ঢাকা ০৬:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘আমি ভিপি হওয়া মানে তুই ভিপি, তোরা ভিপি’—ছাত্রলীগ কর্মীর উদ্দেশে জাকসু ভিপি

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৪:১৭:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ২২ বার পড়া হয়েছে

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আসাদুল আলম শেখকে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হল থেকে তাঁকে আটক করে আশুলিয়া থানা পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, আসাদুল আলম শেখের সঙ্গে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীর নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে হল প্রশাসনের উপস্থিতিতে একদল শিক্ষার্থী তাঁর মুঠোফোন পরীক্ষা করেন। তাঁর মুঠোফোনে নেত্রকোনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাওন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি এনামুল হক এনামসহ (ময়লা এনাম) বিভিন্ন নেতা-কর্মীর সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, আসাদুলের মুঠোফোনে জাকসুর ভিপি ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আব্দুর রশিদ জিতুর সঙ্গে কথোপকথনের একটি চ্যাটও পাওয়া গেছে। জাকসু নির্বাচনকে সামনে রেখে ওই কথোপকথন হয়।

ওই চ্যাটে আসাদুলকে উদ্দেশে জিতু লেখেন, ‘আমি ভিপি হওয়া মানে তুই ভিপি, তোরা ভিপি—একটু মাথায় রাখিস। কোনো কারণে হেরে গেলে তোদেরও ঝামেলা হবে পরবর্তী সময়ে ক্যাম্পাসে।’

এর পরদিনের আরেকটি কথোপকথনে আসাদকে উদ্দেশে জিতু লেখেন, ‘আসাদ, তুই নির্বাচনটা করলে ঝামেলায় পড়বি। আমাকেই নিয়ে এত কিছু শুরু করছে, তাহলে ভাব তোর কী হবে।’

ছাত্রলীগের এক কর্মীর সঙ্গে জিতুর এমন কথোপকথনে ভিন্ন ইঙ্গিত রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী। তাঁদের দাবি, গণ-অভ্যুত্থানের পরও জিতুর সঙ্গে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের যোগাযোগ ছিল কি না, ওই কথোপকথন থেকে তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

জাতীয় ছাত্রশক্তির জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি জিয়াউদ্দিন আয়ান বলেন, ‘ছাত্রলীগের কর্মী আসাদুল আলমের সঙ্গে জিতুর কথোপকথনে এটাই ইঙ্গিত দেয় যে, তিনি ভিপি হওয়া মানে ছাত্রলীগ কর্মীদের ভিপি হওয়া। জাকসু নির্বাচন-পরবর্তী সময়েও বিভিন্ন সময়ে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের শেল্টার দেওয়ার অভিযোগ জিতুর বিরুদ্ধে উঠেছে। এটা কোনোভাবেই আমরা মেনে নেব না। জাবিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কোনো তৎপরতা মেনে নেওয়া হবে না। প্রশাসনের কাছে জাকসুর ভিপির বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।’

এ বিষয়ে জানার জন্য জাকসু ভিপি আব্দুর রশিদ জিতুর ফোনে কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর জাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে জিতু স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন প্যানেল থেকে নির্বাচন করে জয়ী হন। এরপর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জিতু বিএনপিতে যোগদান করেন। গণ-অভ্যুত্থানের সময় তিনি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

‘আমি ভিপি হওয়া মানে তুই ভিপি, তোরা ভিপি’—ছাত্রলীগ কর্মীর উদ্দেশে জাকসু ভিপি

আপডেট সময় ০৪:১৭:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আসাদুল আলম শেখকে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হল থেকে তাঁকে আটক করে আশুলিয়া থানা পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, আসাদুল আলম শেখের সঙ্গে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীর নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে হল প্রশাসনের উপস্থিতিতে একদল শিক্ষার্থী তাঁর মুঠোফোন পরীক্ষা করেন। তাঁর মুঠোফোনে নেত্রকোনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাওন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি এনামুল হক এনামসহ (ময়লা এনাম) বিভিন্ন নেতা-কর্মীর সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, আসাদুলের মুঠোফোনে জাকসুর ভিপি ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আব্দুর রশিদ জিতুর সঙ্গে কথোপকথনের একটি চ্যাটও পাওয়া গেছে। জাকসু নির্বাচনকে সামনে রেখে ওই কথোপকথন হয়।

ওই চ্যাটে আসাদুলকে উদ্দেশে জিতু লেখেন, ‘আমি ভিপি হওয়া মানে তুই ভিপি, তোরা ভিপি—একটু মাথায় রাখিস। কোনো কারণে হেরে গেলে তোদেরও ঝামেলা হবে পরবর্তী সময়ে ক্যাম্পাসে।’

এর পরদিনের আরেকটি কথোপকথনে আসাদকে উদ্দেশে জিতু লেখেন, ‘আসাদ, তুই নির্বাচনটা করলে ঝামেলায় পড়বি। আমাকেই নিয়ে এত কিছু শুরু করছে, তাহলে ভাব তোর কী হবে।’

ছাত্রলীগের এক কর্মীর সঙ্গে জিতুর এমন কথোপকথনে ভিন্ন ইঙ্গিত রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী। তাঁদের দাবি, গণ-অভ্যুত্থানের পরও জিতুর সঙ্গে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের যোগাযোগ ছিল কি না, ওই কথোপকথন থেকে তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

জাতীয় ছাত্রশক্তির জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি জিয়াউদ্দিন আয়ান বলেন, ‘ছাত্রলীগের কর্মী আসাদুল আলমের সঙ্গে জিতুর কথোপকথনে এটাই ইঙ্গিত দেয় যে, তিনি ভিপি হওয়া মানে ছাত্রলীগ কর্মীদের ভিপি হওয়া। জাকসু নির্বাচন-পরবর্তী সময়েও বিভিন্ন সময়ে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের শেল্টার দেওয়ার অভিযোগ জিতুর বিরুদ্ধে উঠেছে। এটা কোনোভাবেই আমরা মেনে নেব না। জাবিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কোনো তৎপরতা মেনে নেওয়া হবে না। প্রশাসনের কাছে জাকসুর ভিপির বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।’

এ বিষয়ে জানার জন্য জাকসু ভিপি আব্দুর রশিদ জিতুর ফোনে কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর জাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে জিতু স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন প্যানেল থেকে নির্বাচন করে জয়ী হন। এরপর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জিতু বিএনপিতে যোগদান করেন। গণ-অভ্যুত্থানের সময় তিনি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন।