ঢাকা ০৬:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারি নিয়োগব্যবস্থায় ছাত্রশিবিরের ১৩ দফা সংস্কার প্রস্তাব 

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৬:০৭:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
  • / ২১ বার পড়া হয়েছে

সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও মেধার মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে ১৩ দফা সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এ দাবিগুলো তুলে ধরেন।  প্রস্তাবনায় সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) কাঠামোগত সংস্কার, সব সরকারি চাকরির নিয়োগ পিএসসির অধীনে আনা, নিয়োগপ্রক্রিয়া সর্বোচ্চ ১২ মাসে সম্পন্ন এবং পুলিশ ভেরিফিকেশন ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে শেষ করার দাবি জানানো হয়েছে।

ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে বলা হয়, ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী জুলাই অভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি বৈষম্যহীন, মেধাভিত্তিক ও ইনসাফপূর্ণ নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ। রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে যোগ্যতা, দক্ষতা ও সততার মূল্যায়ন এবং দলীয় প্রভাবমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলাই ছিল এই অভ্যুত্থানের প্রধান দাবি। তবে বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসহ প্রতিটি সেক্টরকে নিজেদের প্রভাববলয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করা হয়।

সংগঠনটির প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে পিএসসির কাঠামোগত সংস্কার করতে হবে। চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ বাছাই কমিটি গঠন করতে হবে। নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, সততা ও পেশাগত দক্ষতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

পিএসসি সংস্কার ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ
১. জুলাই সনদে উল্লিখিত প্রস্তাবনা অনুযায়ী পিএসসির কাঠামোগত সংস্কার এবং চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ বাছাই কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিতে হবে এবং নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, সততা ও পেশাগত দক্ষতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব  দিতে হবে।

২. সরকারী সকল চাকুরির নিয়োগ পিএসসির মাধ্যমে হতে হবে। বিশেষ করে ৯ম ও ১০ গ্রেডের সরকারী চাকুরির সকল নিয়োগ পিএসসির অধিনে আনতে হবে এবং পিএসসির নিয়োগ প্রক্রিয়া, পরীক্ষা ও ফলাফল প্রকাশের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় বা অন্য কোন মহলের অনানুষ্ঠানিক চাপ ও হস্তক্ষেপ সম্পূর্ণরুপে বন্ধ করতে হবে। প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।

৩. কোডভিত্তিক খাতা মূল্যায়ন, কম্পিটেন্সি বেইজড ইন্টারভিউ’, প্রশ্নফাস ঠেকাতে নেওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদার এবং ‘ওয়ান ইয়ার, ওয়ান বিসিএস’ নীতিসহ মোনেম কমিশনের নেওয়া সংস্কার উদ্যোগগুলো বহাল রাখতে হবে।

৪. মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরগুলোকে নিজ নিজ দপ্তরের অনুমোদিত শূন্য পদ, সম্ভাব্য অবসর, নতুন পদ সৃষ্টি এবং জনবল চাহিদার তথ্য নির্ধারিত সময়ে পিএসসিকে সরবরাহ করতে হবে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে পিএসসি ও নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সমন্বিত বার্ষিক নিয়োগ ক্যালেন্ডার প্রকাশ করবে।

৫. নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ থেকে চূড়ান্ত নিয়োগ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১২ মাসের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। একটি নিয়োগপ্রক্রিয়া চলমান থাকতেই পরবর্তী নিয়োগের প্রস্তুতি শুরু করতে হবে, যাতে নিয়োগের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। পাশাপাশি নিয়োগপ্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপের অগ্রগতি, ফলাফল প্রকাশের সম্ভাব্য সময় এবং বিলম্বের কারণ ডিজিটাল মাধ্যমে নিয়মিত প্রকাশ করতে হবে। কোনো পর্যায়ে অস্বাভাবিক বিলম্ব হলে তার ব্যাখ্যা জনসমক্ষে দিতে হবে।

৬. রাজনৈতিক পরিচয়, পারিবারিক রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, ব্যক্তিগত যোগাযোগ কিংবা কোন সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ভিত্তিতে প্রার্থীকে বৈষম্যের শিকার করা যাবে না। এ ধরনের বৈষম্য প্রতিরোধ ও নিষ্পত্তির জন্য কার্যকর অভিযোগ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি চালু করতে হবে। তবে, যদি ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোন ফোজদারী অপরাধ প্রমানিত হয় সেটি ভিন্ন বিষয়।

পুলিশ ভেরিফিকেশন ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা
৭. সাধারণ সরকারি নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করতে হবে। পুলিশ ভেরিফিকেশনের উদ্দেশ্য, যাচাইয়ের মানদণ্ড, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ ও সময়সীমা লিখিতভাবে প্রকাশ করতে হবে।

৮. জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য এবং প্রাসঙ্গিক অপরাধসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ডের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এ প্রক্রিয়া সর্বোচ্চ ১৫ কার্ যদিবসের মধ্যে শেষ করার ব্যবস্থা করতে হবে।

