ঢাকা ০২:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিশিগানে রিপাবলিকান প্রার্থীকে পেছনে ফেলে এগিয়ে মুসলিম প্রার্থী এল-সাইয়েদ

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:১৫:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
  • / ২২ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট নির্বাচনে প্রাথমিক ভোট গণনায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ এগিয়ে রয়েছেন। এখন পর্যন্ত গণনা করা ভোটের হিসাবে তিনি পেয়েছেন ৫৪ দশমিক ৩ শতাংশ। তার প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স পেয়েছেন ৪৪ শতাংশ ভোট। তবে ভোট গণনা শেষ না হওয়ায় এখনই কাউকে বিজয়ী ঘোষণা করা হচ্ছে না।

নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এল-সাইয়েদকে হারাতে হলে মাইক রজার্সকে বাকি ভোটের অন্তত ৫০ দশমিক ৬ শতাংশ পেতে হবে।

স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো ও মুসলিম আমেরিকানদের প্রতিনিধিত্ব—এই তিন বিষয়কে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী। প্রাথমিক ফলাফলে রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক রজার্সের চেয়ে এগিয়ে থাকলেও তখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করেনি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ এগিয়ে রয়েছেন। প্রাথমিক ফলাফলে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন তিনি। তবে নির্বাচনের ফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।

নির্বাচনের শেষ দিনগুলোতে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিকে প্রচারের মূল বিষয় হিসেবে তুলে ধরেন এল-সায়েদ। মিশিগানের সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও অভিবাসী পরিবারের সন্তান এই প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচার যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে আরব ও মুসলিম আমেরিকানদের অংশগ্রহণ এবং প্রতিনিধিত্বের বিষয়টিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।

স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে প্রচার

অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে নির্বাচনী প্রচার জোরদার করেন এল-সায়েদ। ২৮ অক্টোবর মিশিগানের ওয়াইয়ানডটে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলার সময় ফেডারেল মেডিকেইড কর্মসূচিতে অর্থ বরাদ্দ কমানোর সমালোচনা করেন তিনি। এল-সায়েদের বক্তব্য, এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। তাঁর মতে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো অভ্যন্তরীণ খাতে সরকারি ব্যয় বাড়ানো উচিত।

পরদিন সিনেটর এলিসা স্লটকিনের সঙ্গে ওয়েস্টার্ন মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলার অডিটোরিয়ামে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেন তিনি। নীতিগত বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও এল-সায়েদের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন স্লটকিন।

এ সময় নিজের মুসলিম পরিচয়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক আক্রমণেরও জবাব দেন এল-সায়েদ। তিনি বলেন, ব্যক্তির নাম বা ধর্মীয় পরিচয় নয়, বরং মানুষের জীবনযাত্রার বাস্তব সমস্যাই নির্বাচনের মূল আলোচ্য হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, ‘আমার নাম ও ধর্মবিশ্বাসের কারণে আপনারা বাজারের খরচ বহন করতে পারছেন না, এমন নয়। আমার নাম ও ধর্মবিশ্বাসের কারণে আপনাদের জ্বালানি কিনতে সমস্যা হচ্ছে, এমনও নয়। আমার নাম ও ধর্মবিশ্বাসের কারণে আপনারা চিকিৎসকের কাছে যেতে পারছেন না, সেটিও নয়।’

তার মতে, মুসলিম পরিচয় নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের পরিবর্তে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক সংকট ও স্বাস্থ্যসেবার বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

ডেমোক্র্যাট শিবিরে বিভক্তি, রজার্সকে সমর্থন স্টিভেন্সের

নির্বাচনের শেষ সপ্তাহে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যও প্রকাশ্যে আসে। এল-সায়েদের সাবেক দলীয় মনোনয়ন প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেস সদস্য হ্যালি স্টিভেন্স শেষ মুহূর্তে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে সমর্থন জানান। এর আগে স্টিভেন্স এল-সায়েদকে একটি রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনের নিন্দা জানানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। বিজ্ঞাপনটি একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠীর তৈরি ছিল এবং এতে ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা ও গাজা যুদ্ধের বিষয় তুলে ধরা হয়েছিল।

