হল সুপারের সিদ্ধান্তে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে বিজয় ২৪ হলের শিক্ষার্থীরা
- আপডেট সময় ০৮:১৪:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
- / ৪৫ বার পড়া হয়েছে
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) বিজয় ২৪ হলের নবনিযুক্ত হল সুপার প্রফেসর ড. নিজাম উদ্দীনের একের পর এক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র কয়েক মাসের মাথায় হলের মৌলিক সুযোগ-সুবিধা সংকোচন এবং পরিবেশগত বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে হল প্রশাসনের বিরুদ্ধে একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড় অভিযোগ হলের নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিয়ে। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে হলে চলমান নিরাপদ পানির সুব্যবস্থা হঠাৎ করেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মোটরের সুইচ খুলে দিয়ে তাদেরকে নোংরা ট্যাঙ্কের পানি পানে বাধ্য করা হচ্ছে, যার ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা সরাসরি চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের মৌলিক চাহিদা নিরাপদ পানির নিশ্চয়তাকে অগ্রাহ্য করছে বলে ক্ষোভ জানান তা
শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, কোনো পর্যাপ্ত সময় না দিয়েই বর্তমান থিসিস বা মাস্টার্সে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। নতুন শিক্ষার্থী তোলার জন্য এভাবে চাপ সৃষ্টি করা কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। এছাড়া হলের ছাদে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের কাপড় শুকানো, খোলা পরিবেশে সময় কাটানো কিংবা নিভৃতে পরিবারের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের আপত্তি উপেক্ষা করে বারবার তালা দেওয়ার ফলে হলের দরজা ও তালা ভাঙচুরের মতো সম্পদের ক্ষতিও হচ্ছে।
হলে কুকুরের উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে উল্লেখ করে শিক্ষার্থীরা জানান, ইতোমধ্যে একাধিক শিক্ষার্থী কুকুরের আক্রমণের শিকার হলেও হল প্রশাসন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। তদুপরি, হলের বড় ডাস্টবিনগুলো সরিয়ে ছোট বালতি সদৃশ ডাস্টবিন বসানোয় কুকুর-বিড়াল সহজেই ময়লা-আবর্জনা চারদিকে ছড়িয়ে দিচ্ছে। এতে বিভিন্ন ফ্লোরে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং হলের পরিবেশ দিন দিন অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠছে।
হলে অবস্থানরত একাধিক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তারা হলের নিয়মানুবর্তিতা বা শৃঙ্খলার বিরোধী নন। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতামত ও সুযোগ-সুবিধা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে একের পর এক সিদ্ধান্ত এভাবে চাপিয়ে দিলে অসন্তোষ তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। হলের পরিবেশ শান্ত রাখতে এবং শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে হল সুপার দ্রুত শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা করে এই সমস্যাগুলোর সমাধান করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বিজয় ২৪ হলের হল সুপার অধ্যাপক ড. মোঃ নিজাম উদ্দিন বলেন, “মোটরের সুইচ বন্ধ করা হয়নি, বরং পানির অপচয় রোধে লিমিটেশন (সীমাবদ্ধতা) আনা হয়েছে। প্রতিটি ফ্লোরে একাধিক মোটর সংযোগ থাকায় আমরা পানির অপচয় লক্ষ্য করেছি। তাই অপচয় রোধে ফ্লোরগুলোতে মোটরের সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছে।”





