৯. ভেরিফিকেশনে কোন নেতিবাচক তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে লিখিতভাবে কারণ জানাতে হবে এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে। ভুল তথ্য বা প্রশাসনিক ত্রুটি সংশোধন, আপিল এবং পুনর্বিবেচনার কার্যকর ব্যবস্থা রাখতে হবে।

১০. নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পদের ধরন ও দায়িত্ব অনুযায়ী লিখিত, মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বর নির্ধারণ করতে হবে। মৌখিক পরীক্ষার জন্য অভিন্ন মূল্যায়ন কাঠামো, নির্ধারিত মানদণ্ড এবং পরীক্ষকদের মূল্যায়নের রেকর্ড সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করতে হবে।

১১. মৌখিক পরীক্ষায় অস্বাভাবিক নম্বর প্রদান বা পরীক্ষকদের মূল্যায়নে বড় ধরনের অসংগতি দেখা গেলে তা পর্যালোচনার কার্যকর ব্যবস্থা রাখতে হবে। এ লক্ষ্যে ভাইভা পরীক্ষার অডিও রেকর্ড সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে কোন প্রার্থী মূল্যায়নে অসংগতির অভিযোগ থাকলে আপিল করতে পারেন এবং তা পনু র্বিবেচনার সুযোগ পান। কোনভাবেই মৌখিক পরীক্ষার অস্বচ্ছ মূল্যায়নের কারণে লিখিত পরীক্ষায় অর্জিত মেধা ও যোগ্যতা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

১২. প্রশ্নফাঁস, প্রক্সি পরীক্ষা ও অন্যান্য অনিয়ম প্রতিরোধে নিরাপদ প্রযুক্তি, ডিজিটাল নজরদারি এবং আধুনিক পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। পিএসসির প্রযুক্তিগত ও পেশাগত সক্ষমতা বাড়াতে দক্ষ জনবল নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে।

জবাবদিহি ও দীর্ঘমেয়াদি প্রশাসনিক সংস্কার—
১৩. সরকারি কর্মচারী আইন, ২০১৮-এর ৮, ১৯ ও ২০ ধারাসহ প্রাসঙ্গিক বিধান পর্যালোচনা করে নিয়োগ, পদোন্নতি, মূল্যায়ন ও জবাবদিহির ক্ষেত্রে মেধা, সততা, দক্ষতা, কর্মসম্পাদন এবং প্রাতিষ্ঠানিক কার্ যকারিতাকে গুরুত্ব দিতে হবে। প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক বিবেচনার পরিবর্তে পেশাগত যোগ্যতা ও জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে।

সংগঠনটির বক্তব্য, সরকারি চাকরি কোনো রাজনৈতিক দলের অনুগত কর্মীদের পুরস্কৃত করার জায়গা নয়; এটি রাষ্ট্রের সেবা করার দায়িত্ব। তাই নিয়োগ হতে হবে যোগ্যতা, দক্ষতা ও সততার ভিত্তিতে। পিএসসিসহ সব সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীন, স্বায়ত্তশাসিত ও জবাবদিহিমূলক করতে হবে।

এসব সংস্কার বাস্তবায়ন না হলে জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাবিরোধী যেকোনো উদ্যোগের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ ও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তোলার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

সরকারি নিয়োগব্যবস্থায় ছাত্রশিবিরের ১৩ দফা সংস্কার প্রস্তাব 

আপডেট সময় ০৬:০৭:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও মেধার মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে ১৩ দফা সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এ দাবিগুলো তুলে ধরেন।  প্রস্তাবনায় সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) কাঠামোগত সংস্কার, সব সরকারি চাকরির নিয়োগ পিএসসির অধীনে আনা, নিয়োগপ্রক্রিয়া সর্বোচ্চ ১২ মাসে সম্পন্ন এবং পুলিশ ভেরিফিকেশন ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে শেষ করার দাবি জানানো হয়েছে।

ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে বলা হয়, ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী জুলাই অভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি বৈষম্যহীন, মেধাভিত্তিক ও ইনসাফপূর্ণ নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ। রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে যোগ্যতা, দক্ষতা ও সততার মূল্যায়ন এবং দলীয় প্রভাবমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলাই ছিল এই অভ্যুত্থানের প্রধান দাবি। তবে বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসহ প্রতিটি সেক্টরকে নিজেদের প্রভাববলয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করা হয়।

সংগঠনটির প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে পিএসসির কাঠামোগত সংস্কার করতে হবে। চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ বাছাই কমিটি গঠন করতে হবে। নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, সততা ও পেশাগত দক্ষতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

পিএসসি সংস্কার ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ
১. জুলাই সনদে উল্লিখিত প্রস্তাবনা অনুযায়ী পিএসসির কাঠামোগত সংস্কার এবং চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ বাছাই কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিতে হবে এবং নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, সততা ও পেশাগত দক্ষতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব  দিতে হবে।

