ঢাকা ০৬:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘শেখ মুজিবকে জাতির পিতা না বলায় হত্যার পর ছেলের মাথাকে বাপের ফুটবল বানানো হয়েছিল’- কবি আব্দুল হাই সিকদার

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০১:০২:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
  • / ৩৬ বার পড়া হয়েছে

শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা না বলায় হত্যার পর ছেলের মাথাকে বাপের ফুটবল বানানো হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক এবং দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) চেয়ারম্যান কবি আবদুল হাই শিকদার।

তিনি বলেছেন, ‘সিরাজ শিকদারের মতো একজন বড় দেশপ্রেমিক, সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখা বিপ্লবী ব্যক্তিত্বকে বিনা বিচারে ও নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে। তিনি সমাজ বদলানোর চিন্তা নিয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। গুম-খুনের সংস্কৃতি শুরু হয়েছিল আরও আগে, ৩০ জানুয়ারি থেকে। তবে সিরাজ শিকদার হত্যার মধ্য দিয়ে তা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়।’

সম্প্রতি ‘চিঠির শো’র প্লাটফর্মের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তাকে এসব কথা বলতে শোনা যায়।

এসময় কবি আবদুল হাই শিকদার বলেন, “২৫ মার্চের রাতে এক নেতা সুটকেস গুছিয়ে বসে ছিলেন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করার জন্য। পাকিস্তান বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণকারী প্রথম বাঙালি কে ছিলেন? নিশ্চয়ই শেখ মুজিবুর রহমান। শেখ মুজিব ১৯৭১ সালের ৭ নভেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তানের সঙ্গে একটি কনফেডারেশন করা যায় কি না, সেই চেষ্টা করেছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম আত্মস্বীকৃত খুনি হলেন শেখ মুজিবুর রহমান—পার্লামেন্ট তার সাক্ষী। তিনি বলেছিলেন, ‘সিরাজ শিকদার কোথায়?’ রাতে হত্যা করে এসে সকালে পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে তিনি বলছেন, ‘কোথায় সিরাজ শিকদার?’ আরে, এটি তো ভিলেনের অট্টহাসি, কোনো নায়কের অট্টহাসি নয়।”

তিনি বলেন, “সিরাজ শিকদারের মতো একজন বড় দেশপ্রেমিক, সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখা বিপ্লবী ব্যক্তিত্বকে বিনা বিচারে ও নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে। তিনি সমাজ বদলানোর চিন্তা নিয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। গুম-খুনের সংস্কৃতি শুরু হয়েছিল আরও আগে, ৩০ জানুয়ারি থেকে। তবে সিরাজ শিকদার হত্যার মধ্য দিয়ে তা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়। আরেকটি বিষয় হলো, ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষে সারা বাংলাদেশে অনাহারে ১৫ লাখ মানুষ মারা গিয়েছিল। অথচ খাদ্যের কোনো অভাব ছিল না। খাবার মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সবকিছু ভারতে পাচার হয়ে যাচ্ছিল। কিসিঞ্জার বলেছিলেন, বাংলাদেশ একটি ‘বটমলেস বাস্কেট’। অর্থাৎ বাংলাদেশকে যত সাহায্যই দেওয়া হোক, কিছুই অবশিষ্ট থাকে না।”

তিনি আরও বলেন, “বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশে এত সাহায্য এসেছিল যে, সেই সাহায্যের খাদ্য, চাল, ধান ও অর্থ দিয়ে পুরো দেশ ভরে দেওয়া সম্ভব ছিল। তাহলে সেই খাবার গেল কোথায়? সব পাচার হয়ে গেছে। তামা, কাঁসা, পিতল, সোনা—কিছুই অবশিষ্ট ছিল না। অমর্ত্য বলেছেন, এই দুর্ভিক্ষের মূল কারণ খাদ্যাভাব নয়; বরং অব্যবস্থাপনা। আর এই অব্যবস্থাপনার মধ্যে ছিল চুরি, ডাকাতি ও লুটপাট। আমার নিজের জেলা কুড়িগ্রামেই খাবারের অভাবে পাঁচ লাখ মানুষ মারা গিয়েছিল।”

