ঢাকা ০৬:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমির হামজার মাহফিলের অনুমতি প্রত্যাখ্যান; সদুত্তর চেয়ে ফেসবুকে পোস্ট এমপি হামজার

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:৪৮:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২২ বার পড়া হয়েছে
কুষ্টিয়া ৩ আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজার তাফসির মাহফিলের অনুমতি না দেয়ায় প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এমপি আমির হামজা। গত ১৮ অক্টোবর ব্যক্তিগত ফেসবুক পেইজে পোস্ট দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এবিষয়ে সদুত্তর চান তিনি।
দীর্ঘ পোস্টে তিনি বলেন,
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি!
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আমি মুফতি আমির হামজা। রাজশাহীতে আমার একটি তাফসির মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ার ঘটনায় আমি গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করছি। প্রশাসনের কাছে আমার সরাসরি প্রশ্ন?কোন আইনি ও সুনির্দিষ্ট কারণে একটি ধর্মীয় মাহফিলের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হলো? নিরাপত্তার কোনো বাস্তব উদ্বেগ থাকলে তা যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করা হোক। কিন্তু অস্পষ্ট অভিযোগ বা অজুহাতে ধর্মীয় সমাবেশের অধিকার সীমিত করা হলে, সেই সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাও জরুরি।
আমার প্রশ্ন?রাজনীতি কি কোরআনের বাইরে? রাষ্ট্র, সমাজ, সুশাসন, দুর্নীতি, জুলুম ও মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলা কি ইসলামী শিক্ষার বাইরে?
পবিত্র কোরআন আমাদের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, অন্যায় থেকে বিরত থাকা, জুলুমের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং মানুষের অধিকার রক্ষার শিক্ষা দেয়। সমাজ ও রাষ্ট্রের অসংগতি নিয়ে আলোচনা করা কিংবা অন্যায়ের প্রতিবাদ জানানো যদি রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে বিবেচিত হয়, তাহলে সেই বক্তব্যের জবাব যুক্তি ও নীতির ভিত্তিতে দেওয়া হোক। কিন্তু রাজনৈতিক বক্তব্যের অভিযোগ তুলে একটি তাফসির মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হলো, তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা চাই।
আমি কি ন্যায়বিচার, সুশাসন ও মানুষের অধিকার নিয়ে আলোচনা করতে পারব না? ধর্মীয় আলোচনা ও রাষ্ট্রের নীতি নিয়ে মতপ্রকাশের মধ্যে পার্থক্য কোথায়, সেটিও স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
অতীতে শেখ হাসিনার সরকারের সময়ও ধর্মীয় বক্তাদের বক্তব্য ও মাহফিল ঘিরে বাধা এবং বিধিনিষেধের অভিযোগ উঠেছিল। আমরা আশা করেছিলাম, রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় অধিকার এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগত পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু আজকের এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলছে—সরকার পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণের মানসিকতা ও পদ্ধতিতে কি সত্যিই পরিবর্তন এসেছে?
আমার বক্তব্য কোনো ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানোর জন্য নয়; বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর চাওয়ার জন্য—ধর্মীয় আলোচনা, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলার সুযোগ কি সবার জন্য সমান থাকবে?
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,আশা করি আপনি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন এবং জনগণের সামনে এই সিদ্ধান্তের যথাযথ ব্যাখ্যা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।
ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আমির হামজার মাহফিলের অনুমতি প্রত্যাখ্যান; সদুত্তর চেয়ে ফেসবুকে পোস্ট এমপি হামজার

আপডেট সময় ০৩:৪৮:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
কুষ্টিয়া ৩ আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজার তাফসির মাহফিলের অনুমতি না দেয়ায় প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এমপি আমির হামজা। গত ১৮ অক্টোবর ব্যক্তিগত ফেসবুক পেইজে পোস্ট দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এবিষয়ে সদুত্তর চান তিনি।
দীর্ঘ পোস্টে তিনি বলেন,
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি!
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আমি মুফতি আমির হামজা। রাজশাহীতে আমার একটি তাফসির মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ার ঘটনায় আমি গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করছি। প্রশাসনের কাছে আমার সরাসরি প্রশ্ন?কোন আইনি ও সুনির্দিষ্ট কারণে একটি ধর্মীয় মাহফিলের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হলো? নিরাপত্তার কোনো বাস্তব উদ্বেগ থাকলে তা যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করা হোক। কিন্তু অস্পষ্ট অভিযোগ বা অজুহাতে ধর্মীয় সমাবেশের অধিকার সীমিত করা হলে, সেই সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাও জরুরি।
আমার প্রশ্ন?রাজনীতি কি কোরআনের বাইরে? রাষ্ট্র, সমাজ, সুশাসন, দুর্নীতি, জুলুম ও মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলা কি ইসলামী শিক্ষার বাইরে?
পবিত্র কোরআন আমাদের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, অন্যায় থেকে বিরত থাকা, জুলুমের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং মানুষের অধিকার রক্ষার শিক্ষা দেয়। সমাজ ও রাষ্ট্রের অসংগতি নিয়ে আলোচনা করা কিংবা অন্যায়ের প্রতিবাদ জানানো যদি রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে বিবেচিত হয়, তাহলে সেই বক্তব্যের জবাব যুক্তি ও নীতির ভিত্তিতে দেওয়া হোক। কিন্তু রাজনৈতিক বক্তব্যের অভিযোগ তুলে একটি তাফসির মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হলো, তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা চাই।
আমি কি ন্যায়বিচার, সুশাসন ও মানুষের অধিকার নিয়ে আলোচনা করতে পারব না? ধর্মীয় আলোচনা ও রাষ্ট্রের নীতি নিয়ে মতপ্রকাশের মধ্যে পার্থক্য কোথায়, সেটিও স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
অতীতে শেখ হাসিনার সরকারের সময়ও ধর্মীয় বক্তাদের বক্তব্য ও মাহফিল ঘিরে বাধা এবং বিধিনিষেধের অভিযোগ উঠেছিল। আমরা আশা করেছিলাম, রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় অধিকার এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগত পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু আজকের এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলছে—সরকার পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণের মানসিকতা ও পদ্ধতিতে কি সত্যিই পরিবর্তন এসেছে?
আমার বক্তব্য কোনো ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানোর জন্য নয়; বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর চাওয়ার জন্য—ধর্মীয় আলোচনা, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলার সুযোগ কি সবার জন্য সমান থাকবে?
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,আশা করি আপনি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন এবং জনগণের সামনে এই সিদ্ধান্তের যথাযথ ব্যাখ্যা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।