ঢাকা ০৬:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হিজড়াদের কাছে হেনস্তার শিকার এবি জুবায়ের, ধর্ষণ বলে পাল্টা অপপ্রচার

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৪:০২:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
  • / ২৮ বার পড়া হয়েছে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সিফাতুল্লাহ তাসনীমকে কয়েকজন তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি বা হিজড়া হেনস্তা করছেন, এমন একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। অনৈতিক ‘কাজ’ করিয়ে ঢাবির এই দুই শিক্ষার্থী টাকা দিচ্ছে না অভিযোগে ভিডিওতে তাদেরকে হেনস্থা করতে দেখা যায়। যা নিয়ে ঢাবি ক্যাম্পাসসহ নেটিজেনদের মাঝে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ ঘটনার চিত্র পুরো বিপরীত বলে দাবি করেছেন হেনস্তার শিকার এই দুই ঢাবি শিক্ষার্থী।
তারা বলছেন, হেনস্তার শিকার সিফাত নিউজ ডিকোডেড নামক একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমের ফ্যিল্যান্সার জার্নালিস্ট। কিছুদিন ধরে এই প্লাটফর্মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও শাহবাগ এলাকায় ট্রান্সজেন্ডার ও হিজড়াদের অবৈধ দেহ ব্যাবসার বিষয়টি তুলে ধরতে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের কাজ করছিলেন তিনি। এরই প্রেক্ষিতে গত সোমবার (২৭ জুলাই) রাতে রাজধানীর পরিবাগ এলাকার ওভারব্রিজ এলাকায় তথ্য সংগ্রহে যান তিনি। সঙ্গে তার বন্ধু ডাকসু নেতা জুবায়েরকেও নিয়ে যান। একই সঙ্গে তারা শাহবাগ থানায় বিষয়টি অবহিতও করেন। তথ্য সংগ্রহের এক পর্যায়ে পরিবাগ ওভারব্রিজে দেহব্যবসায় জড়িত হিজড়ারা তাদেরকে অপবাদ দিয়ে ভিডিও করে হেনস্তা করতে থাকেন এবং এক পর্যায়ে মারধরের প্রচেষ্টা চালান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরই মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) হিজড়াদের করা সেই হেনস্তার ভিডিওটির খণ্ডাংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে ডাকসুর সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক এবি জুবায়ের তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লেখেন, “আমার বন্ধু সাংবাদিক সিফাতুল্লাহ তাসনিম গতকাল পরিবাগ ব্রিজের ওপরে তৃতীয়লিঙ্গের কিছু মানুষের পতিতাবৃত্তির ব্যাপারে সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে যায়। সাথে করে আমাকেও নিয়ে যায়। আমি যাওয়ার পূর্বেই শাহবাগ থানা প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করে যাই এবং তাদেরকেও আসতে বলি।”
তিনি আরও লেখেন, “সেখানে যাওয়ার পরে সাংবাদিক বন্ধু তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গেলে তারা আক্রমণাত্মক হয়ে আসে এবং সিনক্রিয়েট করতে থাকে। হিজড়ারা কতটা বাজেভাবে সিনক্রিয়েট করতে পারে সবাই জানেন৷তারা পাল্টা ক্যামেরা অন করে বাজে কথাবার্তা বলে আমাদের ভিডিও করতে শুরু করে। আমার সাংবাদিক বন্ধুর গায়েও হাত তুলে তারা। এই পর্যায়ে পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়। এবং তারা তাদের মতো করে বিষয়টির সুরাহা করে।”