সিরাজ শিকদারকে নিয়ে তিনি বলেন, “সিরাজ শিকদারকে হত্যা করার পর তার হত্যার বিচার হওয়া উচিত ছিল। এ ক্ষেত্রে পরবর্তী সরকারগুলোকেও আমি দায়ী করব। তারা কেন সিরাজ শিকদার হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করে বিচার করেনি? যারা মারা গেছেন, তাদের পরিচয় ও হত্যার ঘটনা তো চিহ্নিত করা সম্ভব ছিল। তাহলে কেন তা করা হয়নি? এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আমাদের দেশে এ রকম অনেক হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি, অথচ সেগুলোর বিচার হওয়া উচিত ছিল। কেন বিচার হয়নি?”

শেখ মুজিবের নামের আগে বঙ্গবন্ধু না বললে ‘জীব’ কেটে ফেলা হতো বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদের ধর্ম হলো, একজনকে দেবতা বানিয়ে দেওয়া। এরপর সেই দেবতার বিরুদ্ধে কোনো কথা বলা যাবে না, কোনো শব্দ করা যাবে না। কথা বললেই কল্লা চলে যাবে। শেখ মুজিবকে ‘জাতির পিতা’ হিসেবে স্বীকার করেনি—এমন অভিযোগে এক ছেলেকে হত্যা করে তার বাবাকে বাধ্য করা হয়েছিল ছেলের কাটা মাথা দিয়ে ফুটবল খেলতে। এই বাংলাদেশেই একজন বাবা তার ছেলের কর্তিত মাথা দিয়ে ফুটবল খেলেছেন। শেখ মুজিবের নামের আগে বঙ্গবন্ধু না বললে ‘জীব’ কেটে ফেলা হতো। এমন বাংলাদেশই শেখ মুজিব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।”

তিনি আরও বলেন, “১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ পর্যন্ত শেখ মুজিব নিঃসন্দেহে আমাদের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের একজন গুরুত্বপূর্ণ ও বিশাল ব্যক্তিত্ব ছিলেন। কিন্তু ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি থেকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত যে শেখ মুজিবকে দেখা গেছে, তিনি ছিলেন একজন জালেম ও অত্যাচারী শাসক। ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ প্রকাশিত বাংলাদেশ অবজারভার পত্রিকার প্রতিবেদনটি দেখে নিন। আমি শুধু দিন-তারিখ উল্লেখ করছি। সেখানে শেখ মুজিব কী বলেছেন, তা দেখুন। আমি এখানে স্বাধীনতার কথা বলছি না, বলছি স্বায়ত্তশাসনের কথা।”

সাংবাদিক ওরিয়ানা ফালাচিকে নিয়ে তিনি বলেন, “শেখ মুজিব ১৯৭১ সালের ৭ নভেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তানের সঙ্গে একটি কনফেডারেশন গঠন করা যায় কি না, তা চেয়েছিলেন। ১৯৭১ সালের ৭ নভেম্বর সাংবাদিক ওরিয়ানা ফালাচির সঙ্গে শেখ মুজিবের সাক্ষাৎকারটি পড়ুন। সেখানে দেখা যায়, শেখ মুজিব বলছেন, ‘আমি এগুলো সব রেডিওতে শুনেছি।’ তখন সাংবাদিক তাকে প্রশ্ন করেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি তো বলেছিলেন, আপনাকে অন্ধকার ঘরে রাখা হয়েছিল, কোনো রেডিও বা পত্রিকা দেওয়া হয়নি।’ এর উত্তরে শেখ মুজিব বলেন, ‘না, মানে মাঝে মাঝে পেতাম আরকি।’’

