চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটে দাম বাড়ানোর রাজনীতি বন্ধ করব : ডা: শফিক
- আপডেট সময় ০১:১২:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
- / ২৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়ানোর রাজনীতি আমরা বন্ধ করব।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় গণসংযোগ ও প্রচারণায় তিনি এ কথা বলেন।
গতকাল বুধবার সকালে মিরপুর-১৫ এলাকায় নিজ নির্বাচনী আসনের সাধারণ মানুষের সাথে কুশল বিনিময় ও পথসভায় অংশ নিয়ে জামায়াত আমির একটি বৈষম্যহীন, নিরাপদ ও আধুনিক রাজধানী গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
গণসংযোগকালে তিনি মিরপুরবাসীর দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যাগুলো তুলে ধরে বলেন, এই এলাকা যানজট, জলাবদ্ধতা আর অপরাধের জনপদে পরিণত হয়েছে। আপনারা আমাদের দায়িত্ব দিলে আমরা মিরপুরসহ পুরো ঢাকাকে এমন এক নিরাপদ শহর হিসেবে গড়ে তুলব, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের জান, মাল ও ইজ্জতের পূর্ণ নিরাপত্তা থাকবে। তিনি বলেন, ‘যানজট আজ আমাদের নিত্যদিনের সমস্যা। বাস আছে, কিন্তু শৃঙ্খলা নেই। ফুটপাথ দখল হয়ে গেছে, মানুষ বাধ্য হয়ে রাস্তায় নামছে। এটি পরিকল্পিত অব্যবস্থাপনার ফল। আমাদের দায়িত্ব দিলে সঠিক ব্যবস্থাপনা ফিরিয়ে আনা হবে।’
তিনি বলেন, আমরা নির্বাচিত হলে বাস রুট ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনব। ঢাকায় মেট্রোরেলের পরিসর বাড়ানো হবে। ফুটপাথ দখলমুক্ত করা হবে। স্থানীয় রাস্তাগুলোর পরিকল্পিত ও টেকসই সংস্কার করা হবে। জাতীয় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে মিরপুরকে ঢাকার সাথে কার্যকরভাবে যুক্ত করা হবে।
আমির বলেন, ‘ঢাকায় নারীদের নিরাপত্তা আজ সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা। মা-বোনেরা চলাচলে নিরাপদ বোধ করেন না। ছিনতাই, মাদক, কিশোর গ্যাং- সব মিলিয়ে আতঙ্কের পরিবেশ। আমরা নারীদের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ব, ইনশাআল্লাহ। ঘর থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল, রাস্তাঘাট ও গণপরিবহন- সব জায়গায় নারীরা নিরাপদ থাকবে। সব ধর্মের মানুষ নিরাপদ থাকবে।’
তিনি বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত স্ট্রিট লাইট, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি, শক্তিশালী কমিউনিটি পুলিশিং, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি, মাদককে আর ‘সহ্য’ করা হবে না- প্রতিরোধ করা হবে।
তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আইটি ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করব, ফ্রিল্যান্সিং ও আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তুলব, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে, বিনা সুদে ঋণের ব্যবস্থা করব। মিরপুরের যুবক-যুবতীরা হাত পাতবে না, বরং উদ্যোগী হবে। দক্ষ হয়ে বেশি আয় করবে।
গণসংযোগকালে ডা: শফিকুর রহমানের সাথে ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির ও মিরপুর-১৫ আসনের নির্বাচন পরিচালক আবদুর রহমান মুসা এবং ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।
আমিরে জামায়াত আসন্ন নির্বাচনে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দিয়ে দেশ গড়ার সুযোগ দেয়ার জন্য মিরপুরবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
মিরপুরের মহিলা সমাবেশ : গতকাল বিকেলে রাজধানীর মিরপুরের মনিপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে নারী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন জামায়াত আমির। সমাবেশে কয়েক হাজার নারী ভোটার অংশগ্রহণ করেন। এ সময় স্টেজের সামনে ছোট শিশুদের খেলা করতে দেখা যায়। গণসংযোগকালে জামায়াতের আমিরের সাথে ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগর উত্তরের নায়েবে আমির মিরপুর-১৫ আসনের আসন পরিচালক আবদুর রহমান মুসা, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলামসহ বহু নেতাকর্মী।
