ঢাকা ০৯:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৪ নারীসহ ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বার আটক

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৬:৩২:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
  • / ২৫ বার পড়া হয়েছে

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় আসামাজিক কাজের অভিযোগে চার নারীসহ ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দিবাগত রাতে সাঘাটা উপজেলার ৪ নম্বর মুক্তিনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আহসান হাবিব লায়নের নিজস্ব বাগানবাড়িতে আপত্তিকর কার্যকলাপের খবর পেয়ে স্থানীয়রা সেখানে জড়ো হন। পরে তারা বাগানবাড়ি ঘেরাও করে চেয়ারম্যান লায়ন (৬২), ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আহসান হাবিব (৫০) এবং ৪ নারীকে আটক করেন। আটককৃতদের মধ্যে স্থানীয় কয়েকজন নারীও রয়েছেন বলে জানা গেছে।

খবর পেয়ে সাঘাটা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুব রহমান জানান, বিক্ষুব্ধ জনতা চেয়ারম্যানকে ঘিরে রেখেছিল। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে তাদের থানায় হেফাজতে নেয়। পরে তাদের মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

আটককৃত ইউপি চেয়ারম্যান আহসান হাবিব লায়ন এলাকার গোলাম কিবরিয়া সাজুর ছেলে। অন্যদিকে ইউপি সদস্য আহসান হাবিব ইউসুফ আলীর ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় ভিডিও ধারণ করতে গেলে চেয়ারম্যান লায়ন ক্ষিপ্ত হয়ে উপস্থিত জনতাকে হুমকি-ধামকি দেন। তার এই আচরণে বিক্ষুব্ধ জনতা আরও উত্তেজিত হয়ে ওঠে।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, রাতভর বাগানবাড়িতে নারীদের উপস্থিতি ও আপত্তিকর কার্যকলাপ নিয়ে এলাকায় আগে থেকেই গুঞ্জন ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে সেই গুঞ্জনকে কেন্দ্র করেই স্থানীয়রা সেখানে উপস্থিত হন এবং তাদের আটক করেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপটে আরও জটিলতা যোগ করেছে সম্প্রতি ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধী এক ব্যক্তির অভিযোগ। মাত্র ৩ দিন আগে রঞ্জু মিয়া নামের এক প্রতিবন্ধী ভুক্তভোগী চেয়ারম্যান লায়নের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেন।

ওই সংবাদ সম্মেলনে রঞ্জু মিয়া অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যানের ইন্ধনে তার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে। পাশাপাশি তাকে সামাজিকভাবে চরম হেনস্তা ও নির্যাতন করা হয়েছে। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বাগানবাড়ি থেকে নারীসহ আটকের ঘটনা এলাকায় আলোচনার ঝড় তুলেছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকে চেয়ারম্যানের বাড়ির আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকার সাধারণ মানুষ এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন এবং প্রশাসনের কাছে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করছেন।

সাঘাটা থানা পুলিশ বলছে, তারা ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে দেখছে। তবে আপাতত আটককৃতদের মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা কী, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে থানা কর্তৃপক্ষ।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের নজরে এসেছে। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার পর থেকে এলাকাবাসী চেয়ারম্যান লায়নের পদত্যাগের দাবি জানাচ্ছেন। তারা বলছেন, এর আগেও চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ থাকলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এবার প্রশাসন যেন কঠোর পদক্ষেপ নেয়।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, চেয়ারম্যান লায়ন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিতর্কে জড়িত ছিলেন। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধী রঞ্জু মিয়ার বাড়িতে হামলার অভিযোগ এবং এবারের ঘটনা প্রশাসনের কাছে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত চেয়ারম্যান লায়ন ও ইউপি সদস্য আহসান হাবিবের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি তদন্তাধীন বলেই জানিয়েছে পুলিশ।

নিউজটি শেয়ার করুন

৪ নারীসহ ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বার আটক

আপডেট সময় ০৬:৩২:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় আসামাজিক কাজের অভিযোগে চার নারীসহ ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দিবাগত রাতে সাঘাটা উপজেলার ৪ নম্বর মুক্তিনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আহসান হাবিব লায়নের নিজস্ব বাগানবাড়িতে আপত্তিকর কার্যকলাপের খবর পেয়ে স্থানীয়রা সেখানে জড়ো হন। পরে তারা বাগানবাড়ি ঘেরাও করে চেয়ারম্যান লায়ন (৬২), ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আহসান হাবিব (৫০) এবং ৪ নারীকে আটক করেন। আটককৃতদের মধ্যে স্থানীয় কয়েকজন নারীও রয়েছেন বলে জানা গেছে।

খবর পেয়ে সাঘাটা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুব রহমান জানান, বিক্ষুব্ধ জনতা চেয়ারম্যানকে ঘিরে রেখেছিল। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে তাদের থানায় হেফাজতে নেয়। পরে তাদের মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

আটককৃত ইউপি চেয়ারম্যান আহসান হাবিব লায়ন এলাকার গোলাম কিবরিয়া সাজুর ছেলে। অন্যদিকে ইউপি সদস্য আহসান হাবিব ইউসুফ আলীর ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় ভিডিও ধারণ করতে গেলে চেয়ারম্যান লায়ন ক্ষিপ্ত হয়ে উপস্থিত জনতাকে হুমকি-ধামকি দেন। তার এই আচরণে বিক্ষুব্ধ জনতা আরও উত্তেজিত হয়ে ওঠে।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, রাতভর বাগানবাড়িতে নারীদের উপস্থিতি ও আপত্তিকর কার্যকলাপ নিয়ে এলাকায় আগে থেকেই গুঞ্জন ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে সেই গুঞ্জনকে কেন্দ্র করেই স্থানীয়রা সেখানে উপস্থিত হন এবং তাদের আটক করেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপটে আরও জটিলতা যোগ করেছে সম্প্রতি ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধী এক ব্যক্তির অভিযোগ। মাত্র ৩ দিন আগে রঞ্জু মিয়া নামের এক প্রতিবন্ধী ভুক্তভোগী চেয়ারম্যান লায়নের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেন।

ওই সংবাদ সম্মেলনে রঞ্জু মিয়া অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যানের ইন্ধনে তার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে। পাশাপাশি তাকে সামাজিকভাবে চরম হেনস্তা ও নির্যাতন করা হয়েছে। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বাগানবাড়ি থেকে নারীসহ আটকের ঘটনা এলাকায় আলোচনার ঝড় তুলেছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকে চেয়ারম্যানের বাড়ির আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকার সাধারণ মানুষ এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন এবং প্রশাসনের কাছে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করছেন।

সাঘাটা থানা পুলিশ বলছে, তারা ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে দেখছে। তবে আপাতত আটককৃতদের মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা কী, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে থানা কর্তৃপক্ষ।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের নজরে এসেছে। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার পর থেকে এলাকাবাসী চেয়ারম্যান লায়নের পদত্যাগের দাবি জানাচ্ছেন। তারা বলছেন, এর আগেও চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ থাকলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এবার প্রশাসন যেন কঠোর পদক্ষেপ নেয়।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, চেয়ারম্যান লায়ন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিতর্কে জড়িত ছিলেন। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধী রঞ্জু মিয়ার বাড়িতে হামলার অভিযোগ এবং এবারের ঘটনা প্রশাসনের কাছে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত চেয়ারম্যান লায়ন ও ইউপি সদস্য আহসান হাবিবের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি তদন্তাধীন বলেই জানিয়েছে পুলিশ।