ঢাকা ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেয়ায় জুলাই শহীদের মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও অপমানে আত্মহত্যা

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:২৩:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৫ বার পড়া হয়েছে
জুলাই বিপ্লবের এক বুকফাটা ট্র্যাজেডি আর নিষ্ঠুরতার সাক্ষী হলো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একদিকে জুলাই অভ্যুত্থানে স্বামীকে হারানোর তীব্র শোক, অন্যদিকে সেই হত্যার সাক্ষ্য দিতে আসার কারণে নিজের বড় মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর তার আত্মহত্যার হৃদয়বিদারক ঘটনা। ট্রাইব্যুনালে দাঁড়িয়ে এই নির্মমতা তুলে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন জুলাই শহীদ জসিম উদ্দিনের স্ত্রী।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সামনে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেয়ার সময় তিনি এই নির্মম নির্যাতনের বিবরণ দেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুরে নয়জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিনি সাক্ষ্য দিতে এসেছিলেন।
ওই নারী ট্রাইব্যুনালকে জানান, স্বামীর হত্যার বিষয়ে তদন্তকারীদের কাছে জবানবন্দি দিতে গত বছরের ১৭ মার্চ তিনি তার ভাই ও ছোট দুই সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় আসেন। সে সময় তার এইচএসসি পরীক্ষার্থী বড় মেয়ে পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার গ্রামের বাড়িতে ছিলেন। পরদিন ১৮ মার্চ তার মেয়ে বাবার কবর জিয়ারত করতে যায়। কিন্তু কবর জিয়ারত শেষে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা তাকে পথিমধ্যে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে। কান্নায় ভেঙে পড়ে ট্রাইব্যুনালে তিনি বলেন, “আমি সাক্ষ্য দিতে ঢাকায় এসেছিলাম, আর এ কারণে তারা আমার মেয়েকে ধর্ষণ করেছে।”
তার অভিযোগ, ধর্ষণের এই খবরটি এলাকায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে । এই চরম সামাজিক অপমান ও গুরুতর মানসিক আঘাত সহ্য করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় ওই কিশোরী।
ওই নারী জানান, তার স্বামী একটি এনজিওতে গাড়ী চালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র আন্দোলন তীব্র হলে, আগের দিনের সংঘর্ষে আহত হওয়ার পরও ১৯ জুলাই তিনি পুনরায় আন্দোলনে যোগ দেন। ওই দিন সন্ধ্যায় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। রক্তাক্ত ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।
তিনি বলেন, গুলি বুকে লেগেছিল এবং হাতের দুটি আঙুল উড়ে গিয়েছিল। সেই রাতেই তার অস্ত্রোপচার করা হয় এবং পরে তাকে বনানীর একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৯ জুলাই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
স্বামীর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে দাফন করার অনুমতি পেতেও এই নারীকে পোহাতে হয়েছিল সীমাহীন দুর্ভোগ। তিনি জানান, মরদেহ বুঝে পেতে তাকে বারবার বনানী ও মোহাম্মদপুর থানায় দৌড়াদৌড়ি করতে হয়েছে। অবশেষে মৃত্যুর দুই দিন পর ৩১ জুলাই তিনি স্বামীর মরদেহ বুঝে পান এবং পরদিন সকালে তাকে দাফন করা হয়।
ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেয়ায় জুলাই শহীদের মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও অপমানে আত্মহত্যা

আপডেট সময় ১১:২৩:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জুলাই বিপ্লবের এক বুকফাটা ট্র্যাজেডি আর নিষ্ঠুরতার সাক্ষী হলো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একদিকে জুলাই অভ্যুত্থানে স্বামীকে হারানোর তীব্র শোক, অন্যদিকে সেই হত্যার সাক্ষ্য দিতে আসার কারণে নিজের বড় মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর তার আত্মহত্যার হৃদয়বিদারক ঘটনা। ট্রাইব্যুনালে দাঁড়িয়ে এই নির্মমতা তুলে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন জুলাই শহীদ জসিম উদ্দিনের স্ত্রী।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সামনে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেয়ার সময় তিনি এই নির্মম নির্যাতনের বিবরণ দেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুরে নয়জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিনি সাক্ষ্য দিতে এসেছিলেন।
ওই নারী ট্রাইব্যুনালকে জানান, স্বামীর হত্যার বিষয়ে তদন্তকারীদের কাছে জবানবন্দি দিতে গত বছরের ১৭ মার্চ তিনি তার ভাই ও ছোট দুই সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় আসেন। সে সময় তার এইচএসসি পরীক্ষার্থী বড় মেয়ে পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার গ্রামের বাড়িতে ছিলেন। পরদিন ১৮ মার্চ তার মেয়ে বাবার কবর জিয়ারত করতে যায়। কিন্তু কবর জিয়ারত শেষে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা তাকে পথিমধ্যে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে। কান্নায় ভেঙে পড়ে ট্রাইব্যুনালে তিনি বলেন, “আমি সাক্ষ্য দিতে ঢাকায় এসেছিলাম, আর এ কারণে তারা আমার মেয়েকে ধর্ষণ করেছে।”
তার অভিযোগ, ধর্ষণের এই খবরটি এলাকায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে । এই চরম সামাজিক অপমান ও গুরুতর মানসিক আঘাত সহ্য করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় ওই কিশোরী।
ওই নারী জানান, তার স্বামী একটি এনজিওতে গাড়ী চালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র আন্দোলন তীব্র হলে, আগের দিনের সংঘর্ষে আহত হওয়ার পরও ১৯ জুলাই তিনি পুনরায় আন্দোলনে যোগ দেন। ওই দিন সন্ধ্যায় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। রক্তাক্ত ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।
তিনি বলেন, গুলি বুকে লেগেছিল এবং হাতের দুটি আঙুল উড়ে গিয়েছিল। সেই রাতেই তার অস্ত্রোপচার করা হয় এবং পরে তাকে বনানীর একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৯ জুলাই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
স্বামীর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে দাফন করার অনুমতি পেতেও এই নারীকে পোহাতে হয়েছিল সীমাহীন দুর্ভোগ। তিনি জানান, মরদেহ বুঝে পেতে তাকে বারবার বনানী ও মোহাম্মদপুর থানায় দৌড়াদৌড়ি করতে হয়েছে। অবশেষে মৃত্যুর দুই দিন পর ৩১ জুলাই তিনি স্বামীর মরদেহ বুঝে পান এবং পরদিন সকালে তাকে দাফন করা হয়।