প্রতিমন্ত্রীর ছেলের নামে ইউনিয়নের নামকরণের নিউজ করায় ৪ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা
- আপডেট সময় ০৮:৫০:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
- / ৪২ বার পড়া হয়েছে
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের ছেলেদের নামে ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় ৪ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নিউজকে ভুয়া, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর দাবি করে ‘অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’-এর সম্পাদকসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন গুড়া প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ তানভীর আলম।
রোববার (১৫ জুন) বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর আমলী আদালতে বগুড়া প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ তানভীর আলম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
শুনানি শেষে আদালতের বিচারক মেহেদী হাসান অভিযোগটি আমলে নিয়ে মামলাটি এজাহার (এফ আই আর) হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানাকে আদেশ দিয়েছেন।
বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল ওহাব এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মামলার আবেদনে শুনানিতে অ্যাডভোকেট আবদুল ওহাব ছাড়াও অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন শহলসহ আরও ১৪-১৫ জন আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। মামলায় বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৫০০, ৫০১, ৫০৪ ও ১০৯ ধারায় অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযুক্তরা হলেন— দৈনিক ‘অগ্রযাত্রা প্রতিদিন এর প্রকাশক ও সম্পাদক মেহেদী হাসান, বার্তা সম্পাদক আশরাফ আলী ফারুকী, প্রতিবেদক সালেহ কায়সার এবং বগুড়া প্রতিনিধি শামস।
মামলার আবেদনে বলা হয়, বিবাদীরা পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ ও প্রচার করে বাদী এবং বগুড়ার সংসদ সদস্য ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলমের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়, গত ১২ জুন বগুড়া প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘এবার সাংবাদিকদের উপদেশ দিলেন রাস্তাকাণ্ডে বিতর্কিত প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম’ শিরোনামে একটি পোস্ট প্রচার করা হয়।
এছাড়া ১৩ জুন প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় সফর উপলক্ষে প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে উসকানিমূলক, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে।
বাদী তানভীর আলম তার আবেদনে উল্লেখ করেন, বিবাদীরা কোনো ধরনের নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব তথ্য প্রচার করেছেন। এর ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সুনাম ক্ষুণ্ণ হওয়ার পাশাপাশি জনমনে বিভ্রান্তি ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল ওহাব জানান, বাদীর আবেদন ও প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। আদালতের আদেশের পর মামলাটি সংশ্লিষ্ট থানায় প্রেরণ করা হবে এবং এজাহার হিসেবে রেকর্ড করে পরবর্তী আইনানুগ তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুল বাছেদ বলেন, ‘মামলার বিয়ষটি সম্পর্কে অবগত রয়েছি। আদালত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আমার বিশ্বাস।’



















