নতুন বেতনকাঠামো
চাকরির শুরুতে মোট বেতন কত হবে, পুরোনোদের বেতন কত বাড়বে
- আপডেট সময় ০৮:১০:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৩৭ বার পড়া হয়েছে
প্রথম শ্রেণির চাকরি হিসেবে পরিচিত (আনুষ্ঠানিকভাবে এখন আর শ্রেণিভিত্তিক প্রথা নেই) বিসিএস ক্যাডারসহ বিভিন্ন চাকরিতে অধিকাংশ নিয়োগ হয় নবম গ্রেডে। অন্যান্য শ্রেণির চাকরি শুরু হয় ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের বিভিন্ন পদে। যেমন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে জাতীয় বেতন স্কেলের ১৩তম গ্রেডে নিয়োগ হয়। আর প্রধান শিক্ষকের পদটি ১০ম গ্রেডের।
জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী বিসিএসের বিভিন্ন ক্যাডারে সাধারণত নবম গ্রেডে চাকরি শুরু হয়। এত দিন এই গ্রেডে মূল বেতন ছিল ২২ হাজার টাকা। নতুন বেতনকাঠামোয় তা বেড়ে হবে ৪৪ হাজার টাকা। কোনো কোনো পদে যোগদানের সময় একটি অতিরিক্ত ইনক্রিমেন্টও দেওয়া হয়। ফলে সংশ্লিষ্ট পদের মূল বেতন আরও বেশি হতে পারে।
এর বাইরে মূল বেতনের নির্দিষ্ট হারে বাড়িভাড়া—জেলা শহরে ৪০ শতাংশ, ঢাকায় ৫০ শতাংশ এবং অন্যান্য বিভাগে ৪৫ শতাংশ পান তাঁরা। তবে গ্রেড ও এলাকাভেদে এতে আরও কিছু ভিন্নতা আছে। রয়েছে ১ হাজার ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা, সন্তানের জন্য শিক্ষাসহায়ক ভাতা, উৎসব ভাতা, বৈশাখী ভাতা এবং সরকারি দায়িত্ব ও যাতায়াতের জন্য টিএ বা ডিএসহ অন্যান্য আর্থিক সুবিধা।
প্রথম থেকে নবম গ্রেডের চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে প্রথম ধাপে চলতি বছরের জুলাই থেকে নতুন বর্ধিত মূল বেতনের ৪০ শতাংশ কার্যকর হবে। ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে আরও ৩০ শতাংশ এবং ২০২৭ সালের জুলাই থেকে অবশিষ্ট ৩০ শতাংশ কার্যকর হবে। তাঁদেরও সব ভাতা যোগ হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে। অবশ্য নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন শুরুর সঙ্গে সঙ্গে এর মধ্যে চালু থাকা ১৫ শতাংশ ‘বিশেষ সুবিধা’ অবলুপ্ত বা বাতিল হয়ে যাবে।
নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বল্প আয়ের কর্মচারীদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিজীবীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এসব গ্রেডের জন্য প্রথম ধাপে চলতি বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫০ শতাংশ বর্ধিত মূল বেতন কার্যকর হবে। ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত আরও ২৫ শতাংশ এবং ২০২৭ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে অবশিষ্ট ২৫ শতাংশ কার্যকর হবে। অর্থাৎ, ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিজীবীরা প্রথম ধাপে নতুন বর্ধিত বেতনের ৫০ শতাংশ, দ্বিতীয় ধাপে মোট ৭৫ শতাংশ এবং তৃতীয় ধাপে পুরো ১০০ শতাংশ পাবেন। নতুন হারে সব ভাতা পাবেন ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।

নবম গ্রেডে শুরুতে মূল বেতন কত হবে
একজন নতুন চাকরিজীবী চলতি বছরের জুলাইয়ে নবম গ্রেডে যোগ দিলেন, তাঁর বেতনের হিসাবটা তুলনামূলক সহজ। পুরোনো কাঠামোয় নবম গ্রেডের মূল বেতন ছিল ২২ হাজার টাকা। প্রথম ধাপে ৪০ শতাংশ বাড়লে তা হবে ৩০ হাজার ৮০০ টাকা।
দ্বিতীয় ধাপে আরও ৩০ শতাংশ, অর্থাৎ ৬ হাজার ৬০০ টাকা যোগ হবে। তখন মূল বেতন দাঁড়াবে ৩৭ হাজার ৪০০ টাকা। তৃতীয় ধাপে আরও ৬ হাজার ৬০০ টাকা যোগ হলে মূল বেতন হবে ৪৪ হাজার টাকা।
অবশ্য এই সময়ে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট হলে মূল বেতন আরও বাড়বে। নবম গ্রেডের শুরুর মূল বেতন ৪৪ হাজার টাকা। ইনক্রিমেন্টের মাধ্যমে এই গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন হবে ১ লাখ ৫ হাজার ৯০০ টাকা। ফলে পুরোনো চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে বেতনের হিসাব একেকজনের একেক রকম হবে এবং তা কিছুটা জটিলও। আবার পুরোনো চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে এত দিন ধরে চালু থাকা ১৫ শতাংশ ‘বিশেষ সুবিধা’ বাতিল হবে।
২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন হারে ভাতাগুলো কার্যকর হবে। তখন ঢাকায় কর্মরত নবম গ্রেডের একজন কর্মকর্তার ৪৪ হাজার টাকা মূল বেতনের সঙ্গে ৫০ শতাংশ বাড়িভাড়া হিসেবে ২২ হাজার টাকা যোগ হবে। এর সঙ্গে চিকিৎসা, শিক্ষাসহায়ক, উৎসব ও অন্যান্য ভাতা যুক্ত হবে। নতুন করে সব গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারী মোবাইল ভাতাও পাবেন। সব মিলিয়ে ২০২৮ সালের জানুয়ারিতে নবম গ্রেডে নতুন যোগ দেওয়া একজন কর্মকর্তার মোট বেতন-ভাতা কমবেশি ৭০ হাজার টাকা হতে পারে।