এল-সায়েদ জানান, বিজ্ঞাপনটি তার নির্বাচনী প্রচার দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় এবং তিনি এর সঙ্গে একমত নন।

১ নভেম্বর একটি গির্জার অনুষ্ঠানে রজার্সের পাশে দেখা যাওয়ার পর স্টিভেন্স তাঁর প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেন। এর আগে ৭ আগস্ট সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজেকে মিশিগানের একজন জায়নিস্ট ডেমোক্র্যাট হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন স্টিভেন্স।

ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে দুই প্রার্থীর মধ্যে মতপার্থক্য নির্বাচনী প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

স্টিভেন্সের অবস্থান পরিবর্তনের সমালোচনা করেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কয়েকজন নেতা। তবে এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে এল-সায়েদ ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতির পরিবর্তে ভোটারদের সমস্যা নিয়ে আলোচনার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, “দিন শেষে আমি আসলে হ্যালি স্টিভেন্সকে নিয়ে ভাবছি না। রাজনীতির চেয়ে নীতিগত বিষয়গুলো নিয়েই আমার আগ্রহ বেশি। মিশিগানের এক কোটি মানুষ সরকারের কাছ থেকে আরও ভালো সেবা পাওয়ার অধিকার রাখেন।”

তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষ অতিরিক্ত দামে জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনছেন। তাঁদের সন্তানদের শিক্ষার মান, বাতাসের গুণগত মান এবং পানীয় জলের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

স্টিভেন্স রজার্সকে সমর্থন জানানোর পর এক দিনেই এল-সায়েদের নির্বাচনী তহবিলে ৬৫ হাজারের বেশি দাতার কাছ থেকে ২৪ লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ জমা পড়ে।

শেষ মুহূর্তে প্রচারে ওয়ারেনের অংশগ্রহণ

২ নভেম্বর ইয়েপসিলান্টির ইস্টার্ন মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেনের সঙ্গে শেষ নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নেন এল-সায়েদ।

এ ছাড়া ইউনাইটেড অটো ওয়ার্কার্সের আয়োজিত অনুষ্ঠানেও একাধিকবার বক্তব্য দেন তিনি।

নির্বাচনী প্রচারের প্রতিটি পর্যায়ে বিভিন্ন বর্ণ, ধর্ম ও পরিচয়ের মানুষের মধ্যে সংহতির ওপর গুরুত্ব দেন এল-সায়েদ। তাঁর প্রচারের অন্যতম লক্ষ্য ছিল অভিন্ন অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যা সামনে রেখে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করা।

নির্বাচনের রাতের চিত্র: রজার্সের চেয়ে এগিয়ে এল-সায়েদ
৩ নভেম্বর নির্বাচনের রাতে মিশিগানের সিনেট আসনের ভোট গণনায় এগিয়ে ছিলেন আবদুল এল-সায়েদ। রাত ১১টা ৪৪ মিনিট পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রত্যাশিত মোট ভোটের প্রায় ৪০ দশমিক ৫ শতাংশ গণনা সম্পন্ন হয়েছিল। তখন এল-সায়েদ পেয়েছিলেন ১০ লাখ ১৪ হাজার ৬৩০ ভোট। অন্যদিকে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স পেয়েছিলেন ৯ লাখ ৪৭ হাজার ১৪১ ভোট।

নির্বাচনের আগের জরিপেও এগিয়ে ছিলেন এল-সায়েদ

মিচেল রিসার্চ: এল-সায়েদ ৫১ শতাংশ, মাইক রজার্স ৪৪ শতাংশ। নিউইয়র্ক টাইমস: এল-সায়েদ ৫৩ শতাংশ, মাইক রজার্স ৪২ শতাংশ। নির্বাচনী পূর্বাভাস: একটি পূর্বাভাসে এল-সায়েদের জয়ের সম্ভাবনা ৮৮ শতাংশ বলা হয়েছিল। নির্বাচনের দিন সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার বলেছিলেন, এল-সায়েদ জয়ী হবেন। কারণ তিনি মিশিগানের মানুষের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, জ্বালানি ব্যয় ও স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কথা বলেছেন।