সবশেষে এবি জুবায়ের লেখেন, “পুরো বিষয়টি আগে থেকেই পুলিশ প্রশাসন জানে এবং তারাও সেখানে উপস্থিত ছিলো। অথচ এই সময়ের করা একটি মিথ্যা ভিডিও ছড়িয়ে আমার চরিত্রহননের হীন চেষ্টা করা হচ্ছে। আমি এর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।”
তাছাড়া, ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর শাহবাগ থানায় একটি জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করেছেন এবি জুবায়ের। এতে তিনি উল্লেখ করেন, ২৭ জুলাই রাত আনুমানিক ১১টা ৫৫ মিনিটে আমার বন্ধু সাংবাদিক সিফাতুল্লাহ তাসনীম গতকাল (সোমবার) পরিবাগ ব্রিজের ওপরে তৃতীয় লিঙ্গদের কিছু মানুষের পতিতাবৃত্তির ব্যাপারে সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে যায়। সাথে করে আমাকেও নিয়ে যায়। আমি যাওয়ার পূর্বেই শাহবাগ থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করে যাই এবং তাদেরকেও আসতে বলি। সেখানে যাওয়ার পরে সাংবাদিক বন্ধু তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গেলে তৃতীয়লিঙ্গের লোকজন আক্রমণাত্মক হয়ে আসে এবং সিনক্রিয়েট করতে থাকে। তারা ক্যামেরা অন করে বাজে কথাবার্তা বলে আমাদের ভিডিও করতে শুরু করে এবং আমার সাংবাদিক বন্ধুর গায়েও হাত তুলে। এই পর্যায়ে পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয় এবং তারা প্রাথমিকভাবে আইনগত উপায়ে বিষয়টির সুরাহা করে। পুরো বিষয়টি শুরু থেকেই থানাপুলিশ অবগত এবং তারাও সেখানে উপস্থিত ছিলো। অথচ ওই সময়ের করা একটি মিথ্যা ভিডিও ছড়িয়ে আমার এবং আমার সাংবাদিক বন্ধুর চরিত্রহননের হীন চেষ্টা করা হচ্ছে। আমি এর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।
অন্যদিকে, ভুক্তভোগী সাংবাদিক ও ঢাবি শিক্ষার্থী সিফাতুল্লাহ তাসনীম এক ভিডিও বার্তায় বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাস লাইফের শুরু থেকেই বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে লেখালেখি করে আসছি। একইসাথে ভোরের বাংলা নিউজের ঢাবি ক্যাম্পাস কারেসপোন্ডেন্ট এবং নিউজ ডিকোডেড-এ অনুসন্ধানী প্রতিবেদক (ফ্রিল্যান্সার জার্নালিস্ট) হিসেবে সাংবাদিকতা করে আসছি। গত সোমবার রাতের একটা ইস্যুকে কেন্দ্র করে অনলাইনে বিভিন্ন রকমের প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে। বিশেষ করে, ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়রকে নিয়ে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খুব কাছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও শাহবাগ এই এরিয়াগুলোতে ট্রান্সদের যে ঘৃণ্য দেহ ব্যবসা, এই সিন্ডিকেটের ব্যাপারে আমরা কাজ করে আসছিলাম। গত নয় মাস আগের একটি প্রতিবেদনও রয়েছে, ফেস দ্য পিপলে প্রকাশিত হয়েছে।”
তিনি বলেন, “রিসেন্টলি আবার ট্রান্সরা দেহব্যবসা নিয়ে আনাগোনা শুরু করে, এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আরেকটি অনুসন্ধান শুরু করি এবং তথ্য যোগার করতে পরিবাড় ব্রিজের ওখানে যাই। এসময় আমার বন্ধু ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদককে আমি নিয়ে যাই এবং বিষয়টি তিনি শাহবাগ থানাকে ইনফর্ম করেন, যেহেতু জায়গাটা আমাদের জন্য ইনসিকিউরড হতে পারে। দেহব্যবসায়ী ট্রান্সরা সিনক্রিয়েট কিংবা খারাপ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। যার কারণে সিকিউরিটি হিসেবে শাহবাগ থানাকে আমার বন্ধু অবহিত করে এবং আমি আমার জায়গা থেকে পেশাদারিত্ব বজায় রেখে তাদের সাথে সম্মান রেখে কথা বলি। তারা একটা পর্যায়ে হঠাৎ করে কয়েকটা প্রশ্নের প্রেক্ষিতে খুবই এগ্রেসিভ আচরণ করতে শুরু করে এবং  ক্যামেরা অন করে তারা মারমুখী আচরণ করতে শুরু করে।”