এই হিসাবগুলো একেবারেই সুনির্দিষ্ট নয়। বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন হলে সে অনুযায়ী হিসাবগুলো সুনির্দিষ্ট করা যাবে।
প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের বেতন কেমন হবে
দশম গ্রেডের বিষয়টি বোঝাতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের উদাহরণ নেওয়া যায়। প্রধান শিক্ষকের পদটি ১০ম গ্রেডের। যদিও বেতন নির্ধারণসংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রধান শিক্ষকেরা এখনো ১০ম গ্রেডে বেতন হাতে পাননি। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে এবং বকেয়া হিসেবে তাঁরা তা পাবেন।
দশম গ্রেডে চাকরির শুরুতে পুরোনো মূল বেতন ১৬ হাজার টাকা। নতুন কাঠামোয় তা শুরুতে হবে ৩২ হাজার টাকা। ইনক্রিমেন্টের মাধ্যমে এই গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন হবে ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা।
প্রথম ধাপে ৫০ শতাংশ বাড়লে ১৬ হাজার টাকা থেকে মূল বেতন হবে ২৪ হাজার টাকা। দ্বিতীয় ধাপে আরও ২৫ শতাংশ, অর্থাৎ ৪ হাজার টাকা যোগ হয়ে মূল বেতন হবে ২৮ হাজার টাকা। তৃতীয় ধাপে আরও ৪ হাজার টাকা যোগ হলে মূল বেতন দাঁড়াবে ৩২ হাজার টাকায়।
এর সঙ্গে বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা যুক্ত হবে। মূল বেতন বেড়ে গেলে সেই হারে বাড়িভাড়াও বৃদ্ধি পায়। ফলে দশম গ্রেডের একজন কর্মকর্তা বা প্রধান শিক্ষকের মোট বেতন-ভাতা ৫০ হাজার টাকার বেশি হবে।
নতুন চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে হিসাবটা তুলনামূলক সহজ হলেও পুরোনো চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে তা এতটা সরল নয়। কারণ, তাঁদের বর্তমান মূল বেতন, চাকরির মেয়াদ, ইনক্রিমেন্ট ও অন্যান্য সুবিধার ওপর মোট বেতন নির্ভর করবে।
এক যুগের বেশি সময় ধরে চাকরি করা ঢাকার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন প্রধান শিক্ষক প্রথম আলোকে বলেন, বর্তমানে তাঁর মূল বেতন ২২ হাজার ৪৫০ টাকা, বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা মিলিয়ে মোট বেতন পান প্রায় ৩৬ হাজার টাকা। নতুন বেতনকাঠামো সম্পর্কে যতটুকু জেনেছেন, তার ভিত্তিতে আনুমানিক হিসাব করে তিনি দেখেছেন, প্রথম ধাপে সবকিছু মিলিয়ে তাঁর মোট বেতন প্রায় ৪০ হাজার টাকা হতে পারে। আর সবগুলো ধাপে বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন হলে এবং সে অনুসারে ভাতা যোগ হলে তাঁর মোট বেতন হবে ৭০ হাজার টাকার কাছাকাছি।
প্রসঙ্গত, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে ৮০ শতাংশ নিয়োগ হয় সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে পদোন্নতির মাধ্যমে এবং ২০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হয়।
১৩তম গ্রেডের সহকারী শিক্ষকদের মূল বেতন ১১ হাজার টাকা থেকে শুরু হতো। এখন তা শুরু হবে ২৪ হাজার টাকা দিয়ে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইনক্রিমেন্ট যুক্ত হয়ে এই মূল বেতন সর্বোচ্চ ৫৮ হাজার টাকা পর্যন্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর হওয়ার প্রথম ধাপে একজন সহকারী শিক্ষকের মূল বেতন হবে ১৭ হাজার ৫০০ টাকা। আর বেতনকাঠামো সব ধাপে কার্যকর হয়ে ভাতাগুলো যোগ হলে মোট বেতন হবে ২৪ হাজারের সঙ্গে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতাসহ অন্যান্য ভাতা যুক্ত হয়ে ৪০ হাজারের কাছাকাছি হবে।
বেতনকাঠামায় সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডে চাকরির শুরুতে মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে। তিন ধাপে নতুন বেতন পুরোপুরি কার্যকর হলে এই গ্রেডের চাকরিজীবীদের মূল বেতন, বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা মিলিয়ে মোট বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। অর্থাৎ, সরকারি চাকরিজীবী সবারই কমবেশি বেতন-ভাতা বাড়ছে।
সব মিলিয়ে নতুন চাকরিজীবীদের বেতন হিসাব করা তুলনামূলক সহজ। কিন্তু যাঁরা ইতিমধ্যে চাকরিতে আছেন, তাঁদের বর্তমান মূল বেতন ও ইনক্রিমেন্ট একেক রকম হওয়ায় নতুন কাঠামোয় বেতনও একেক রকম হবে। তাই সবার বেতন একই হারে বাড়বে না।









