ঢাকা ১১:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

“উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব অনির আঘাতে চোখ হারান আলিফ”

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৭:২০:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
  • / ৫২ বার পড়া হয়েছে
হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে আহত জাতীয় ছাত্রশক্তির নবীগঞ্জ উপজেলা সংগঠক আলিফ চৌধুরীর (১৯) ওপর হামলাকারীর পরিচয় প্রকাশ করেছেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন।
সারজিস আলম লিখেছেন, ‘যে সন্ত্রাসীর হামলায় আমাদের ভাই আলিফের একটি চোখ সারাজীবনের জন্য হারিয়ে গেছে, তার নাম নাজমুল হাসান অনি। তিনি হবিগঞ্জ সদর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব।’
তিনি লেখেন, ‘বিচার কি হবে তারেক রহমান?’
এদিকে এনসিপির নেত্রী মনিরা শারমিন জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচারের পরও আলিফ চৌধুরীর বাম চোখের দৃষ্টিশক্তি আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।
ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, আলিফের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে তার বাম চোখের দৃষ্টিশক্তি ফিরে আসেনি। একটি চোখ চিরতরে আলো হারিয়েছে। ডান চোখটি সুস্থ আছে। অস্ত্রোপচারের পর তাঁকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) বিকেলে হবিগঞ্জে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষে দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলা ও নেতা–কর্মীদের মারধরের ঘটনা ঘটে।
এ হামলার জন্য বিএনপিকে দায়ী করেছে এনসিপি। পরে সন্ধ্যায় শহরে এনসিপির প্রতিবাদ মিছিল বের হলে আরেক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে সারজিস আলমসহ কয়েকজন আহত হন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, সেদিন বিকেল পাঁচটার দিকে হবিগঞ্জ টাউন হলের সামনে এনসিপির সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেন।
সমাবেশ শেষে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িবহর সার্কিট হাউসের উদ্দেশে রওনা হলে স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় তার গাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়া হয়। চালক দ্রুতগতিতে গাড়ি চালিয়ে সার্কিট হাউসে পৌঁছে যান।
এর কিছুক্ষণ পর পেছনে থাকা সারজিস আলমের গাড়িতেও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। পরে তার গাড়ি শহরের সোনালী ব্যাংক ভবনে আশ্রয় নেয়।
খবর পেয়ে ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা ভবনটি ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন। রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সারজিস আলমকে সেখান থেকে উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়।
এনসিপির অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতেই হামলাকারীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। একপর্যায়ে এনসিপির মিডিয়া টিম বহনকারী একটি মাইক্রোবাস সার্কিট হাউসে প্রবেশ করলে হামলাকারীরা সেখানে ঢুকে গাড়ি ভাঙচুর করে। এ সময় সাংবাদিকদের মুঠোফোন ও ক্যামেরাও ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

“উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব অনির আঘাতে চোখ হারান আলিফ”

আপডেট সময় ০৭:২০:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে আহত জাতীয় ছাত্রশক্তির নবীগঞ্জ উপজেলা সংগঠক আলিফ চৌধুরীর (১৯) ওপর হামলাকারীর পরিচয় প্রকাশ করেছেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন।
সারজিস আলম লিখেছেন, ‘যে সন্ত্রাসীর হামলায় আমাদের ভাই আলিফের একটি চোখ সারাজীবনের জন্য হারিয়ে গেছে, তার নাম নাজমুল হাসান অনি। তিনি হবিগঞ্জ সদর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব।’
তিনি লেখেন, ‘বিচার কি হবে তারেক রহমান?’
এদিকে এনসিপির নেত্রী মনিরা শারমিন জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচারের পরও আলিফ চৌধুরীর বাম চোখের দৃষ্টিশক্তি আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।
ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, আলিফের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে তার বাম চোখের দৃষ্টিশক্তি ফিরে আসেনি। একটি চোখ চিরতরে আলো হারিয়েছে। ডান চোখটি সুস্থ আছে। অস্ত্রোপচারের পর তাঁকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) বিকেলে হবিগঞ্জে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষে দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলা ও নেতা–কর্মীদের মারধরের ঘটনা ঘটে।
এ হামলার জন্য বিএনপিকে দায়ী করেছে এনসিপি। পরে সন্ধ্যায় শহরে এনসিপির প্রতিবাদ মিছিল বের হলে আরেক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে সারজিস আলমসহ কয়েকজন আহত হন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, সেদিন বিকেল পাঁচটার দিকে হবিগঞ্জ টাউন হলের সামনে এনসিপির সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেন।
সমাবেশ শেষে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িবহর সার্কিট হাউসের উদ্দেশে রওনা হলে স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় তার গাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়া হয়। চালক দ্রুতগতিতে গাড়ি চালিয়ে সার্কিট হাউসে পৌঁছে যান।
এর কিছুক্ষণ পর পেছনে থাকা সারজিস আলমের গাড়িতেও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। পরে তার গাড়ি শহরের সোনালী ব্যাংক ভবনে আশ্রয় নেয়।
খবর পেয়ে ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা ভবনটি ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন। রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সারজিস আলমকে সেখান থেকে উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়।
এনসিপির অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতেই হামলাকারীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। একপর্যায়ে এনসিপির মিডিয়া টিম বহনকারী একটি মাইক্রোবাস সার্কিট হাউসে প্রবেশ করলে হামলাকারীরা সেখানে ঢুকে গাড়ি ভাঙচুর করে। এ সময় সাংবাদিকদের মুঠোফোন ও ক্যামেরাও ছিনিয়ে নেওয়া হয়।