ঢাকা ০৬:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এনসিপি নেতাদের উপর হামলাকে মিলেমিশে উদযাপন করছেন বিএনপি-ছাত্রদল-আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৪:৫০:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
  • / ২২ বার পড়া হয়েছে
হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে শহরের স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা এ হামলা চালান বলে জানা গেছে। ঘটনাটি নিয়ে সারাদেশে আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। অনেক সংগঠন ও ব্যক্তিবর্গ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
তবে এর ব্যতিক্রম হিসেবে দেখা যাচ্ছে, বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অনেকে এই হামলাকে উদযাপন করছেন এবং হামলাকারীদেরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, এ কর্মসূচিতে নিজেদেরকে যুক্ত করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও হামলাকারীদেরকে বাহবা দিচ্ছেন।
বুধবার (২৯ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ঘাঁটাঘাঁটি করে এসব তথ্য পেয়েছে দ্য ঢাকা ডায়েরি। যেগুলোতে ছাত্রদল ও বিএনপিসহ এর অঙ্গসংগন এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদেরকে এনসিপির ওপর সংঘটিত হামলাকে সাধুবাদ জানাতে দেখা গেছে।
খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর শেয়ার করা ছাত্রদলের হামলার ভিডিওটি ফেসবুকের নিজ টাইমলাইনে পোস্ট করেন চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক অনিক খান। এ পোস্টের ক্যাপশনে তিনি হামলায় অংশ নেওয়া নেতাদেরকে মেনশন করে ধন্যবাদ জানান। তিনি ক্যাপশনে লেখেন, “Asiful Islam Emon ভাই, Mujakkir Hossan Emon ভাই, নাজমুল হোসেন অনি ভাই, আল সাইমুম ভাই। ধ্যনবাদ ভাই আপনাদেরকে; নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীর হে** ভাংগি দেওয়ার জন্য।”
ফেসবুক ঘেঁটে দেখা যায়, অনিক খানের অভিনন্দন জানানো ব্যক্তিরা যেমন- নাজমুল হোসেন অনি হবিগঞ্জ পৌর শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব, আসিফুল ইসলাম ইমন সদস্য, মুজাক্কির হোসেন ইমন হবিগঞ্জ পৌর বিএনপির সহ-ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক এবং আল সাইমুম জিয়া সাইবার ফোর্স কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-প্রচার সম্পাদক।
তাদের মধ্যকার আল সাইমুম তার ফেসবুক পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারিকে ইঙ্গিত করে লেখেন, “হবিগঞ্জে মহিলাদের ‘বোরকার’ একটা বিশেষ পরিচিতি আছে। এটা হবিগঞ্জের ইতিহাসে ঐতিহাসিকভাবে দুইবার ব্যবহার হয়েছে প্রথমবার ০৪ আগস্ট ২০২৪ হবিগঞ্জের সাবেক এমপি আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু জাহির পালানোর সময় আর দ্বিতীয়বার হলো গতকাল এনসিপির নেতা নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারী বোরকা পড়ে পালানোর সময়।”
এর আগে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ছবিযুক্ত এক পোস্টে ব্যঙ্গাত্মক ভাষায় লেখেন, “ভাইয়া গতকাল সারজিসকে রেখে পালিয়ে গেলেন কেন? বেচারা একা একা মাইরটা খাইছে। আজকে নাকি শুনলাম আপনি আসবেন না হবিগঞ্জে? আইসেন আইসেন প্লিজ…. আপনার সাথে আমাদের আসল খেলাটাই এখনো হয়নি….। আপনার জন্য হবিগঞ্জের বিখ্যাত আদি গোপালের মিষ্টি রেডি করতেছি।”
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর শেয়ার করা ছাত্রদলে হামলার ভিডিওটি নিজ টাইমলাইনে পোস্ট করে মুজাক্কির হোসেন ইমন লেখেন, “একবার ধরতে পারলে মনের মানুষ, ছেড়ে যেতে আর দিবো না”
এরপর দেওয়া আরেকটি পোস্টে ইমন লেখেন, “আমরা জুলাই বিপ্লবের সময় সম্মুখ সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছি। হবিগঞ্জের রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে আমাদেরও অবদান রয়েছে। তাই আমাদের নিয়ে কোনো অশালীন, কুরুচিপূর্ণ বা অসম্মানজনক মন্তব্য করলে তা হবিগঞ্জের মানুষ মেনে নেবে না। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু সম্মান ও শালীনতার সীমা অতিক্রম করলে তার প্রতিবাদ অবশ্যই করা হবে। মনে রাখতে হবে— হবিগঞ্জের মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবসময় ঐক্যবদ্ধ।”
বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক আশিকুর রহমান তার ফেসবুক টাইমলাইনে এনসিপিকে ইঙ্গিত করে লেখেন, “হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল হাসিনারেই গুনতো না। আর তোমরা তো চুনোপুঁটি।”
এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল ছাত্রদলের সদস্য সচিব মনসুর আহমেদ রাফি ফেসবুকে লেখেন, “চোরের দশদিন, গৃহস্থের একদিন।” এই পোস্টে ব্যাখ্যায় রাফি আরেকটি পোস্টে লেখেন, “আমি বলছি চোরের দশদিন ,চোর বলতে বুঝাইছি Fifa & AFA। তোরা নিজেরে রে যে চোর মনে করিস তা তো জানতাম না! অবশ্য ছাত্রলীগ পুনর্বাসন কেন্দ্রে পরিণত হওয়া সংগঠন তো নিজেকে চোরই ভাববে, মাই ব্যাড।”
এছাড়াও, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদেরকে এনসিপির ওপর এ হামলা উদযাপন করতে দেখা গেছে। এরই ধারাবাহিকতায়, গোলাপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক রুমেল সিরাজ তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লেখেন, “ অসংখ্য ধন্যবাদ হবিগঞ্জ ছাত্রদল। মবের জনক’রা মবের শিকার জুলাইয়ে। যেভাবে উত্থান সেভাবে পতন নিশ্চিত। সার্ভিস ডার্বি কি খবর? জুলাই বিজনেস শেষ। প্রকৃতি কারোরই ঋণ রাখেনা!”