এ বিষয়ে তিনি আরও বলেন, “পৃথিবীখ্যাত সাংবাদিক ওরিয়ানা ফালাচির নেওয়া এই সাক্ষাৎকারটি ভালোভাবে পড়া উচিত। শেখ মুজিব সম্পর্কে তিনি কী বলেছেন এবং শেখ মুজিব নিজে কী বলেছেন, তা সেখানে পাওয়া যাবে। সাক্ষাৎকারটি রেকর্ড করা হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে ‘ইন্টারভিউ উইথ হিস্ট্রি’ নামে বই আকারে প্রকাশিত হয়। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বই।আওয়ামী লীগকে নিয়ে শেখ মুজিব নিজেই কী বলেছিলেন, সেটিও মনে রাখা দরকার। তিনি বলেছিলেন, ‘সবাই পায় চোরের দল, আমি পাই চাটার দল। সবাই পেল সোনার খনি, আমি পেলাম চোরের খনি।’ দলের লোকজনের কর্মকাণ্ডে রাগ, দুঃখ ও ক্ষোভ থেকেই তিনি এসব কথা বলেছিলেন।”

কবি আবদুল হাই শিকদার বলেন, “খান আতাউর রহমান ‘আবার তোরা মানুষ হ’ নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছিলেন। প্রশ্ন হলো, কাদের উদ্দেশে তিনি এই কথা বলেছিলেন? কারা তখন অমানুষ হয়ে গিয়েছিল? ১৯৭৩ ও ১৯৭৪ সালে কারা এমন কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছিল যে তাদের মানুষ হওয়ার আহ্বান জানাতে হয়েছিল? এমন একজন শেখ মুজিবকে দেবতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হলে অন্যদের অবদান মুছে ফেলতে হবে। মওলানা ভাসানীকে কৃতিত্ব দিলে তো আমার অবস্থান থাকে না। জেনারেল ওসমানীকে কৃতিত্ব দিলেও তো আমার অবস্থান থাকে না।”

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

‘শেখ মুজিবকে জাতির পিতা না বলায় হত্যার পর ছেলের মাথাকে বাপের ফুটবল বানানো হয়েছিল’- কবি আব্দুল হাই সিকদার

আপডেট সময় ০১:০২:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা না বলায় হত্যার পর ছেলের মাথাকে বাপের ফুটবল বানানো হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক এবং দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) চেয়ারম্যান কবি আবদুল হাই শিকদার।

তিনি বলেছেন, ‘সিরাজ শিকদারের মতো একজন বড় দেশপ্রেমিক, সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখা বিপ্লবী ব্যক্তিত্বকে বিনা বিচারে ও নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে। তিনি সমাজ বদলানোর চিন্তা নিয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। গুম-খুনের সংস্কৃতি শুরু হয়েছিল আরও আগে, ৩০ জানুয়ারি থেকে। তবে সিরাজ শিকদার হত্যার মধ্য দিয়ে তা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়।’

সম্প্রতি ‘চিঠির শো’র প্লাটফর্মের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তাকে এসব কথা বলতে শোনা যায়।

এসময় কবি আবদুল হাই শিকদার বলেন, “২৫ মার্চের রাতে এক নেতা সুটকেস গুছিয়ে বসে ছিলেন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করার জন্য। পাকিস্তান বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণকারী প্রথম বাঙালি কে ছিলেন? নিশ্চয়ই শেখ মুজিবুর রহমান। শেখ মুজিব ১৯৭১ সালের ৭ নভেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তানের সঙ্গে একটি কনফেডারেশন করা যায় কি না, সেই চেষ্টা করেছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম আত্মস্বীকৃত খুনি হলেন শেখ মুজিবুর রহমান—পার্লামেন্ট তার সাক্ষী। তিনি বলেছিলেন, ‘সিরাজ শিকদার কোথায়?’ রাতে হত্যা করে এসে সকালে পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে তিনি বলছেন, ‘কোথায় সিরাজ শিকদার?’ আরে, এটি তো ভিলেনের অট্টহাসি, কোনো নায়কের অট্টহাসি নয়।”