জামায়াত আমির এ সময় রাসূল সা:-এর সময়ে যুদ্ধের ময়দানে নারীদের বীরত্বের সাথে লড়াইয়ের উদাহরণ দিয়ে বলেন, কিছু কিছু জায়গায় দুঃখজনকভাবে আমাদের মাদেরকে থামিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। আরো বেদনাদায়কভাবে কোনো কোনো জায়গায় হেনস্থা করা হচ্ছে। গায়ে হাত দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, যদি আর কেউ মায়েদের গায়ে হাত বাড়ানোর চেষ্টা করে, তাহলে আমরা গালে হাত দিয়ে বসে থাকব না; আমরা গর্জে উঠব।
তিনি বলেন, আল্লাহর দোহাই দিয়ে বলি এই কাজ তোমরা যারা করেছ তোমরা নিজের অনেক ক্ষতি করে ফেলেছ। একজন নিরীহ ঈমানদার দেশপ্রেমিক মায়ের হাতে গায়ে কেউ হাত দিলে আল্লাহর আরশ থরথর করে কেপে উঠবে। এই কাজ কেউ করবা না, যারা করেছ তোমরা তওবা করো। তোমরা মায়েদের কাছে ক্ষমা চাও, তোমরা ভবিষ্যতে এই ধরনের অপকর্মের চিন্তাও করবা না। আল্লাহ চাইলে তোমাদের ক্ষমা করে দিতে পারে। আমাদের মা’রাও তোমাদের ক্ষমা করে দিতে পারে। তবে মনে রাখবা যারা হজরতে খাদিজা, হজরতে নুসাইবা এবং হজরতে হিন্দার উত্তরসূরি তাদের চোখ রাঙানি দিয়ে থামিয়ে দেয়া যাবে না। তারা তাদের দায়িত্ব ঠিকমতোই পালন করবেন।
তিনি সমাবেশে নারীদের জন্য অঙ্গীকার তুলে ধরে বলেন, মায়েদের জন্য আলাদা সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। বেবি কর্নার, ব্রেস্টফিডিং কর্নার ও ডে-কেয়ার ব্যবস্থা রাখা হবে। মায়েদের জন্য নমনীয় কর্মঘণ্টা (৫ ঘণ্টা) প্রস্তাব করা হবে। সন্তান লালন-পালনের কারণে অনেক মা যেন চাকরি ছাড়তে বাধ্য না হন, সে জন্য ৫ ঘণ্টার কর্মঘণ্টার সুযোগ রাখা হবে। তবে কেউ চাইলে স্বেচ্ছায় ৮ ঘণ্টাও কাজ করতে পারবেন। মায়েদের ঝরে পড়া (ড্রপআউট) ঠেকানো রাষ্ট্রের দায়িত্ব। মাতৃত্বের কারণে কর্মক্ষেত্র থেকে মায়েদের বাদ পড়ে যাওয়া অন্যায়; রাষ্ট্রকেই এই গ্যাপ পূরণ করতে হবে। সব ধর্মের, সব পরিচয়ের মায়েদের জন্যই এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে। মার্কেট, সফর ও পাবলিক জায়গায় নারীদের জন্য ওয়াশরুম ও নামাজের জায়গার অভাব রয়েছে। এই ঘাটতি পূরণের আশ্বাস দেন তিনি।
একই সমাবেশে জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নুরুন্নেসা সিদ্দীকা বলেন, আমরা এক স্বৈরাচারের হাত থেকে মুক্ত হয়ে আরেক স্বৈরাচারের হাতে বন্দী হতে চাই না। যারা নির্বাচনের আগে নারীদের গায়ে হাত তুলছে, ভোটের পরও নারীরা তাদের কাছে নিরাপদ নয়। এ সময় কারচুপি ও প্রশাসনিক ইঞ্জিনিয়ারিং করে ভোটে জালিয়াতি করলে হাসিনার চেয়েও খারাপ পরিণতি হবে বলে হুঁশিয়ার করেন তিনি।
সমাবেশে নারীদের কাজে জামায়াতের আমিরের স্ত্রী ডা: আমেনা বেগম বলেন, সৎ ও আল্লাহভীরু নেতৃত্ব ছাড়া একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়। তিনি ইনসাফভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে দেশপ্রেমিক শক্তিকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান। ঢাকা-১৫ আসনের নির্বাচনী পরিবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই এলাকার মানুষ সবসময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকেছে। আগামী নির্বাচনেও তারা সচেতন সিদ্ধান্ত নিয়ে যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এরপর সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের পর রাজধানীর মিরপুর ১৩-এর হারম্যান মেইনার স্কুলের পেছনে ও ইশার নামাজের পর মিরপুর ১০ নাম্বার ফলপট্টি এলাকায় জনসংযোগ ও পথসভা করেন।


