আরব ও মুসলিম আমেরিকানদের প্রতিনিধিত্বে নতুন আলোচনার সুযোগ

এল-সায়েদের এগিয়ে থাকা শেষ পর্যন্ত বিজয়ে রূপ নিলে তা মিশিগানের রাজনীতিতে আরব ও মুসলিম আমেরিকানদের প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হয়ে উঠতে পারে।

একই সঙ্গে একজন চিকিৎসক ও সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তার মার্কিন সিনেটে যাওয়ার পথ তৈরি হবে। তাঁর নির্বাচনী প্রচার স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনৈতিক সংকট, ধর্মীয় পরিচয় এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির মতো বিষয়গুলোকে সামনে নিয়ে এসেছে।

প্রতিবেদনের সর্বশেষ অবস্থা: ৩ নভেম্বর ২০২৬, রাত ১১টা ৪৪ মিনিট। ওই সময় পর্যন্ত মিশিগানের সিনেট নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করা হয়নি।

এবারের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনে এবং সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতে ভোট হয়েছে। এ ছাড়া ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচন হয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের এসব আসনের নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে।

বর্তমানে দুই কক্ষই রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে। ডেমোক্র্যাটরা অন্তত একটি কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে চাইছে। ভোট গণনা শুরুর পর প্রথম ফলাফল আসতে শুরু করেছে। ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মার্ক ওয়ার্নারকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।

সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে আলাস্কা, আইওয়া, কানসাস, মেইন, মিশিগান, ওহাইও, টেক্সাসের মতো অঙ্গরাজ্যের ফলাফল।

নিউজটি শেয়ার করুন

মিশিগানে রিপাবলিকান প্রার্থীকে পেছনে ফেলে এগিয়ে মুসলিম প্রার্থী এল-সাইয়েদ

আপডেট সময় ০১:১৫:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট নির্বাচনে প্রাথমিক ভোট গণনায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ এগিয়ে রয়েছেন। এখন পর্যন্ত গণনা করা ভোটের হিসাবে তিনি পেয়েছেন ৫৪ দশমিক ৩ শতাংশ। তার প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স পেয়েছেন ৪৪ শতাংশ ভোট। তবে ভোট গণনা শেষ না হওয়ায় এখনই কাউকে বিজয়ী ঘোষণা করা হচ্ছে না।

নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এল-সাইয়েদকে হারাতে হলে মাইক রজার্সকে বাকি ভোটের অন্তত ৫০ দশমিক ৬ শতাংশ পেতে হবে।

স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো ও মুসলিম আমেরিকানদের প্রতিনিধিত্ব—এই তিন বিষয়কে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী। প্রাথমিক ফলাফলে রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক রজার্সের চেয়ে এগিয়ে থাকলেও তখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করেনি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ এগিয়ে রয়েছেন। প্রাথমিক ফলাফলে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন তিনি। তবে নির্বাচনের ফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।

নির্বাচনের শেষ দিনগুলোতে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিকে প্রচারের মূল বিষয় হিসেবে তুলে ধরেন এল-সায়েদ। মিশিগানের সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও অভিবাসী পরিবারের সন্তান এই প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচার যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে আরব ও মুসলিম আমেরিকানদের অংশগ্রহণ এবং প্রতিনিধিত্বের বিষয়টিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।

