জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- আপডেট সময় ০৪:৩৪:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ২১ বার পড়া হয়েছে
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অধিবেশনে যোগ দিতে আগামীকাল সোমবার নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি।
রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম।
জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান। এর আগে তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া জাতিসংঘে ভাষণ দিয়েছেন। ফলে তারেক রহমানের এবারের ভাষণকে জিয়া পরিবারের জাতিসংঘ-সম্পৃক্ততার ধারাবাহিকতার নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পররাষ্ট্রসচিবের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। বর্তমান সরকারের জন্য জাতিসংঘের সর্বোচ্চ বৈশ্বিক মঞ্চে এটিই প্রথম অংশগ্রহণ। পাশাপাশি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রধানমন্ত্রী ২২ সেপ্টেম্বর থেকে নিউইয়র্কে আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। বিশ্বনেতাদের জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবের দেওয়া স্বাগত প্রাতঃরাশ ও অধিবেশনের উদ্বোধনী আয়োজনে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার। একই দিন মার্কিন প্রেসিডেন্টের দেওয়া অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানেও যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
২৩ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। একই দিন ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে ও স্পেন আয়োজিত বৈশ্বিক বৈষম্য সংকট মোকাবিলাবিষয়ক সভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তার। পরে জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘Climate Action and the Just Transition’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সভায় অংশ নেবেন তিনি।
২৪ সেপ্টেম্বর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলাবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ ও জলবায়ু ন্যায়বিচার বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন তিনি।
একই দিন বিকেলে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। তার বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ, আইনের শাসন ও জবাবদিহি, বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, নারী ও যুব ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কারের মতো বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনও তার বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে আগেই জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সফরে বাংলাদেশের আয়োজনে দুটি সাইড ইভেন্টেও অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। ২৩ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা চাইবেন তিনি। ২৪ সেপ্টেম্বর মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারি-বিষয়ক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তার।
জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স এবং ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে। এসব বৈঠকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য-বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
এ ছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত এবং জাতিসংঘের শরণার্থী ও মানবাধিকারবিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের কথা রয়েছে।
অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে ওয়াল স্ট্রিট ও মেটাসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন তিনি। এসব আলোচনায় বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ, উৎপাদন, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি খাত, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা তুলে ধরা হবে।
নিউইয়র্কের কর্মসূচি শেষে ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এবারের সফরে তার সঙ্গে তুলনামূলক ছোট একটি প্রতিনিধিদল থাকছে।
























