতা প্রসঙ্গে স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এইচআরডি প্রধান এ কে এম আখতারুজ্জামান জানান, সাফিয়া আফরিন তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের একজন ফ্যাকাল্টি। তাকে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক পদে আবেদনের জন্য এনওসি দেয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আবেদনকৃত প্রতিষ্ঠানের বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এনওসির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপনের কোনো সুযোগ নেই কেননা প্রদানকৃত এনওসিতে মেয়াদোর্ত্তীর্ণের কোন নির্দিষ্ট তারিখ থাকেনা। একই পদে কর্মরত থাকা সাপেক্ষে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করতে পারবেন।