জাকির হোসাইন নামে এক আওয়ামী লীগ কর্মী তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এনসিপির ওপর হামলার একটি ভিডিও শেয়ার করে ক্যাপশন করে লেখেন, “গতকাল এভাবেই এনসিপির নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীকে পাগলা মলম লাগিয়েছিল। হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল।”
এছাড়াও, গতকাল মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতেই এনসিপি নেতৃবৃন্দ কর্তৃক বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে উস্কানিমূলক মিথ্যাচার ও কটূক্তির অভিযোগ তুলে হবিগঞ্জ জেলা শাখা হবিগঞ্জের সকল উপজেলা, পৌরসভা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একদিনব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
প্রসঙ্গত, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সীমান্ত সুরক্ষার দাবিতে আয়োজিত ‘জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে জেলার আজমিরীগঞ্জে এনসিপির সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বিকেল ৬টার দিকে হবিগঞ্জ শহরের টাউন হলের সামনে সমাবেশ শেষে সার্কিট হাউসে ফেরার পথে কোর্ট মসজিদ এলাকায় স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এনসিপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেন। এতে উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ কয়েকজন আহত হন। তাছাড়া, আলিফ চৌধুরী নামে এক যুবশক্তি নেতার চোখে রডের আঘাত লেখে দৃষ্টিশক্তি হারানোর উপক্রম হয়েছে বলে জানিয়েছেন সারজিস আলম।
ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

এনসিপি নেতাদের উপর হামলাকে মিলেমিশে উদযাপন করছেন বিএনপি-ছাত্রদল-আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা

আপডেট সময় ০৪:৫০:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে শহরের স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা এ হামলা চালান বলে জানা গেছে। ঘটনাটি নিয়ে সারাদেশে আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। অনেক সংগঠন ও ব্যক্তিবর্গ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
তবে এর ব্যতিক্রম হিসেবে দেখা যাচ্ছে, বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অনেকে এই হামলাকে উদযাপন করছেন এবং হামলাকারীদেরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, এ কর্মসূচিতে নিজেদেরকে যুক্ত করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও হামলাকারীদেরকে বাহবা দিচ্ছেন।
বুধবার (২৯ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ঘাঁটাঘাঁটি করে এসব তথ্য পেয়েছে দ্য ঢাকা ডায়েরি। যেগুলোতে ছাত্রদল ও বিএনপিসহ এর অঙ্গসংগন এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদেরকে এনসিপির ওপর সংঘটিত হামলাকে সাধুবাদ জানাতে দেখা গেছে।
খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর শেয়ার করা ছাত্রদলের হামলার ভিডিওটি ফেসবুকের নিজ টাইমলাইনে পোস্ট করেন চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক অনিক খান। এ পোস্টের ক্যাপশনে তিনি হামলায় অংশ নেওয়া নেতাদেরকে মেনশন করে ধন্যবাদ জানান। তিনি ক্যাপশনে লেখেন, “Asiful Islam Emon ভাই, Mujakkir Hossan Emon ভাই, নাজমুল হোসেন অনি ভাই, আল সাইমুম ভাই। ধ্যনবাদ ভাই আপনাদেরকে; নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীর হে** ভাংগি দেওয়ার জন্য।”
ফেসবুক ঘেঁটে দেখা যায়, অনিক খানের অভিনন্দন জানানো ব্যক্তিরা যেমন- নাজমুল হোসেন অনি হবিগঞ্জ পৌর শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব, আসিফুল ইসলাম ইমন সদস্য, মুজাক্কির হোসেন ইমন হবিগঞ্জ পৌর বিএনপির সহ-ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক এবং আল সাইমুম জিয়া সাইবার ফোর্স কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-প্রচার সম্পাদক।
তাদের মধ্যকার আল সাইমুম তার ফেসবুক পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারিকে ইঙ্গিত করে লেখেন, “হবিগঞ্জে মহিলাদের ‘বোরকার’ একটা বিশেষ পরিচিতি আছে। এটা হবিগঞ্জের ইতিহাসে ঐতিহাসিকভাবে দুইবার ব্যবহার হয়েছে প্রথমবার ০৪ আগস্ট ২০২৪ হবিগঞ্জের সাবেক এমপি আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু জাহির পালানোর সময় আর দ্বিতীয়বার হলো গতকাল এনসিপির নেতা নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারী বোরকা পড়ে পালানোর সময়।”
