‘সভাপতি পদ কত টাকায় বেচলেন’, ফেসবুকে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার পোস্টে তোলপাড়
- আপডেট সময় ০২:৫০:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
- / ২৭ বার পড়া হয়েছে
পাবনার ঈশ্বরদীতে একটি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের (ম্যানেজিং কমিটি) সভাপতি পদকে কেন্দ্র করে বিএনপির স্থানীয় নেতাদের বিরোধ এবার প্রকাশ্যে এসেছে। কাঙ্ক্ষিত পদে মনোনয়ন না পেয়ে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শরীফুল ইসলাম শরীফের এক ফেসবুক পোস্ট ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
শরীফুল ইসলাম শরীফের দাবি, ঈশ্বরদীর মানিকনগর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি নির্বাচনে অনৈতিক আর্থিক লেনদেন হয়েছে। তার অভিযোগ, পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে তসলিম আরিফ তুষারকে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করেছেন।
শনিবার (১ আগস্ট) নিজের ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে শরীফ লেখেন, ‘ঈশ্বরদী-আটঘরিয়ার ধানের শীষের প্রিয় অভিভাবকের কাছে প্রশ্ন— ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন বাবলু মহলদারের ছেলে এবং শেখ হাসিনার ডান হাতখ্যাত অবসরপ্রাপ্ত ডিআইজি নওশের সাহেবের ভাতিজা তুষার মহলদারের কাছে মানিকনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদ কত টাকায় বেচলেন?’
পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পরপরই স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। পরদিন রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে মানিকনগর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার এমন বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, শরীফুল ইসলাম শরীফ পূর্বে বিদ্যালয়টির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ছিলেন। তবে এবারের পরিচালনা পর্ষদে অভিভাবকেরা তাকে রাখেননি। পদ হারানোর ক্ষোভ থেকেই তিনি জেলা বিএনপির আহ্বায়কের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন ও মানহানিকর অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চরিত্রহননের চেষ্টা করছেন। অনৈতিক লেনদেনের অভিযোগের সপক্ষে কোনো প্রমাণ তিনি দেখাতে পারবেন না বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
বক্তারা আরও জানান, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সিনিয়র নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অসত্য অভিযোগ তোলায় শরীফুল ইসলাম শরীফের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণসহ তাকে বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে সুপারিশ করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জিয়াউল হক সন্টু সরদার, সাবেক সদস্য সচিব আজমল হোসেন সুজন, উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শরীফুল ইসলাম তুহিন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান, বিএনপি নেতা হাফিজুর রহমান মুকুল, নবনির্বাচিত সভাপতি তসলিম আরিফ তুষার, কৃষক দলের সদস্য সচিব মইনুল হক সরদার, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম নয়ন ও হাবিবুর মহলদারসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।
অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।



















