কক্সবাজারে দিনদুপুরে যানবাহন থামিয়ে ডাকাতি
- আপডেট সময় ০৭:৩০:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
- / ২২ বার পড়া হয়েছে
কক্সবাজারের ঈদগাঁও-ঈদগড়-বাইশারী সড়কের হিমছড়ি ঢালায় দিনের বেলায় ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে বেসরকারি সংস্থার দুই কর্মীর কাছ থেকে মোট ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে ডাকাতির শিকার যানবাহনের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ও দুপুরে দুই দফায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় কয়েকটি যানবাহন থামিয়ে যাত্রীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে টাকা, মোবাইল ও অন্যান্য জিনিসপত্র লুটের অভিযোগ উঠেছে।
কয়েকজন ভুক্তভোগী ৫০ থেকে ৬০টি যানবাহনে লুটপাটের কথা বললেও প্রত্যক্ষদর্শীদের কেউ কেউ কয়েকটি যানবাহন থামানোর কথা জানিয়েছেন। পুলিশ বলছে, এখন পর্যন্ত তারা দুজন ভুক্তভোগীকে পেয়েছে।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আলোচিত ডাকাত ছাবেরের স্ত্রী ও ছেলেকে আটক করেছে পুলিশ। ছাবেরের বাড়ি থেকে ডাকাতির বিপুল পরিমাণ মালামাল জব্দ করার কথাও জানিয়েছে পুলিশ। তবে ছাবেরকে আটক করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
একটি বেসরকারি সংস্থার ঈদগড় শাখার ব্যবস্থাপক মো. রবিউল ইসলাম জানান, সোমবার দুপুর ১২টার দিকে তিনি আরেকজনকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে ঈদগাঁও বাজার থেকে ঈদগড় যাচ্ছিলেন। তাদের সঙ্গে ছিল ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। হিমছড়ি ঢালায় পৌঁছালে মুখোশধারী কয়েকজন সশস্ত্র ব্যক্তি তাদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন। পরে তাদের পাশের জঙ্গলে নিয়ে মারধর করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, দুটি মোবাইল ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
একই সড়কে ডাকাতির শিকার হন আরেকটি বেসরকারি সংস্থার ঈদগড় শাখার হিসাবরক্ষক আবদুল হাকিম। তিনি জানান, তিনজন একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ঈদগাঁও থেকে ঈদগড় যাচ্ছিলেন। পথে তাদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পাশের জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মারধর করে তাদের কাছ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও ব্যাংকের চেকবই ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
আবদুল হাকিম বলেন, এই সড়কে প্রায়ই লুটপাটের ঘটনা ঘটে। অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনাও ঘটছে। অথচ যাত্রীদের নিরাপত্তায় কার্যকর ব্যবস্থা নেই।
ডাকাতদের কবলে পড়া ঈদগড়ের বাসিন্দা মোহাম্মদ তারেক জানান, সোমবার সকালে পাঁচ যাত্রী নিয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ঈদগাঁও থেকে ঈদগড় যাচ্ছিলেন তিনি। হিমছড়ি ঢালায় পৌঁছালে তাদের অটোরিকশাটি ডাকাতদের কবলে পড়ে। এ সময় তার মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে জীবন বাঁচাতে চলন্ত অটোরিকশা থেকে লাফ দিয়ে পালিয়ে যান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, পাহাড়ি বনাঞ্চলের মধ্য দিয়ে যাওয়া সড়কটির নির্জন অংশে চলাচলের সময় যাত্রীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। ডাকাতির পাশাপাশি অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। ঈদগাঁও, ঈদগড় ও বাইশারী এলাকার মানুষের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
ঈদগাঁও থানার ওসি এ টি এম সিফাতুল মাজদার বলেন, ডাকাতেরা কয়েকটি মোটরসাইকেল ও একটি অটোরিকশা থামিয়ে অস্ত্রের মুখে লুটপাট করেছে। ডাকাতির খবর ছড়িয়ে পড়লে কিছু দূরে অন্য যানবাহনগুলোও থেমে যায়। এ কারণে অনেকে ৫০ থেকে ৬০টি যানবাহনে ডাকাতির কথা প্রচার করেছেন। যা সত্য নয়। তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত দুজন ভুক্তভোগীকে পেয়েছে।
ওসি আরও বলেন, ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আলোচিত ডাকাত ছাবেরের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তার স্ত্রী ও ছেলেকে আটক করা হয়েছে। ওই বাড়ি থেকে ডাকাতির বিপুল পরিমাণ মালামাল জব্দ করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে পাহাড়ি এলাকায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




















