চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীকে গরম রড দিয়ে ছ্যাঁকা দিলেন শ্রমিক দল নেতা
- আপডেট সময় ০৪:১২:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
- / ২০ বার পড়া হয়েছে
গাজীপুরের শ্রীপুরে চাঁদা না দেওয়ায় এক ব্যবসায়ীকে দোকান থেকে তুলে নিয়ে গরম রড দিয়ে ছ্যাঁকা এবং পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগে মামলা হয়েছে জেলা শ্রমিক দল নেতা শরীফের বিরুদ্ধে। ব্যবসায়ী সজিব মিয়াকে উদ্ধার করে প্রথমে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার আহত ব্যবসায়ীর মা মোছা. খালেদা আক্তার শ্রীপুর মডেল থানায় করা এজাহারে এ অভিযোগ করেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার টেপিরবাড়ী (দেওচালা) এলাকার বাসিন্দা ও এমসি বাজারের ফার্নিচার ও ইলেকট্রনিক্স ব্যবসায়ী সজিব মিয়া (৩০) দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে গাজীপুর জেলা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শরীফের নেতৃত্বে সঙ্ঘবদ্ধ দল তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সজিব চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে রড, বাঁশের লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করে জোরপূর্বক একটি প্রাইভেটকারে তুলে নিয়ে যায়। অভিযোগে আরও বলা হয়, পরে তাকে শরীফ সরকারের বাড়ির নিচতলার একটি কক্ষে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে গ্যাসের চুলায় লোহার রড গরম করে দুই পা ও বাম হাতে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়। এছাড়া গরম রড ও লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। এতে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে যায় এবং গুরুতর জখম হন। নির্যাতনের একপর্যায়ে ব্যবসায়ী সজিব অচেতন হয়ে পড়েন।
স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ বুধবার রাত দেড়টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে সজিবকে উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় শরীফ সরকার, ড্রাইভার মুন্না, আনোয়ার হোসেন ও সুজন মিয়াসহ চারজনের নাম উলেখ করে এবং আরও ১০ থেকে ১২ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে শ্রীপুর মডেল থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে। এজাহারে জেলা শ্রমিক দল নেতা শরীফের নেতৃত্বে হামলার কথা উলেখ করা হয়েছে।
শ্রীপুর মডেল থানার ওসি বলেন, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



















