ঢাকা ০২:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভিডিও ভাইরালের ভয় দেখিয়ে ইউপি চেয়ারম্যানকে ব্ল্যাকমেইল, ছাত্রদল নেতা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরের বিরুদ্ধে মামলা

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০১:৩৭:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
  • / ২২ বার পড়া হয়েছে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত ও আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যানের কাছে টাকা দাবির অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ মামলায় আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলায় সখিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জিসান বাবুল ও চেয়ারম্যানের সাবেক স্ত্রীকেও আসামি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দিবাগত রাতে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার চণ্ডীপুর গ্রাম থেকে আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে করা এ মামলায় তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত ভিডিও ব্যবহার করে ভয়ভীতি প্রদর্শন, অর্থ দাবি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশের অভিযোগ আনা হয়েছে।

গ্রেপ্তার আব্দুল্লাহ আল মামুন দেবহাটা উপজেলার চণ্ডীপুর প্রি-ক্যাডেট স্কুলের পরিচালক করিম উল্লাহ মাস্টারের ছেলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পর্নোগ্রাফি, চাঁদাবাজি, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ভিডিও তৈরি করে বক্তব্য দেওয়ায় তিনি এলাকায় আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিত।

গত ১ নভেম্বর দেবহাটা উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বর্তমানে সাতক্ষীরার বাসিন্দা সাহেব আলী বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় মামলাটি করেন। মামলায় সখিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জিসান বাবুলকে প্রধান আসামি, আব্দুল্লাহ আল মামুনকে দ্বিতীয় এবং বাদীর দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস ওরফে মৌসুমীকে তৃতীয় আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কারণে প্রায় ছয় থেকে সাত মাস আগে সাহেব আলী তার স্ত্রীকে তালাক দেন। পরে ওই নারীর সঙ্গে মামলার অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পরিচয় ও যোগাযোগ হয়। বাদীর অভিযোগ, তার অজান্তে দাম্পত্য জীবনের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ধারণ করে রেখেছিলেন সাবেক স্ত্রী। পরবর্তী সময়ে অভিযুক্তরা সেসব ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে হোয়াটসঅ্যাপে তাকে পাঠান।

এজাহারে বলা হয়, গত ১৫ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও পাঠিয়ে সাহেব আলীকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। অভিযুক্তদের কথা না শুনলে বড় ধরনের ক্ষতি করার হুমকিও দেওয়া হয়। পরে ২০ অক্টোবর সন্ধ্যা সাতটার দিকে আবার যোগাযোগ করে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন বাদী।

এ ছাড়া গত ২৯ অক্টোবর বিকেল চারটার দিকে ‘সখিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদল’ নামের একটি ফেসবুক আইডি এবং ১ নভেম্বর দুপুর দুইটার দিকে আব্দুল্লাহ আল মামুনের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে বাদীর ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও মানহানির শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেছেন সাহেব আলী। অভিযোগের সমর্থনে ভিডিও, স্ক্রিনশট ও অডিও রেকর্ডিং সংরক্ষিত রয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাহেব আলী বলেন, সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে ধারণ করা ব্যক্তিগত ও আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার কাছে টাকা দাবি করা হচ্ছিল। প্রথমে পাঁচ লাখ, পরে তিন লাখ এবং একপর্যায়ে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে ৫০ হাজার টাকায় সমঝোতা হয়। টাকা দেওয়ার পরও তাকে ব্ল্যাকমেল করা হচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে আপত্তিকর ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছিল। নিরুপায় হয়ে তিনি থানায় মামলা করেছেন।

সাতক্ষীরা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জামিল কবির বলেন, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলার আসামি আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়সহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ভিডিও ভাইরালের ভয় দেখিয়ে ইউপি চেয়ারম্যানকে ব্ল্যাকমেইল, ছাত্রদল নেতা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট সময় ০১:৩৭:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত ও আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যানের কাছে টাকা দাবির অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ মামলায় আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলায় সখিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জিসান বাবুল ও চেয়ারম্যানের সাবেক স্ত্রীকেও আসামি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দিবাগত রাতে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার চণ্ডীপুর গ্রাম থেকে আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে করা এ মামলায় তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত ভিডিও ব্যবহার করে ভয়ভীতি প্রদর্শন, অর্থ দাবি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশের অভিযোগ আনা হয়েছে।

গ্রেপ্তার আব্দুল্লাহ আল মামুন দেবহাটা উপজেলার চণ্ডীপুর প্রি-ক্যাডেট স্কুলের পরিচালক করিম উল্লাহ মাস্টারের ছেলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পর্নোগ্রাফি, চাঁদাবাজি, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ভিডিও তৈরি করে বক্তব্য দেওয়ায় তিনি এলাকায় আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিত।

গত ১ নভেম্বর দেবহাটা উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বর্তমানে সাতক্ষীরার বাসিন্দা সাহেব আলী বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় মামলাটি করেন। মামলায় সখিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জিসান বাবুলকে প্রধান আসামি, আব্দুল্লাহ আল মামুনকে দ্বিতীয় এবং বাদীর দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস ওরফে মৌসুমীকে তৃতীয় আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কারণে প্রায় ছয় থেকে সাত মাস আগে সাহেব আলী তার স্ত্রীকে তালাক দেন। পরে ওই নারীর সঙ্গে মামলার অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পরিচয় ও যোগাযোগ হয়। বাদীর অভিযোগ, তার অজান্তে দাম্পত্য জীবনের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ধারণ করে রেখেছিলেন সাবেক স্ত্রী। পরবর্তী সময়ে অভিযুক্তরা সেসব ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে হোয়াটসঅ্যাপে তাকে পাঠান।

এজাহারে বলা হয়, গত ১৫ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও পাঠিয়ে সাহেব আলীকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। অভিযুক্তদের কথা না শুনলে বড় ধরনের ক্ষতি করার হুমকিও দেওয়া হয়। পরে ২০ অক্টোবর সন্ধ্যা সাতটার দিকে আবার যোগাযোগ করে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন বাদী।

এ ছাড়া গত ২৯ অক্টোবর বিকেল চারটার দিকে ‘সখিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদল’ নামের একটি ফেসবুক আইডি এবং ১ নভেম্বর দুপুর দুইটার দিকে আব্দুল্লাহ আল মামুনের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে বাদীর ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও মানহানির শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেছেন সাহেব আলী। অভিযোগের সমর্থনে ভিডিও, স্ক্রিনশট ও অডিও রেকর্ডিং সংরক্ষিত রয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাহেব আলী বলেন, সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে ধারণ করা ব্যক্তিগত ও আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার কাছে টাকা দাবি করা হচ্ছিল। প্রথমে পাঁচ লাখ, পরে তিন লাখ এবং একপর্যায়ে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে ৫০ হাজার টাকায় সমঝোতা হয়। টাকা দেওয়ার পরও তাকে ব্ল্যাকমেল করা হচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে আপত্তিকর ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছিল। নিরুপায় হয়ে তিনি থানায় মামলা করেছেন।

সাতক্ষীরা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জামিল কবির বলেন, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলার আসামি আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়সহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।