তিনি বলেন, “সিরাজ শিকদারের মতো একজন বড় দেশপ্রেমিক, সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখা বিপ্লবী ব্যক্তিত্বকে বিনা বিচারে ও নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে। তিনি সমাজ বদলানোর চিন্তা নিয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। গুম-খুনের সংস্কৃতি শুরু হয়েছিল আরও আগে, ৩০ জানুয়ারি থেকে। তবে সিরাজ শিকদার হত্যার মধ্য দিয়ে তা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়। আরেকটি বিষয় হলো, ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষে সারা বাংলাদেশে অনাহারে ১৫ লাখ মানুষ মারা গিয়েছিল। অথচ খাদ্যের কোনো অভাব ছিল না। খাবার মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সবকিছু ভারতে পাচার হয়ে যাচ্ছিল। কিসিঞ্জার বলেছিলেন, বাংলাদেশ একটি ‘বটমলেস বাস্কেট’। অর্থাৎ বাংলাদেশকে যত সাহায্যই দেওয়া হোক, কিছুই অবশিষ্ট থাকে না।”

তিনি আরও বলেন, “বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশে এত সাহায্য এসেছিল যে, সেই সাহায্যের খাদ্য, চাল, ধান ও অর্থ দিয়ে পুরো দেশ ভরে দেওয়া সম্ভব ছিল। তাহলে সেই খাবার গেল কোথায়? সব পাচার হয়ে গেছে। তামা, কাঁসা, পিতল, সোনা—কিছুই অবশিষ্ট ছিল না। অমর্ত্য বলেছেন, এই দুর্ভিক্ষের মূল কারণ খাদ্যাভাব নয়; বরং অব্যবস্থাপনা। আর এই অব্যবস্থাপনার মধ্যে ছিল চুরি, ডাকাতি ও লুটপাট। আমার নিজের জেলা কুড়িগ্রামেই খাবারের অভাবে পাঁচ লাখ মানুষ মারা গিয়েছিল।”

সিরাজ শিকদারকে নিয়ে তিনি বলেন, “সিরাজ শিকদারকে হত্যা করার পর তার হত্যার বিচার হওয়া উচিত ছিল। এ ক্ষেত্রে পরবর্তী সরকারগুলোকেও আমি দায়ী করব। তারা কেন সিরাজ শিকদার হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করে বিচার করেনি? যারা মারা গেছেন, তাদের পরিচয় ও হত্যার ঘটনা তো চিহ্নিত করা সম্ভব ছিল। তাহলে কেন তা করা হয়নি? এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আমাদের দেশে এ রকম অনেক হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি, অথচ সেগুলোর বিচার হওয়া উচিত ছিল। কেন বিচার হয়নি?”

শেখ মুজিবের নামের আগে বঙ্গবন্ধু না বললে ‘জীব’ কেটে ফেলা হতো বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদের ধর্ম হলো, একজনকে দেবতা বানিয়ে দেওয়া। এরপর সেই দেবতার বিরুদ্ধে কোনো কথা বলা যাবে না, কোনো শব্দ করা যাবে না। কথা বললেই কল্লা চলে যাবে। শেখ মুজিবকে ‘জাতির পিতা’ হিসেবে স্বীকার করেনি—এমন অভিযোগে এক ছেলেকে হত্যা করে তার বাবাকে বাধ্য করা হয়েছিল ছেলের কাটা মাথা দিয়ে ফুটবল খেলতে। এই বাংলাদেশেই একজন বাবা তার ছেলের কর্তিত মাথা দিয়ে ফুটবল খেলেছেন। শেখ মুজিবের নামের আগে বঙ্গবন্ধু না বললে ‘জীব’ কেটে ফেলা হতো। এমন বাংলাদেশই শেখ মুজিব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।”

