গাজার পয়ঃনিষ্কাশনের বর্জ্যের প্রভাবে ৫ পানি শোধনাগার বন্ধ; ইসরাইলে খাবার পানি সংকট
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
- আপডেট সময় ০৬:০৮:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ২৪ বার পড়া হয়েছে
গাজার ধ্বংসপ্রাপ্ত পয়ঃনিষ্কাশনের বর্জ্যের প্রভাবে ইসরাইলের ৬ টি লবণাক্ত পানি পরিশোধন কেন্দ্রের মধ্যে পাঁচটি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ইসরাইলজুড়ে খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট।
ওয়াইনেট ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের উদ্ধৃত তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের সময় গাজার বর্জ্য পানি পরিশোধন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রতিদিন প্রায় ৪০,০০০ ঘনমিটার অপরিশোধিত বর্জ্য পানি সমুদ্রে প্রবাহিত হচ্ছে।
বেন-গুরিয়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবায়ু পরিবর্তন গবেষণাগারের প্রধান আভনার গ্রস বলেছেন, শৈবালের প্রস্ফুটনের জন্য উষ্ণ পানি এবং ফসফরাস ও নাইট্রোজেনের মতো পুষ্টি উপাদান প্রয়োজন।
তিনি বলেন, স্যাটেলাইট চিত্রে মিশরের নীল ডেল্টার আশেপাশেও একই ধরনের শৈবালপূর্ণ জলরাশি দেখা গেছে, যেখান থেকে কৃষিজ বর্জ্য ভূমধ্যসাগরে গিয়ে মেশে।
গ্রস ওয়াইনেটকে বলেছেন, “আমাদের ক্ষেত্রে, দক্ষিণ গাজা উপত্যকার দূষণের উৎস ছাড়া বর্তমানে আমার কাছে অন্য কোনো ব্যাখ্যা নেই,”।
এক্স-এ গ্রস লিখেছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ভূমধ্যসাগরকে “আগস্ট মাসের একটি বাথটাবে” পরিণত করেছে।
তিনি লিখেছেন, “এর সাথে ফসফরাস ও নাইট্রোজেন দূষণ যোগ করলে মারাত্মক শৈবাল প্রস্ফুটন ঘটে।” “আকস্মিকভাবে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দুর্বল কিন্তু স্থির বাতাস ইসরায়েলের উপকূল বরাবর পয়ঃবর্জ্য থেকে আসা সারের সাথে মিশে যাচ্ছিল। এক নিখুঁত দুর্যোগ।”
বিজ্ঞানীরা এখনও এর কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ শনাক্ত করতে পারেননি। তবে তাদের মতে এই ঘটনার সম্ভাব্য ব্যাখ্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে সমুদ্রের উষ্ণতা বৃদ্ধি, প্রাকৃতিক স্রোত, নীল নদের ব-দ্বীপ থেকে আসা দূষণ, গাজা থেকে আসা অপরিশোধিত পয়ঃবর্জ্য অথবা একাধিক পরিবেশগত কারণের সংমিশ্রণ।
এদিকে ইসরায়েলের পানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্ধ হওয়া ৫ শোধনাগার বাদে গ্যালিলি সাগর, ভূগর্ভস্থ কূপ এবং জলাধার থেকে সরবরাহ বাড়িয়েছে এবং একই সাথে কিছু কৃষি ও গণসেচ সীমিত করেছে ইসরাইলী কর্তৃপক্ষ।
ট্যাগস :



















