ঢাকা ০৮:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্মার্টফোনে মগ্ন চিকিৎসক, বারবার ডেকেও সাড়া না পেয়ে মারা গেলেন রোগী

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৬:২৫:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৭ বার পড়া হয়েছে

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের অবহেলায় হাজেরা বেগম (৪২) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বজনেরা।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে গণমাধ্যমকে জানান শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু নাছের শাকিল।

এর আগে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডে হাজেরা বেগমের মৃত্যু হয়।

স্বজনদের দাবি, মৃত্যুর প্রায় এক ঘণ্টা আগে হাজেরা বেগমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তারা বারবার কর্তব্যরত চিকিৎসককে রোগীকে দেখতে আসার অনুরোধ করেন। তবে চিকিৎসক রোগীর কাছে না গিয়ে নিজের কক্ষে স্মার্টফোন ব্যবহার করছিলেন।

জানা গেছে, হাজেরা বেগম লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা বাজার ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামের শেখের বাড়ির আক্তার হোসেনের স্ত্রী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে লিভারের সমস্যায় ভুগছিলেন। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে হাজেরা বেগমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তারা কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. প্রিয়াঙ্কাকে রোগীকে দেখতে আসার অনুরোধ করেন। এ সময় চিকিৎসক রোগীর কাছে না গিয়ে নিজের কক্ষে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছিলেন। পরে স্বজনদের অনুরোধের পর চিকিৎসক রোগীকে বেড থেকে কাঁধে করে তার কক্ষে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। এ সময় রোগীর স্বামী আক্তার হোসেন একার পক্ষে স্ত্রীকে কাঁধে করে চিকিৎসকের কক্ষে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলে জানান। পরে চিকিৎসক রোগীকে অক্সিজেন দেওয়ার পরামর্শ দেন। এর কিছুক্ষণ পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে হাজেরা বেগমের মৃত্যু হয়।

হাজেরা বেগমের স্বামী আক্তার হোসেন বলেন, আমার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে লিভারের সমস্যায় ভুগছিলেন। ডাক্তারকে বারবার অনুরোধ করার পরও তিনি রোগীকে দেখতে আসেননি। তিনি সময়মতো চিকিৎসা দিলে হয়ত এ ঘটনা ঘটতো না।

এদিকে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. প্রিয়াঙ্কার বক্তব্য জানতে গেলে সাংবাদিকদের বক্তব্য নিতে বাধা দেন হাসপাতালের কার্ডিওলজি কনসালট্যান্ট ডা. জয়ন্ত মালাকার। তিনি নিজেকে ষষ্ঠ গ্রেডের কর্মকর্তা এবং স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দায়িত্বে রয়েছেন দাবি করে জানান, চিকিৎসকের কর্তব্যে অবহেলা সংক্রান্ত রোগীর স্বজনদের অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসকের সব বিষয়ের দায় তিনি নেবেন। চিকিৎসকের পক্ষ থেকে সব ধরনের বক্তব্যও তিনিই দেবেন।

কথোপকথনের একপর্যায়ে ডা. জয়ন্ত মালাকার বলেন, ওই রোগীর আইসিইউ সাপোর্ট প্রয়োজন ছিল। লিভারের জটিল চিকিৎসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেওয়া সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু নাছের শাকিল মুঠোফোনে বলেন, কর্তব্যে অবহেলার বিষয়টি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

স্মার্টফোনে মগ্ন চিকিৎসক, বারবার ডেকেও সাড়া না পেয়ে মারা গেলেন রোগী

আপডেট সময় ০৬:২৫:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের অবহেলায় হাজেরা বেগম (৪২) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বজনেরা।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে গণমাধ্যমকে জানান শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু নাছের শাকিল।

এর আগে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডে হাজেরা বেগমের মৃত্যু হয়।

স্বজনদের দাবি, মৃত্যুর প্রায় এক ঘণ্টা আগে হাজেরা বেগমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তারা বারবার কর্তব্যরত চিকিৎসককে রোগীকে দেখতে আসার অনুরোধ করেন। তবে চিকিৎসক রোগীর কাছে না গিয়ে নিজের কক্ষে স্মার্টফোন ব্যবহার করছিলেন।

জানা গেছে, হাজেরা বেগম লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা বাজার ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামের শেখের বাড়ির আক্তার হোসেনের স্ত্রী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে লিভারের সমস্যায় ভুগছিলেন। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে হাজেরা বেগমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তারা কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. প্রিয়াঙ্কাকে রোগীকে দেখতে আসার অনুরোধ করেন। এ সময় চিকিৎসক রোগীর কাছে না গিয়ে নিজের কক্ষে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছিলেন। পরে স্বজনদের অনুরোধের পর চিকিৎসক রোগীকে বেড থেকে কাঁধে করে তার কক্ষে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। এ সময় রোগীর স্বামী আক্তার হোসেন একার পক্ষে স্ত্রীকে কাঁধে করে চিকিৎসকের কক্ষে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলে জানান। পরে চিকিৎসক রোগীকে অক্সিজেন দেওয়ার পরামর্শ দেন। এর কিছুক্ষণ পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে হাজেরা বেগমের মৃত্যু হয়।

হাজেরা বেগমের স্বামী আক্তার হোসেন বলেন, আমার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে লিভারের সমস্যায় ভুগছিলেন। ডাক্তারকে বারবার অনুরোধ করার পরও তিনি রোগীকে দেখতে আসেননি। তিনি সময়মতো চিকিৎসা দিলে হয়ত এ ঘটনা ঘটতো না।

এদিকে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. প্রিয়াঙ্কার বক্তব্য জানতে গেলে সাংবাদিকদের বক্তব্য নিতে বাধা দেন হাসপাতালের কার্ডিওলজি কনসালট্যান্ট ডা. জয়ন্ত মালাকার। তিনি নিজেকে ষষ্ঠ গ্রেডের কর্মকর্তা এবং স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দায়িত্বে রয়েছেন দাবি করে জানান, চিকিৎসকের কর্তব্যে অবহেলা সংক্রান্ত রোগীর স্বজনদের অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসকের সব বিষয়ের দায় তিনি নেবেন। চিকিৎসকের পক্ষ থেকে সব ধরনের বক্তব্যও তিনিই দেবেন।

কথোপকথনের একপর্যায়ে ডা. জয়ন্ত মালাকার বলেন, ওই রোগীর আইসিইউ সাপোর্ট প্রয়োজন ছিল। লিভারের জটিল চিকিৎসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেওয়া সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু নাছের শাকিল মুঠোফোনে বলেন, কর্তব্যে অবহেলার বিষয়টি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।