স্কুল কমিটিতে অনিয়মের অভিযোগের মাঝেই বিএনপি নেতার আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল
- আপডেট সময় ০২:৩৯:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
- / ২৮ বার পড়া হয়েছে
বরিশালের উজিরপুরে বিএনপি নেতা মো. আতিকুল ইসলাম নান্নু বালীর একটি ‘আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায়’ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে তাকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন নেতাকর্মীরা। তবে নান্নু বালীর দাবি, ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি। এ ঘটনায় দুই মাস আগে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
নান্নু বালী সাতলা ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি। সম্প্রতি তিনি উজিরপুরের সাতলা উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অ্যাডহক ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক প্রতিনিধি হয়েছেন। তবে ওই কমিটি গঠনে বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, বরিশালে অভিযোগও জমা পড়েছে।
স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযোগ, নান্নু বালীর কর্মকাণ্ডে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের দায় দল নিতে পারে না। এ অবস্থায় তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া এবং দল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে নান্নু বালীর দাবি, ভিডিওটি কে বা কারা ছড়িয়েছেন, তা তিনি জানেন না। এটি এআই দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুই মাস আগে থানায় জিডি করেছেন। এ ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হলে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকিও দিয়েছেন তিনি।
সাতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘আমি ভিডিওটি অনেক আগেই দেখেছি এবং বিষয়টি উপজেলা বিএনপির নেতারাও জানেন। বিষয়টি জানার পরও দলের সংশ্লিষ্ট নেতারা কোনো পদক্ষেপ নেননি। ভিডিওটি নিয়ে আমি আগেও বলেছি, কিন্তু কেউ কোনো পদক্ষেপ নেননি।’
উজিরপুর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি এস এম আলাউদ্দিন বলেন, ‘আমি এ ধরনের কোনো ভিডিও দেখিনি। তবে এ ধরনের অভিযোগ আমাদের কাছে এলে দলীয় ফোরামে আলোচনা করে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সর্বেশ্বর বিশ্বাস বলেন, ‘আমি ভিডিওটি দেখিনি। নান্নু বালীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এলে এ বিষয়ে প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিতে পারে।’
উজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি পুরোনো। নান্নু বালী থানায় জিডি করে থাকলে সেটি তদন্ত করা হচ্ছে। তবে তিনি জিডি করেছেন কি না, তা নিশ্চিত নই।’
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, বরিশালের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. জসিম উদ্দিন বলেন, আমরা আসলে এ ধরনের ব্যক্তিদের দিয়ে কমিটি অনুমোদন করি না। এটা আমাদের কাছে পাঠিয়েছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও ইউএনও। আমরা যাচাই করিনি, তাদের পাঠানো নামকেই সত্যি হিসেবে ধরে নিয়েছি। এখন অভিযোগ এলে আমরা তদন্তে যেতে পারি। তবে এসব বিষয় প্রধান শিক্ষকের না জানার কথা নয়। ভালো মানুষদের নিয়েই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চলা উচিত বলে আমি মনে করি।