সিফাত আরও বলেন, “যেহেতু আমার কাছে পুরো ব্যাপারগুলো স্পষ্ট ছিল। আমি তাদের ক্যামেরায়ও বলেছি যে, আমি কি জন্য এখানে এসেছি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে ওই পুরো ভিডিওটা প্রচার না করে ভিডিওর একটা অংশে এগ্রেসিভ হয়ে একটা ট্রান্স একটা খুবই ঘৃণ্য ওয়ার্ড উচ্চারণ করেছে সেটিকে প্রুফ ধরে অনেকে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছেন। আর তারা যখন আমাদের সাথে মারমুখী আচরণ করতে শুরু করে। যেহেতু আমরা একটা আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান রাখি এবং সেই ধরনের একটি ফরমাল প্রসেসের মধ্য দিয়েই গিয়েছি। পরবর্তীতে শাহবাগ থানার মাধ্যমে এটার মধ্যস্থতা হয় এবং এই জিনিসটা সেখানে এক প্রকার শেষ হয়ে যায়। আমাদের যে তথ্যগুলো প্রয়োজন ছিল আমরা সেগুলো পেয়ে যাই। কিন্তু পরবর্তীতে আজকে রাতে হঠাৎ করে এই ভিডিওর একটা খন্ডিত অংশ নিয়ে যেভাবে করে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে। এটি খুবই দুঃখজনক। আমাদের বন্ধু জুবায়ের অলরেডি শাহবাগ থানায় জিডি করেছে। আমি এই পুরো ব্যাপারটার জন্য নিন্দা জানাচ্ছি। আর এই রিলেটেড যেই প্রুফ সেগুলো আমাদের কাছে রয়েছে।”
এ আগে সোমবার রাতেই দেওয়া আরেকটি পোস্টে সিফাত লেখেন, ‍“শাহবাগ থানার নাকের ডগায় এবং ঢাবি ক্যাম্পাসের ঠিক পাশে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এবং ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ের ফুটওভার ব্রিজের উপরে একটা তথাকথিত হিজড়া বা ট্রান্স সম্প্রদায় (আদতে এরা ছেলে, বাট মেয়ের বেশ ধরে থাকে) দেহ-ব্যবসা করে আসছে দীর্ঘদিন। আজকে আমি কিছু তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে আমার এক ফ্রেন্ডকে নিয়ে সেখানে গিয়ে তাদেরকে প্রশ্ন করতেই তারা আক্রমণাত্মক হয়ে তেড়ে আসে আমাদের দিকে এবং ক্যারেক্টার এসাসিনেশনের চেষ্টা করে (যদিও এগুলোর ভয় আমি পাই না। কজ, আমরা এই ইস্যু নিয়ে অনেকদিন ধরেই কাজ করে আসছি এবং ফেস দ্য পিপলসহ সংবাদ মাধ্যমে আমাদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনও রয়েছে)।
তিনি আরও লেখেন, “অবস্থা বেগতিক দেখে শাহবাগ থানার পুলিশ ফোর্স ডেকে কোনোরকমে আমি বের হয়ে আসি। কিন্ত শাহবাগ থানা পুলিশ ফোর্সকে উল্টো মনে হলে তারাই যেন ভয় পাচ্ছে! কীসের ভয় আমি জানি না। তবে এই ট্রান্স কিংবা সমকামী সম্প্রদায়ের পিছে অনেক বড় সিন্ডিকেট আছে এটা তো জানা কথাই! কিন্তু থানার একদম নাকের ডগায় এরকম অবৈধ একটা কাজ চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে, প্রশাসন সব জেনেও কোনো এক অদ্ভুত কারণে চুপ করে আছে। বরং অজানা একটা ভীতির মধ্যে আছে। এগুলোর বিরুদ্ধে তারা সেরকম কোনো একশন তো নেয়ই না; বরং আজকে হেল্প চাইলেও সেভাবে হেল্প করে না। তারা প্রতিনিয়ত পথচারীদের ডিস্টার্ব করে। এদের সিন্ডিকেট অনেক বড়। এগুলো দূর করতে প্রশাসনের সুদৃষ্টি দেয়া দরকার; আমাদেরও সচেতন হওয়া দরকার। নতুবা আগামী প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাবে। লুত আলাহিস সালামের কওমের ওপর আসা অভিশাপ আবির্ভূত হলে শুধু উদ্যানে হবে না, আমাদের সবার উপর হবে।”
ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

হিজড়াদের কাছে হেনস্তার শিকার এবি জুবায়ের, ধর্ষণ বলে পাল্টা অপপ্রচার

আপডেট সময় ০৪:০২:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সিফাতুল্লাহ তাসনীমকে কয়েকজন তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি বা হিজড়া হেনস্তা করছেন, এমন একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। অনৈতিক ‘কাজ’ করিয়ে ঢাবির এই দুই শিক্ষার্থী টাকা দিচ্ছে না অভিযোগে ভিডিওতে তাদেরকে হেনস্থা করতে দেখা যায়। যা নিয়ে ঢাবি ক্যাম্পাসসহ নেটিজেনদের মাঝে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ ঘটনার চিত্র পুরো বিপরীত বলে দাবি করেছেন হেনস্তার শিকার এই দুই ঢাবি শিক্ষার্থী।
তারা বলছেন, হেনস্তার শিকার সিফাত নিউজ ডিকোডেড নামক একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমের ফ্যিল্যান্সার জার্নালিস্ট। কিছুদিন ধরে এই প্লাটফর্মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও শাহবাগ এলাকায় ট্রান্সজেন্ডার ও হিজড়াদের অবৈধ দেহ ব্যাবসার বিষয়টি তুলে ধরতে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের কাজ করছিলেন তিনি। এরই প্রেক্ষিতে গত সোমবার (২৭ জুলাই) রাতে রাজধানীর পরিবাগ এলাকার ওভারব্রিজ এলাকায় তথ্য সংগ্রহে যান তিনি। সঙ্গে তার বন্ধু ডাকসু নেতা জুবায়েরকেও নিয়ে যান। একই সঙ্গে তারা শাহবাগ থানায় বিষয়টি অবহিতও করেন। তথ্য সংগ্রহের এক পর্যায়ে পরিবাগ ওভারব্রিজে দেহব্যবসায় জড়িত হিজড়ারা তাদেরকে অপবাদ দিয়ে ভিডিও করে হেনস্তা করতে থাকেন এবং এক পর্যায়ে মারধরের প্রচেষ্টা চালান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরই মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) হিজড়াদের করা সেই হেনস্তার ভিডিওটির খণ্ডাংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে ডাকসুর সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক এবি জুবায়ের তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লেখেন, “আমার বন্ধু সাংবাদিক সিফাতুল্লাহ তাসনিম গতকাল পরিবাগ ব্রিজের ওপরে তৃতীয়লিঙ্গের কিছু মানুষের পতিতাবৃত্তির ব্যাপারে সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে যায়। সাথে করে আমাকেও নিয়ে যায়। আমি যাওয়ার পূর্বেই শাহবাগ থানা প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করে যাই এবং তাদেরকেও আসতে বলি।”
তিনি আরও লেখেন, “সেখানে যাওয়ার পরে সাংবাদিক বন্ধু তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গেলে তারা আক্রমণাত্মক হয়ে আসে এবং সিনক্রিয়েট করতে থাকে। হিজড়ারা কতটা বাজেভাবে সিনক্রিয়েট করতে পারে সবাই জানেন৷তারা পাল্টা ক্যামেরা অন করে বাজে কথাবার্তা বলে আমাদের ভিডিও করতে শুরু করে। আমার সাংবাদিক বন্ধুর গায়েও হাত তুলে তারা। এই পর্যায়ে পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়। এবং তারা তাদের মতো করে বিষয়টির সুরাহা করে।”
সবশেষে এবি জুবায়ের লেখেন, “পুরো বিষয়টি আগে থেকেই পুলিশ প্রশাসন জানে এবং তারাও সেখানে উপস্থিত ছিলো। অথচ এই সময়ের করা একটি মিথ্যা ভিডিও ছড়িয়ে আমার চরিত্রহননের হীন চেষ্টা করা হচ্ছে। আমি এর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।”
