খেলাপি ঋণে বাংলাদেশ শীর্ষে থাকার কারণ বর্তমান সরকার নয়, পতিত আ.লীগ সরকার
- আপডেট সময় ০৪:৩০:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ২৬ বার পড়া হয়েছে
২০২৬ সালে খেলাপি ঋণে বাংলাদেশ শীর্ষে থাকার কারণ বর্তমান সরকার নয়, পতিত আ.লীগ সরকার বলে জানিয়েছেন প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর অধীনে পরিচালিত অফিসিয়াল ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান বাংলাফ্যাক্ট।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাংলাফ্যাক্টের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান সংস্থাটি।
বাংলাফ্যাক্ট জানায়, খেলাপি ঋণের বর্তমান হারের তথ্যটি সত্য হলেও এর পেছনের প্রকৃত কারণ ও প্রেক্ষাপট এড়িয়ে যাওয়ায় তা সাধারণ মানুষের কাছে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে। প্রকৃতপক্ষে, এই খেলাপি ঋণ হঠাৎ করে তৈরি হয়নি; বরং বিগত সরকারের আমলে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ মন্দ ঋণ এখন প্রকৃত নিরীক্ষায় প্রকাশিত হওয়ায় এই বৃদ্ধি ঘটেছে।
বাংলাফ্যাক্টের তথ্যমতে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাংকিং খাতের প্রকৃত খেলাপি ঋণের চিত্র আড়াল করে রাখা হয়েছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া বিশেষ নীতিগত ছাড়, যেমন বারবার ঋণ পুনঃ তফসিল, এককালীন বিশেষ ছাড় এবং হিসাবগত মারপ্যাঁচের মাধ্যমে অনেক বড় বড় সমস্যাগ্রস্ত ও বেনামি ঋণকে কৃত্রিমভাবে ‘নিয়মিত’ বা ‘ভালো ঋণ’ হিসেবে খাতায়-কলমে দেখানো হতো। ফলে কাগজ-কলমে খেলাপি ঋণের হার অনেক কম মনে হলেও ভেতরে ভেতরে ব্যাংকিং খাতের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক ছিল।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশের সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের সংস্কার শুরু হয়। ব্যাংকগুলোর প্রকৃত সম্পদের মান পর্যালোচনা এবং দেশি ও আন্তর্জাতিক স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গভীর নিরীক্ষা চালানো হয়। এর ফলে বছরের পর বছর ধরে আড়ালে থাকা অনিয়ম, বেনামি ঋণ, বিপুল অংকের জালিয়াতি এবং নীতিগত ছাড়ের আড়ালে ঢাকা পড়া প্রকৃত মন্দ ঋণের আসল চিত্র সামনে চলে আসে।
এর আগে, দেশের কয়েকটি গণমাধ্যম বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া ২০২৬ সালের খেলাপী ঋণের তথ্য ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার বিশ্বব্যাপী খেলাপি ঋণের হারের ডেটার সাথে তুলনা করেন। এতে দেখা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে ২০২৬ সালের জুন শেষে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা। এটি ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ, যা বিশ্বে সর্বোচ্চ।
খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এই খেলাপি ঋণের বড় অংশ হঠাৎ সৃষ্টি হয়নি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দীর্ঘদিন ধরে ঋণ পুনঃ তফসিল, বিশেষ ছাড় ও হিসাবগত পরিবর্তনের মাধ্যমে অনেক সমস্যাগ্রস্ত ঋণ নিয়মিত দেখানো হয়েছিল।রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ব্যাংকগুলোর সম্পদের মান পর্যালোচনা এবং দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিরীক্ষায় অনিয়ম, জালিয়াতি ও বেনামি ঋণের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে এসেছে। ফলে আগে আড়ালে থাকা বিপুল ঋণ এখন খেলাপিতে পরিণত হয়েছে।



















