ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের নিয়োগের দাবিতে ইউএনও কার্যালয় ঘেরাও
- আপডেট সময় ০৭:১৭:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
- / ২৫ বার পড়া হয়েছে
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের নিয়োগ দেওয়ার দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ( ইউএনও) বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা ইউএনওর কার্যালয় ঘেরাও করে তার কুশপুতুল দাহ করেন।
রোববার (৯ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত আন্দোলনকারীরা ইউএনওর কার্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়ে কার্যালয় ঘেরাও করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুপুর ১২টা ১১ মিনিটে ইউএনওর কার্যালয়ের কেচিগেট খুলে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পরে অবরুদ্ধ অবস্থায় দ্বিতীয় তলায় দাঁড়িয়ে নিয়োগপ্রাপ্তদের পুনরায় যাচাই-বাছাইয়ের আশ্বাস দিলে দুপুর ১টার দিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইউএনওকে অপসারণের আলটিমেটাম দিয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বর ত্যাগ করেন আন্দোলনকারীরা।
উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোহানুর রহমান ও সদস্য সচিব আবু কাউসার অপুর নেতৃত্বে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সংরক্ষিত মহিলা এমপির প্রতিনিধি সাজেদা পারভিন, পান্টি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কুদরতে নুর, কুমারখালী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হৃদয় হোসেন, উপজেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্রজনতা আন্দোলন কমিটির সাবেক মুখপাত্র আশরাফুল ইসলাম তিহা, কুমারখালী পৌর ছাত্রদল নেতা কামরুজ্জামান সোয়াদসহ উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ের কয়েকশ ছাত্রদল ও ছাত্রজনতা অংশ নেন।
এ সময় পান্টি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কুদরতে নুর বলেন, বিএনপির ফ্যামিলিতে আওয়ামী লীগের দোসরদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগ বাতিল করে বিএনপির লোকদের নিয়োগ দিতে হবে। না হলে দুর্বার আন্দোলন করা হবে।
উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আবু কাউসার অপু জানান, ছাত্রদলের যোগ্য ছেলে থাকলেও ফ্যামিলি কার্ডে শুমারিতে প্রায় ৫০ জন আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের লোকজন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর প্রতিবাদে আজ বিক্ষোভ সমাবেশ ও কুশপুতু দাহ এবং ইউএনওর কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইউএনও ফারজানাকে অপসারণ করতে হবে।
তিনি বলেন, শুমারির ফলাফল বাতিল ও স্বেচ্ছায় ইউএনকে পদত্যাগ করতে হবে। না হলে আগামীকাল (সোমবার) সকাল ১০টায় কঠোর আন্দোলন করা হবে।
কুমারখালী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হৃদয় হোসেন বলেন, আমরা ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে হটাতে পেরেছি। সেখানে আপনি ( ইউএনও) কিছুই না। আপনি (ইউএনও) দ্রুত কুমারখালী ত্যাগ করেন। তা না হলে কঠোর আন্দোলন করা হবে।
উপজেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্রজনতা আন্দোলন কমিটির সাবেক মুখপাত্র আশরাফুল ইসলাম তিহা বলেন, প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ধরে ধরে আওয়ামী লীগের লোকদের নিয়োগ দিয়েছেন ইউএনও। এই ইউএনওকে আর আমরা চাই না।
এরপর দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে অবরুদ্ধ অবস্থায় কার্যালয়ের দোতলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে ইউএনও ফারজানা আখতার আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, কোনো অভিযোগ থাকলে তথ্য প্রমাণ দিয়ে সহায়তা করুন। আমরা ব্যবস্থা নেব। এই বক্তব্যের পর আন্দোলনকারীরা চলে যান।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে ইউএনও ফারজানা আখতার বলেন, আন্দোলনকারীদের বলা হয়েছে, তথ্য-প্রমাণসহ অভিযোগ জমা দিলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপপরিচালক (উপসচিব) আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম জানান, ফ্যামিলি কার্ড বিষয়ের সমস্যা সমাধানে ইউএনওকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।



















