ঢাকা ০৮:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নিয়োগ ঠেকাতে শিক্ষককে ‘অপহরণের’ অভিযোগ ইবি ছাত্রদল আহ্বায়কের বিরুদ্ধে

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৫:৫১:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৩৫ বার পড়া হয়েছে

নিয়োগ ঠেকাতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট (ঞঐগ) বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম জুয়েলকে ‘অপহরণের’ অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদের বিরুদ্ধে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ বোর্ডে অংশ নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার জন্য বের হলে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়।

সূত্র জানায়, আনুমানিক সকাল ৯ টার দিকে ঝিনাইদহের বাসা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার জন্য বের হন শরিফুল ইসলাম জুয়েল। বাসার নিচেই ছাত্রদল আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ মোটরসাইকেলে করে তাকে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই অপহরণের সময়ের একটি সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যায়। যেখানে দেখা যায়, ছাত্রদল আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ মোটরসাইকেলে করে ওই শিক্ষককে উঠিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

এরপর থেকেই অপহরণ হওয়া শিক্ষকের ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছে তার সহকর্মী ও পরিবার। সকাল ১০টার মধ্যে নিয়োগ বোর্ডে উপস্থিত হওয়ার কথা থাকলেও তিনি এখনো সেখানে যাননি। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পরবর্তীতে বেলা পৌনে একটার দিকে শরিফুল ইসলামকে তার বাসায় দিয়ে যান সাহেদ।

শরিফুল ইসলামের ছোট ভাই বলেন, “সকালে ভাইয়া অসুস্থ থাকায় প্রথমে বোর্ডে যেতে চাননি। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক কর্মকর্তা কল দিয়ে গাড়ি পাঠানোর কথা বলেন। কিছুক্ষণ পর দেখি ভাইয়া নিচে নামতেই একটি মোটরসাইকেল এসে দাঁড়ায়। আমরা ভেবেছিলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি এসেছে। পরে এক গাড়িচালক হাসমত কল দিয়ে ভাইয়ার অবস্থান জানতে চাইলে বুঝতে পারি কিছু একটা গড়বড় হয়েছে। এরপর থেকে ভাইয়ার মোবাইল বন্ধ।”

বাসায় আসার পর শরিফুল ইসলাম জুয়েজ ফেসবুক লাইভে এসে বলেন, নিরাপত্তা ঝুকি ছিলো এখন আমি বাসায় আছি। নিরাপদে আছি।

অভিযোগ অস্বীকার করে ইবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ বলেন, “ট্যাুরিজম বিভাগের চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম জুয়েল সকালে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন। তিনি নিজেই আমাকে ফোন করে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন। আমি তাকে নিরাপত্তার জন্য সঙ্গে নিই। তিনি বর্তমানে ঝিনাইদহের নিজ বাসায় আছেন। প্রক্টর ও রেজিস্ট্রার তাকে হুমকি দিচ্ছিলেন এবং বিভাগের কয়েকজন শিক্ষককে নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই আমি তাকে সঙ্গ দিয়েছি।”

এছাড়া ফেসবুক লাইছে এসে সাহেদ আহম্মেদ অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহ প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা ট্যুরিজম বিভাগের সভাপতিকে হুমকি দিয়েছেন। এছাড়া বিভাগের সকল শিক্ষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করেছিলেন। এজন্য তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন।

এ ঘটনায় এখনো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে, এবং শিক্ষার্থীদের একটি অংশ অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছে।

 

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

নিয়োগ ঠেকাতে শিক্ষককে ‘অপহরণের’ অভিযোগ ইবি ছাত্রদল আহ্বায়কের বিরুদ্ধে

আপডেট সময় ০৫:৫১:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

নিয়োগ ঠেকাতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট (ঞঐগ) বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম জুয়েলকে ‘অপহরণের’ অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদের বিরুদ্ধে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ বোর্ডে অংশ নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার জন্য বের হলে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়।

সূত্র জানায়, আনুমানিক সকাল ৯ টার দিকে ঝিনাইদহের বাসা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার জন্য বের হন শরিফুল ইসলাম জুয়েল। বাসার নিচেই ছাত্রদল আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ মোটরসাইকেলে করে তাকে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই অপহরণের সময়ের একটি সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যায়। যেখানে দেখা যায়, ছাত্রদল আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ মোটরসাইকেলে করে ওই শিক্ষককে উঠিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

এরপর থেকেই অপহরণ হওয়া শিক্ষকের ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছে তার সহকর্মী ও পরিবার। সকাল ১০টার মধ্যে নিয়োগ বোর্ডে উপস্থিত হওয়ার কথা থাকলেও তিনি এখনো সেখানে যাননি। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পরবর্তীতে বেলা পৌনে একটার দিকে শরিফুল ইসলামকে তার বাসায় দিয়ে যান সাহেদ।

শরিফুল ইসলামের ছোট ভাই বলেন, “সকালে ভাইয়া অসুস্থ থাকায় প্রথমে বোর্ডে যেতে চাননি। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক কর্মকর্তা কল দিয়ে গাড়ি পাঠানোর কথা বলেন। কিছুক্ষণ পর দেখি ভাইয়া নিচে নামতেই একটি মোটরসাইকেল এসে দাঁড়ায়। আমরা ভেবেছিলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি এসেছে। পরে এক গাড়িচালক হাসমত কল দিয়ে ভাইয়ার অবস্থান জানতে চাইলে বুঝতে পারি কিছু একটা গড়বড় হয়েছে। এরপর থেকে ভাইয়ার মোবাইল বন্ধ।”

বাসায় আসার পর শরিফুল ইসলাম জুয়েজ ফেসবুক লাইভে এসে বলেন, নিরাপত্তা ঝুকি ছিলো এখন আমি বাসায় আছি। নিরাপদে আছি।

অভিযোগ অস্বীকার করে ইবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ বলেন, “ট্যাুরিজম বিভাগের চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম জুয়েল সকালে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন। তিনি নিজেই আমাকে ফোন করে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন। আমি তাকে নিরাপত্তার জন্য সঙ্গে নিই। তিনি বর্তমানে ঝিনাইদহের নিজ বাসায় আছেন। প্রক্টর ও রেজিস্ট্রার তাকে হুমকি দিচ্ছিলেন এবং বিভাগের কয়েকজন শিক্ষককে নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই আমি তাকে সঙ্গ দিয়েছি।”

এছাড়া ফেসবুক লাইছে এসে সাহেদ আহম্মেদ অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহ প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা ট্যুরিজম বিভাগের সভাপতিকে হুমকি দিয়েছেন। এছাড়া বিভাগের সকল শিক্ষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করেছিলেন। এজন্য তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন।

এ ঘটনায় এখনো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে, এবং শিক্ষার্থীদের একটি অংশ অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছে।