পশ্চিমবঙ্গের টোল প্লাজায় হেনস্তা
বাংলায় কথা বলায় ভারতীয় ট্রাকচালককে ‘বাংলাদেশি’ বলে কটূক্তি
- আপডেট সময় ০৫:১১:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
- / ৩১ বার পড়া হয়েছে
ভারতে টোল আদায়ের সময় বাংলা ভাষায় কথা বলতে বলায় এক মুসলিম ট্রাক চালককে ‘বাংলাদেশি’ বলে কটূক্তি ও গালিগালাজ করার অভিযোগ উঠেছে এক টোল প্লাজা কর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বাংলাভাষীদের প্রতি বৈষম্য ও হয়রানি নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত ৯টা নাগাদ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুর্শিদাবাদ জেলার নবগ্রাম থানা এলাকার ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের শিবপুর টোল প্লাজায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই সংক্রান্ত একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনার ঝড় ওঠে।
ভুক্তভোগী ট্রাক চালক রফিকুল খান নদীয়া জেলার থানাড়পাড়া থানার অন্তর্গত নারায়ণপুরের বাসিন্দা। তিনি করিমপুর থেকে ১৬ টন কলা নিয়ে শিলিগুড়ির উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। শিবপুর টোল প্লাজায় টোল দেওয়ার সময় ঘটনাটির সূত্রপাত হয়।
রফিকুল জানান, তিনি বাংলায় কথা বলছিলেন, কিন্তু টোল প্লাজার কর্মী তাঁর কাছে এসে হিন্দিতে কথা বলতে শুরু করেন। রফিকুল তাকে জানান যে তিনি হিন্দি বুঝতে পারেন না এবং বাংলায় কথা বলার অনুরোধ করেন। অভিযোগ উঠেছে, এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই কর্মী তার নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং তাকে ‘বাংলাদেশি’ বলে গালিগালাজ করেন।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো ভিডিওতে টোল কর্মীকে বলতে শোনা যায়, “তুমি কি ভারতের বাইরের লোক? তুমি কি বাংলাদেশি? তুমি কি বাংলাদেশি যে তোমার সাথে বাংলায় কথা বলতে হবে?”রফিকুল খান জানান, তিনি এই দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদ করলেও এখনো পর্যন্ত কোনো প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি।
স্থানীয় এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ঘটনাটির বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা পড়লে পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহল থেকে তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। সমালোচকরা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, বাংলা ভারতের সংবিধানের অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত ২২টি ভাষার একটি এবং কোটি কোটি ভারতীয় নাগরিকের মাতৃভাষা। কেবল বাংলায় কথা বলার জন্য কাউকে ‘বাংলাদেশি’ বলে সন্দেহ করা এক ধরনের সংকীর্ণ মানসিকতা ও ভাষাগত বৈষম্যের বহিঃপ্রকাশ।
‘দ্য অবজারভার পোস্ট’-এর সঙ্গে আলাপকালে শিক্ষক আলমগীর হোসেন বলেন, “ভারত ও পাকিস্তানের উভয় পাশেই যেমন পাঞ্জাবি ভাষাভাষী মানুষ রয়েছেন, তেমনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও আসাম জুড়ে বিশাল সংখ্যক বাংলাভাষী ভারতীয় নাগরিক বসবাস করেন। সব বাংলাভাষী মানুষই ‘বাংলাদেশি’—এমন সংকীর্ণ ও বিদ্বেষপূর্ণ ধারণা জাতীয় ঐক্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে। এটি স্পষ্টতই একটি আঞ্চলিক ও জাতিগত বৈষম্যমূলক হয়রানি। স্থানীয় প্রশাসন ও টোল প্লাজা কর্তৃপক্ষের উচিত ঘটনার তদন্ত করে অভিযুক্ত কর্মীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।”
আইনজীবী মাসুম রহমানও এই ঘটনার কড়া নিন্দা জানিয়ে বলেন, এ ধরনের বিদ্বেষমূলক আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিটি সচেতন নাগরিকের প্রতিবাদ জানানো উচিত।