তাছাড়া, ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর শাহবাগ থানায় একটি জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করেছেন এবি জুবায়ের। এতে তিনি উল্লেখ করেন, ২৭ জুলাই রাত আনুমানিক ১১টা ৫৫ মিনিটে আমার বন্ধু সাংবাদিক সিফাতুল্লাহ তাসনীম গতকাল (সোমবার) পরিবাগ ব্রিজের ওপরে তৃতীয় লিঙ্গদের কিছু মানুষের পতিতাবৃত্তির ব্যাপারে সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে যায়। সাথে করে আমাকেও নিয়ে যায়। আমি যাওয়ার পূর্বেই শাহবাগ থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করে যাই এবং তাদেরকেও আসতে বলি। সেখানে যাওয়ার পরে সাংবাদিক বন্ধু তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গেলে তৃতীয়লিঙ্গের লোকজন আক্রমণাত্মক হয়ে আসে এবং সিনক্রিয়েট করতে থাকে। তারা ক্যামেরা অন করে বাজে কথাবার্তা বলে আমাদের ভিডিও করতে শুরু করে এবং আমার সাংবাদিক বন্ধুর গায়েও হাত তুলে। এই পর্যায়ে পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয় এবং তারা প্রাথমিকভাবে আইনগত উপায়ে বিষয়টির সুরাহা করে। পুরো বিষয়টি শুরু থেকেই থানাপুলিশ অবগত এবং তারাও সেখানে উপস্থিত ছিলো। অথচ ওই সময়ের করা একটি মিথ্যা ভিডিও ছড়িয়ে আমার এবং আমার সাংবাদিক বন্ধুর চরিত্রহননের হীন চেষ্টা করা হচ্ছে। আমি এর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।
অন্যদিকে, ভুক্তভোগী সাংবাদিক ও ঢাবি শিক্ষার্থী সিফাতুল্লাহ তাসনীম এক ভিডিও বার্তায় বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাস লাইফের শুরু থেকেই বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে লেখালেখি করে আসছি। একইসাথে ভোরের বাংলা নিউজের ঢাবি ক্যাম্পাস কারেসপোন্ডেন্ট এবং নিউজ ডিকোডেড-এ অনুসন্ধানী প্রতিবেদক (ফ্রিল্যান্সার জার্নালিস্ট) হিসেবে সাংবাদিকতা করে আসছি। গত সোমবার রাতের একটা ইস্যুকে কেন্দ্র করে অনলাইনে বিভিন্ন রকমের প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে। বিশেষ করে, ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়রকে নিয়ে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খুব কাছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও শাহবাগ এই এরিয়াগুলোতে ট্রান্সদের যে ঘৃণ্য দেহ ব্যবসা, এই সিন্ডিকেটের ব্যাপারে আমরা কাজ করে আসছিলাম। গত নয় মাস আগের একটি প্রতিবেদনও রয়েছে, ফেস দ্য পিপলে প্রকাশিত হয়েছে।”
তিনি বলেন, “রিসেন্টলি আবার ট্রান্সরা দেহব্যবসা নিয়ে আনাগোনা শুরু করে, এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আরেকটি অনুসন্ধান শুরু করি এবং তথ্য যোগার করতে পরিবাড় ব্রিজের ওখানে যাই। এসময় আমার বন্ধু ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদককে আমি নিয়ে যাই এবং বিষয়টি তিনি শাহবাগ থানাকে ইনফর্ম করেন, যেহেতু জায়গাটা আমাদের জন্য ইনসিকিউরড হতে পারে। দেহব্যবসায়ী ট্রান্সরা সিনক্রিয়েট কিংবা খারাপ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। যার কারণে সিকিউরিটি হিসেবে শাহবাগ থানাকে আমার বন্ধু অবহিত করে এবং আমি আমার জায়গা থেকে পেশাদারিত্ব বজায় রেখে তাদের সাথে সম্মান রেখে কথা বলি। তারা একটা পর্যায়ে হঠাৎ করে কয়েকটা প্রশ্নের প্রেক্ষিতে খুবই এগ্রেসিভ আচরণ করতে শুরু করে এবং  ক্যামেরা অন করে তারা মারমুখী আচরণ করতে শুরু করে।”