এর আগে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ছবিযুক্ত এক পোস্টে ব্যঙ্গাত্মক ভাষায় লেখেন, “ভাইয়া গতকাল সারজিসকে রেখে পালিয়ে গেলেন কেন? বেচারা একা একা মাইরটা খাইছে। আজকে নাকি শুনলাম আপনি আসবেন না হবিগঞ্জে? আইসেন আইসেন প্লিজ…. আপনার সাথে আমাদের আসল খেলাটাই এখনো হয়নি….। আপনার জন্য হবিগঞ্জের বিখ্যাত আদি গোপালের মিষ্টি রেডি করতেছি।”
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর শেয়ার করা ছাত্রদলে হামলার ভিডিওটি নিজ টাইমলাইনে পোস্ট করে মুজাক্কির হোসেন ইমন লেখেন, “একবার ধরতে পারলে মনের মানুষ, ছেড়ে যেতে আর দিবো না”
এরপর দেওয়া আরেকটি পোস্টে ইমন লেখেন, “আমরা জুলাই বিপ্লবের সময় সম্মুখ সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছি। হবিগঞ্জের রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে আমাদেরও অবদান রয়েছে। তাই আমাদের নিয়ে কোনো অশালীন, কুরুচিপূর্ণ বা অসম্মানজনক মন্তব্য করলে তা হবিগঞ্জের মানুষ মেনে নেবে না। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু সম্মান ও শালীনতার সীমা অতিক্রম করলে তার প্রতিবাদ অবশ্যই করা হবে। মনে রাখতে হবে— হবিগঞ্জের মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবসময় ঐক্যবদ্ধ।”
বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক আশিকুর রহমান তার ফেসবুক টাইমলাইনে এনসিপিকে ইঙ্গিত করে লেখেন, “হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল হাসিনারেই গুনতো না। আর তোমরা তো চুনোপুঁটি।”
এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল ছাত্রদলের সদস্য সচিব মনসুর আহমেদ রাফি ফেসবুকে লেখেন, “চোরের দশদিন, গৃহস্থের একদিন।” এই পোস্টে ব্যাখ্যায় রাফি আরেকটি পোস্টে লেখেন, “আমি বলছি চোরের দশদিন ,চোর বলতে বুঝাইছি Fifa & AFA। তোরা নিজেরে রে যে চোর মনে করিস তা তো জানতাম না! অবশ্য ছাত্রলীগ পুনর্বাসন কেন্দ্রে পরিণত হওয়া সংগঠন তো নিজেকে চোরই ভাববে, মাই ব্যাড।”
এছাড়াও, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদেরকে এনসিপির ওপর এ হামলা উদযাপন করতে দেখা গেছে। এরই ধারাবাহিকতায়, গোলাপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক রুমেল সিরাজ তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লেখেন, “ অসংখ্য ধন্যবাদ হবিগঞ্জ ছাত্রদল। মবের জনক’রা মবের শিকার জুলাইয়ে। যেভাবে উত্থান সেভাবে পতন নিশ্চিত। সার্ভিস ডার্বি কি খবর? জুলাই বিজনেস শেষ। প্রকৃতি কারোরই ঋণ রাখেনা!”
জাকির হোসাইন নামে এক আওয়ামী লীগ কর্মী তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এনসিপির ওপর হামলার একটি ভিডিও শেয়ার করে ক্যাপশন করে লেখেন, “গতকাল এভাবেই এনসিপির নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীকে পাগলা মলম লাগিয়েছিল। হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল।”
এছাড়াও, গতকাল মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতেই এনসিপি নেতৃবৃন্দ কর্তৃক বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে উস্কানিমূলক মিথ্যাচার ও কটূক্তির অভিযোগ তুলে হবিগঞ্জ জেলা শাখা হবিগঞ্জের সকল উপজেলা, পৌরসভা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একদিনব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
প্রসঙ্গত, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সীমান্ত সুরক্ষার দাবিতে আয়োজিত ‘জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে জেলার আজমিরীগঞ্জে এনসিপির সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বিকেল ৬টার দিকে হবিগঞ্জ শহরের টাউন হলের সামনে সমাবেশ শেষে সার্কিট হাউসে ফেরার পথে কোর্ট মসজিদ এলাকায় স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এনসিপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেন। এতে উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ কয়েকজন আহত হন। তাছাড়া, আলিফ চৌধুরী নামে এক যুবশক্তি নেতার চোখে রডের আঘাত লেখে দৃষ্টিশক্তি হারানোর উপক্রম হয়েছে বলে জানিয়েছেন সারজিস আলম।