ঢাকা ০৭:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরীক্ষায় নকলসহ ধরা পড়লেন ইবি শিবির নেতাকে থাপ্পড় মারা সেই ছাত্রদল কর্মী

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৫:৪১:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৮ বার পড়া হয়েছে
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শাখা শিবিরের নেতাকে চড় মারা এবং বহিরাগতদের নিয়ে সশস্ত্র মহড়ার ঘটনায় আলোচিত ছাত্রদল কর্মী আলীনুর রহমানকে ঘিরে আবারও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এবার সেমিস্টার পরীক্ষার হলে অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে শিক্ষকের হাতে নকলসহ ধরা পড়েছেন আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের এই শিক্ষার্থী।
বিভাগীয় সূত্রে জানা যায়, আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষা চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত ২৪০৯ নম্বর কোর্সের পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মফিজুল ইসলামের হাতে নকলসহ ধরা পড়েন আলীনুর।
ঘটনার পর শিক্ষক তার উত্তরপত্র জব্দ করে বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আব্দুস সালামের কাছে জমা দেন। পরে আলীনুর বিভাগীয় সভাপতির কাছে তার খাতা ফেরত চান। তবে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বহিষ্কার না করে শুধু পরীক্ষার হল থেকে বের হয়ে যেতে বলা হয় বলে বিভাগীয় সূত্রে জানা যায়।
এ বিষয়ে জানতে বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আব্দুস সালামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
পরীক্ষা কমিটির সভাপতি ড. মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, নকল বা যেকোনো ধরনের অসদুপায়ের বিষয়ে তাদের অবস্থান কঠোর। তিনি বলেন, “আমি গতকাল সকালে তাদেরকে পরীক্ষার সিটে বসিয়ে দিয়ে এসেছি এবং খুবই সতর্ক বার্তা দিয়েছি যে কোনো রকম অসদুপায় অবলম্বন করলে সরাসরি অ্যাকশন নেওয়া হবে। শনিবারে ক্যাম্পাস খুলুক এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে আলীনুর রহমান বলেন, “আমি কিছু নিয়ে যাইনি। আমার বন্ধুর কাছ থেকে নিয়ে লিখতেছিলাম। মফিজুল স্যার আমার কাছ থেকে খাতা নিয়ে নেন। পরে চেয়ারম্যান স্যার আমাকে বের হয়ে যেতে বলেন।”
উল্লেখ্য, এর আগে পোষ্য কোটায় ভর্তি হয়ে সিট বরাদ্দ ছাড়াই হলে অবৈধভাবে অবস্থানের অভিযোগও উঠেছিল আলীনুরের বিরুদ্ধে। সর্বশেষ শনিবার শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রবেশমুখে ক্র্যাচে ভর করে যাওয়ার সময় শাখা শিবিরের হল সেক্রেটারি ও শিক্ষাবর্ষে সিনিয়র কাজী জুহায়েরকে ‘বেয়াদব’ বলে আচমকা থাপ্পড় মারার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।
ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরে ক্যাম্পাসে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, বহিরাগতদের নিয়ে সশস্ত্র মহড়া এবং সংঘাতের ঘটনা ঘটে। বিষয়টি তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটি ইতোমধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে বলে জানা গেছে।
ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

পরীক্ষায় নকলসহ ধরা পড়লেন ইবি শিবির নেতাকে থাপ্পড় মারা সেই ছাত্রদল কর্মী

আপডেট সময় ০৫:৪১:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শাখা শিবিরের নেতাকে চড় মারা এবং বহিরাগতদের নিয়ে সশস্ত্র মহড়ার ঘটনায় আলোচিত ছাত্রদল কর্মী আলীনুর রহমানকে ঘিরে আবারও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এবার সেমিস্টার পরীক্ষার হলে অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে শিক্ষকের হাতে নকলসহ ধরা পড়েছেন আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের এই শিক্ষার্থী।
বিভাগীয় সূত্রে জানা যায়, আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষা চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত ২৪০৯ নম্বর কোর্সের পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মফিজুল ইসলামের হাতে নকলসহ ধরা পড়েন আলীনুর।
ঘটনার পর শিক্ষক তার উত্তরপত্র জব্দ করে বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আব্দুস সালামের কাছে জমা দেন। পরে আলীনুর বিভাগীয় সভাপতির কাছে তার খাতা ফেরত চান। তবে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বহিষ্কার না করে শুধু পরীক্ষার হল থেকে বের হয়ে যেতে বলা হয় বলে বিভাগীয় সূত্রে জানা যায়।
এ বিষয়ে জানতে বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আব্দুস সালামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
পরীক্ষা কমিটির সভাপতি ড. মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, নকল বা যেকোনো ধরনের অসদুপায়ের বিষয়ে তাদের অবস্থান কঠোর। তিনি বলেন, “আমি গতকাল সকালে তাদেরকে পরীক্ষার সিটে বসিয়ে দিয়ে এসেছি এবং খুবই সতর্ক বার্তা দিয়েছি যে কোনো রকম অসদুপায় অবলম্বন করলে সরাসরি অ্যাকশন নেওয়া হবে। শনিবারে ক্যাম্পাস খুলুক এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে আলীনুর রহমান বলেন, “আমি কিছু নিয়ে যাইনি। আমার বন্ধুর কাছ থেকে নিয়ে লিখতেছিলাম। মফিজুল স্যার আমার কাছ থেকে খাতা নিয়ে নেন। পরে চেয়ারম্যান স্যার আমাকে বের হয়ে যেতে বলেন।”
উল্লেখ্য, এর আগে পোষ্য কোটায় ভর্তি হয়ে সিট বরাদ্দ ছাড়াই হলে অবৈধভাবে অবস্থানের অভিযোগও উঠেছিল আলীনুরের বিরুদ্ধে। সর্বশেষ শনিবার শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রবেশমুখে ক্র্যাচে ভর করে যাওয়ার সময় শাখা শিবিরের হল সেক্রেটারি ও শিক্ষাবর্ষে সিনিয়র কাজী জুহায়েরকে ‘বেয়াদব’ বলে আচমকা থাপ্পড় মারার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।
ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরে ক্যাম্পাসে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, বহিরাগতদের নিয়ে সশস্ত্র মহড়া এবং সংঘাতের ঘটনা ঘটে। বিষয়টি তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটি ইতোমধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে বলে জানা গেছে।