সিফাত আরও বলেন, “যেহেতু আমার কাছে পুরো ব্যাপারগুলো স্পষ্ট ছিল। আমি তাদের ক্যামেরায়ও বলেছি যে, আমি কি জন্য এখানে এসেছি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে ওই পুরো ভিডিওটা প্রচার না করে ভিডিওর একটা অংশে এগ্রেসিভ হয়ে একটা ট্রান্স একটা খুবই ঘৃণ্য ওয়ার্ড উচ্চারণ করেছে সেটিকে প্রুফ ধরে অনেকে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছেন। আর তারা যখন আমাদের সাথে মারমুখী আচরণ করতে শুরু করে। যেহেতু আমরা একটা আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান রাখি এবং সেই ধরনের একটি ফরমাল প্রসেসের মধ্য দিয়েই গিয়েছি। পরবর্তীতে শাহবাগ থানার মাধ্যমে এটার মধ্যস্থতা হয় এবং এই জিনিসটা সেখানে এক প্রকার শেষ হয়ে যায়। আমাদের যে তথ্যগুলো প্রয়োজন ছিল আমরা সেগুলো পেয়ে যাই। কিন্তু পরবর্তীতে আজকে রাতে হঠাৎ করে এই ভিডিওর একটা খন্ডিত অংশ নিয়ে যেভাবে করে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে। এটি খুবই দুঃখজনক। আমাদের বন্ধু জুবায়ের অলরেডি শাহবাগ থানায় জিডি করেছে। আমি এই পুরো ব্যাপারটার জন্য নিন্দা জানাচ্ছি। আর এই রিলেটেড যেই প্রুফ সেগুলো আমাদের কাছে রয়েছে।”
এ আগে সোমবার রাতেই দেওয়া আরেকটি পোস্টে সিফাত লেখেন, ‍“শাহবাগ থানার নাকের ডগায় এবং ঢাবি ক্যাম্পাসের ঠিক পাশে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এবং ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ের ফুটওভার ব্রিজের উপরে একটা তথাকথিত হিজড়া বা ট্রান্স সম্প্রদায় (আদতে এরা ছেলে, বাট মেয়ের বেশ ধরে থাকে) দেহ-ব্যবসা করে আসছে দীর্ঘদিন। আজকে আমি কিছু তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে আমার এক ফ্রেন্ডকে নিয়ে সেখানে গিয়ে তাদেরকে প্রশ্ন করতেই তারা আক্রমণাত্মক হয়ে তেড়ে আসে আমাদের দিকে এবং ক্যারেক্টার এসাসিনেশনের চেষ্টা করে (যদিও এগুলোর ভয় আমি পাই না। কজ, আমরা এই ইস্যু নিয়ে অনেকদিন ধরেই কাজ করে আসছি এবং ফেস দ্য পিপলসহ সংবাদ মাধ্যমে আমাদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনও রয়েছে)।
তিনি আরও লেখেন, “অবস্থা বেগতিক দেখে শাহবাগ থানার পুলিশ ফোর্স ডেকে কোনোরকমে আমি বের হয়ে আসি। কিন্ত শাহবাগ থানা পুলিশ ফোর্সকে উল্টো মনে হলে তারাই যেন ভয় পাচ্ছে! কীসের ভয় আমি জানি না। তবে এই ট্রান্স কিংবা সমকামী সম্প্রদায়ের পিছে অনেক বড় সিন্ডিকেট আছে এটা তো জানা কথাই! কিন্তু থানার একদম নাকের ডগায় এরকম অবৈধ একটা কাজ চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে, প্রশাসন সব জেনেও কোনো এক অদ্ভুত কারণে চুপ করে আছে। বরং অজানা একটা ভীতির মধ্যে আছে। এগুলোর বিরুদ্ধে তারা সেরকম কোনো একশন তো নেয়ই না; বরং আজকে হেল্প চাইলেও সেভাবে হেল্প করে না। তারা প্রতিনিয়ত পথচারীদের ডিস্টার্ব করে। এদের সিন্ডিকেট অনেক বড়। এগুলো দূর করতে প্রশাসনের সুদৃষ্টি দেয়া দরকার; আমাদেরও সচেতন হওয়া দরকার। নতুবা আগামী প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাবে। লুত আলাহিস সালামের কওমের ওপর আসা অভিশাপ আবির্ভূত হলে শুধু উদ্যানে হবে না, আমাদের সবার উপর হবে।”