তিনি আরও বলেন, “১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ পর্যন্ত শেখ মুজিব নিঃসন্দেহে আমাদের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের একজন গুরুত্বপূর্ণ ও বিশাল ব্যক্তিত্ব ছিলেন। কিন্তু ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি থেকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত যে শেখ মুজিবকে দেখা গেছে, তিনি ছিলেন একজন জালেম ও অত্যাচারী শাসক। ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ প্রকাশিত বাংলাদেশ অবজারভার পত্রিকার প্রতিবেদনটি দেখে নিন। আমি শুধু দিন-তারিখ উল্লেখ করছি। সেখানে শেখ মুজিব কী বলেছেন, তা দেখুন। আমি এখানে স্বাধীনতার কথা বলছি না, বলছি স্বায়ত্তশাসনের কথা।”

সাংবাদিক ওরিয়ানা ফালাচিকে নিয়ে তিনি বলেন, “শেখ মুজিব ১৯৭১ সালের ৭ নভেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তানের সঙ্গে একটি কনফেডারেশন গঠন করা যায় কি না, তা চেয়েছিলেন। ১৯৭১ সালের ৭ নভেম্বর সাংবাদিক ওরিয়ানা ফালাচির সঙ্গে শেখ মুজিবের সাক্ষাৎকারটি পড়ুন। সেখানে দেখা যায়, শেখ মুজিব বলছেন, ‘আমি এগুলো সব রেডিওতে শুনেছি।’ তখন সাংবাদিক তাকে প্রশ্ন করেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি তো বলেছিলেন, আপনাকে অন্ধকার ঘরে রাখা হয়েছিল, কোনো রেডিও বা পত্রিকা দেওয়া হয়নি।’ এর উত্তরে শেখ মুজিব বলেন, ‘না, মানে মাঝে মাঝে পেতাম আরকি।’’

এ বিষয়ে তিনি আরও বলেন, “পৃথিবীখ্যাত সাংবাদিক ওরিয়ানা ফালাচির নেওয়া এই সাক্ষাৎকারটি ভালোভাবে পড়া উচিত। শেখ মুজিব সম্পর্কে তিনি কী বলেছেন এবং শেখ মুজিব নিজে কী বলেছেন, তা সেখানে পাওয়া যাবে। সাক্ষাৎকারটি রেকর্ড করা হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে ‘ইন্টারভিউ উইথ হিস্ট্রি’ নামে বই আকারে প্রকাশিত হয়। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বই।আওয়ামী লীগকে নিয়ে শেখ মুজিব নিজেই কী বলেছিলেন, সেটিও মনে রাখা দরকার। তিনি বলেছিলেন, ‘সবাই পায় চোরের দল, আমি পাই চাটার দল। সবাই পেল সোনার খনি, আমি পেলাম চোরের খনি।’ দলের লোকজনের কর্মকাণ্ডে রাগ, দুঃখ ও ক্ষোভ থেকেই তিনি এসব কথা বলেছিলেন।”

কবি আবদুল হাই শিকদার বলেন, “খান আতাউর রহমান ‘আবার তোরা মানুষ হ’ নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছিলেন। প্রশ্ন হলো, কাদের উদ্দেশে তিনি এই কথা বলেছিলেন? কারা তখন অমানুষ হয়ে গিয়েছিল? ১৯৭৩ ও ১৯৭৪ সালে কারা এমন কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছিল যে তাদের মানুষ হওয়ার আহ্বান জানাতে হয়েছিল? এমন একজন শেখ মুজিবকে দেবতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হলে অন্যদের অবদান মুছে ফেলতে হবে। মওলানা ভাসানীকে কৃতিত্ব দিলে তো আমার অবস্থান থাকে না। জেনারেল ওসমানীকে কৃতিত্ব দিলেও তো আমার অবস্থান থাকে না।”