স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে প্রচার

অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে নির্বাচনী প্রচার জোরদার করেন এল-সায়েদ। ২৮ অক্টোবর মিশিগানের ওয়াইয়ানডটে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলার সময় ফেডারেল মেডিকেইড কর্মসূচিতে অর্থ বরাদ্দ কমানোর সমালোচনা করেন তিনি। এল-সায়েদের বক্তব্য, এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। তাঁর মতে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো অভ্যন্তরীণ খাতে সরকারি ব্যয় বাড়ানো উচিত।

পরদিন সিনেটর এলিসা স্লটকিনের সঙ্গে ওয়েস্টার্ন মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলার অডিটোরিয়ামে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেন তিনি। নীতিগত বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও এল-সায়েদের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন স্লটকিন।

এ সময় নিজের মুসলিম পরিচয়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক আক্রমণেরও জবাব দেন এল-সায়েদ। তিনি বলেন, ব্যক্তির নাম বা ধর্মীয় পরিচয় নয়, বরং মানুষের জীবনযাত্রার বাস্তব সমস্যাই নির্বাচনের মূল আলোচ্য হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, ‘আমার নাম ও ধর্মবিশ্বাসের কারণে আপনারা বাজারের খরচ বহন করতে পারছেন না, এমন নয়। আমার নাম ও ধর্মবিশ্বাসের কারণে আপনাদের জ্বালানি কিনতে সমস্যা হচ্ছে, এমনও নয়। আমার নাম ও ধর্মবিশ্বাসের কারণে আপনারা চিকিৎসকের কাছে যেতে পারছেন না, সেটিও নয়।’

তার মতে, মুসলিম পরিচয় নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের পরিবর্তে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক সংকট ও স্বাস্থ্যসেবার বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

ডেমোক্র্যাট শিবিরে বিভক্তি, রজার্সকে সমর্থন স্টিভেন্সের

নির্বাচনের শেষ সপ্তাহে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যও প্রকাশ্যে আসে। এল-সায়েদের সাবেক দলীয় মনোনয়ন প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেস সদস্য হ্যালি স্টিভেন্স শেষ মুহূর্তে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে সমর্থন জানান। এর আগে স্টিভেন্স এল-সায়েদকে একটি রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনের নিন্দা জানানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। বিজ্ঞাপনটি একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠীর তৈরি ছিল এবং এতে ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা ও গাজা যুদ্ধের বিষয় তুলে ধরা হয়েছিল।

এল-সায়েদ জানান, বিজ্ঞাপনটি তার নির্বাচনী প্রচার দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় এবং তিনি এর সঙ্গে একমত নন।

১ নভেম্বর একটি গির্জার অনুষ্ঠানে রজার্সের পাশে দেখা যাওয়ার পর স্টিভেন্স তাঁর প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেন। এর আগে ৭ আগস্ট সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজেকে মিশিগানের একজন জায়নিস্ট ডেমোক্র্যাট হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন স্টিভেন্স।

ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে দুই প্রার্থীর মধ্যে মতপার্থক্য নির্বাচনী প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

স্টিভেন্সের অবস্থান পরিবর্তনের সমালোচনা করেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কয়েকজন নেতা। তবে এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে এল-সায়েদ ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতির পরিবর্তে ভোটারদের সমস্যা নিয়ে আলোচনার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, “দিন শেষে আমি আসলে হ্যালি স্টিভেন্সকে নিয়ে ভাবছি না। রাজনীতির চেয়ে নীতিগত বিষয়গুলো নিয়েই আমার আগ্রহ বেশি। মিশিগানের এক কোটি মানুষ সরকারের কাছ থেকে আরও ভালো সেবা পাওয়ার অধিকার রাখেন।”

তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষ অতিরিক্ত দামে জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনছেন। তাঁদের সন্তানদের শিক্ষার মান, বাতাসের গুণগত মান এবং পানীয় জলের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

স্টিভেন্স রজার্সকে সমর্থন জানানোর পর এক দিনেই এল-সায়েদের নির্বাচনী তহবিলে ৬৫ হাজারের বেশি দাতার কাছ থেকে ২৪ লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ জমা পড়ে।

শেষ মুহূর্তে প্রচারে ওয়ারেনের অংশগ্রহণ

২ নভেম্বর ইয়েপসিলান্টির ইস্টার্ন মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেনের সঙ্গে শেষ নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নেন এল-সায়েদ।

এ ছাড়া ইউনাইটেড অটো ওয়ার্কার্সের আয়োজিত অনুষ্ঠানেও একাধিকবার বক্তব্য দেন তিনি।

নির্বাচনী প্রচারের প্রতিটি পর্যায়ে বিভিন্ন বর্ণ, ধর্ম ও পরিচয়ের মানুষের মধ্যে সংহতির ওপর গুরুত্ব দেন এল-সায়েদ। তাঁর প্রচারের অন্যতম লক্ষ্য ছিল অভিন্ন অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যা সামনে রেখে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করা।

নির্বাচনের রাতের চিত্র: রজার্সের চেয়ে এগিয়ে এল-সায়েদ
৩ নভেম্বর নির্বাচনের রাতে মিশিগানের সিনেট আসনের ভোট গণনায় এগিয়ে ছিলেন আবদুল এল-সায়েদ। রাত ১১টা ৪৪ মিনিট পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রত্যাশিত মোট ভোটের প্রায় ৪০ দশমিক ৫ শতাংশ গণনা সম্পন্ন হয়েছিল। তখন এল-সায়েদ পেয়েছিলেন ১০ লাখ ১৪ হাজার ৬৩০ ভোট। অন্যদিকে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স পেয়েছিলেন ৯ লাখ ৪৭ হাজার ১৪১ ভোট।

নির্বাচনের আগের জরিপেও এগিয়ে ছিলেন এল-সায়েদ

মিচেল রিসার্চ: এল-সায়েদ ৫১ শতাংশ, মাইক রজার্স ৪৪ শতাংশ। নিউইয়র্ক টাইমস: এল-সায়েদ ৫৩ শতাংশ, মাইক রজার্স ৪২ শতাংশ। নির্বাচনী পূর্বাভাস: একটি পূর্বাভাসে এল-সায়েদের জয়ের সম্ভাবনা ৮৮ শতাংশ বলা হয়েছিল। নির্বাচনের দিন সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার বলেছিলেন, এল-সায়েদ জয়ী হবেন। কারণ তিনি মিশিগানের মানুষের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, জ্বালানি ব্যয় ও স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কথা বলেছেন।

আরব ও মুসলিম আমেরিকানদের প্রতিনিধিত্বে নতুন আলোচনার সুযোগ

এল-সায়েদের এগিয়ে থাকা শেষ পর্যন্ত বিজয়ে রূপ নিলে তা মিশিগানের রাজনীতিতে আরব ও মুসলিম আমেরিকানদের প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হয়ে উঠতে পারে।

একই সঙ্গে একজন চিকিৎসক ও সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তার মার্কিন সিনেটে যাওয়ার পথ তৈরি হবে। তাঁর নির্বাচনী প্রচার স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনৈতিক সংকট, ধর্মীয় পরিচয় এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির মতো বিষয়গুলোকে সামনে নিয়ে এসেছে।

প্রতিবেদনের সর্বশেষ অবস্থা: ৩ নভেম্বর ২০২৬, রাত ১১টা ৪৪ মিনিট। ওই সময় পর্যন্ত মিশিগানের সিনেট নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করা হয়নি।

এবারের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনে এবং সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতে ভোট হয়েছে। এ ছাড়া ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচন হয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের এসব আসনের নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে।

বর্তমানে দুই কক্ষই রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে। ডেমোক্র্যাটরা অন্তত একটি কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে চাইছে। ভোট গণনা শুরুর পর প্রথম ফলাফল আসতে শুরু করেছে। ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মার্ক ওয়ার্নারকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।

সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে আলাস্কা, আইওয়া, কানসাস, মেইন, মিশিগান, ওহাইও, টেক্সাসের মতো অঙ্গরাজ্যের ফলাফল।