২. সরকারী সকল চাকুরির নিয়োগ পিএসসির মাধ্যমে হতে হবে। বিশেষ করে ৯ম ও ১০ গ্রেডের সরকারী চাকুরির সকল নিয়োগ পিএসসির অধিনে আনতে হবে এবং পিএসসির নিয়োগ প্রক্রিয়া, পরীক্ষা ও ফলাফল প্রকাশের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় বা অন্য কোন মহলের অনানুষ্ঠানিক চাপ ও হস্তক্ষেপ সম্পূর্ণরুপে বন্ধ করতে হবে। প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।

৩. কোডভিত্তিক খাতা মূল্যায়ন, কম্পিটেন্সি বেইজড ইন্টারভিউ’, প্রশ্নফাস ঠেকাতে নেওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদার এবং ‘ওয়ান ইয়ার, ওয়ান বিসিএস’ নীতিসহ মোনেম কমিশনের নেওয়া সংস্কার উদ্যোগগুলো বহাল রাখতে হবে।

৪. মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরগুলোকে নিজ নিজ দপ্তরের অনুমোদিত শূন্য পদ, সম্ভাব্য অবসর, নতুন পদ সৃষ্টি এবং জনবল চাহিদার তথ্য নির্ধারিত সময়ে পিএসসিকে সরবরাহ করতে হবে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে পিএসসি ও নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সমন্বিত বার্ষিক নিয়োগ ক্যালেন্ডার প্রকাশ করবে।

৫. নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ থেকে চূড়ান্ত নিয়োগ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১২ মাসের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। একটি নিয়োগপ্রক্রিয়া চলমান থাকতেই পরবর্তী নিয়োগের প্রস্তুতি শুরু করতে হবে, যাতে নিয়োগের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। পাশাপাশি নিয়োগপ্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপের অগ্রগতি, ফলাফল প্রকাশের সম্ভাব্য সময় এবং বিলম্বের কারণ ডিজিটাল মাধ্যমে নিয়মিত প্রকাশ করতে হবে। কোনো পর্যায়ে অস্বাভাবিক বিলম্ব হলে তার ব্যাখ্যা জনসমক্ষে দিতে হবে।

৬. রাজনৈতিক পরিচয়, পারিবারিক রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, ব্যক্তিগত যোগাযোগ কিংবা কোন সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ভিত্তিতে প্রার্থীকে বৈষম্যের শিকার করা যাবে না। এ ধরনের বৈষম্য প্রতিরোধ ও নিষ্পত্তির জন্য কার্যকর অভিযোগ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি চালু করতে হবে। তবে, যদি ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোন ফোজদারী অপরাধ প্রমানিত হয় সেটি ভিন্ন বিষয়।

পুলিশ ভেরিফিকেশন ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা
৭. সাধারণ সরকারি নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করতে হবে। পুলিশ ভেরিফিকেশনের উদ্দেশ্য, যাচাইয়ের মানদণ্ড, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ ও সময়সীমা লিখিতভাবে প্রকাশ করতে হবে।

৮. জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য এবং প্রাসঙ্গিক অপরাধসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ডের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এ প্রক্রিয়া সর্বোচ্চ ১৫ কার্ যদিবসের মধ্যে শেষ করার ব্যবস্থা করতে হবে।

৯. ভেরিফিকেশনে কোন নেতিবাচক তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে লিখিতভাবে কারণ জানাতে হবে এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে। ভুল তথ্য বা প্রশাসনিক ত্রুটি সংশোধন, আপিল এবং পুনর্বিবেচনার কার্যকর ব্যবস্থা রাখতে হবে।

১০. নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পদের ধরন ও দায়িত্ব অনুযায়ী লিখিত, মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বর নির্ধারণ করতে হবে। মৌখিক পরীক্ষার জন্য অভিন্ন মূল্যায়ন কাঠামো, নির্ধারিত মানদণ্ড এবং পরীক্ষকদের মূল্যায়নের রেকর্ড সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করতে হবে।

১১. মৌখিক পরীক্ষায় অস্বাভাবিক নম্বর প্রদান বা পরীক্ষকদের মূল্যায়নে বড় ধরনের অসংগতি দেখা গেলে তা পর্যালোচনার কার্যকর ব্যবস্থা রাখতে হবে। এ লক্ষ্যে ভাইভা পরীক্ষার অডিও রেকর্ড সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে কোন প্রার্থী মূল্যায়নে অসংগতির অভিযোগ থাকলে আপিল করতে পারেন এবং তা পনু র্বিবেচনার সুযোগ পান। কোনভাবেই মৌখিক পরীক্ষার অস্বচ্ছ মূল্যায়নের কারণে লিখিত পরীক্ষায় অর্জিত মেধা ও যোগ্যতা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

১২. প্রশ্নফাঁস, প্রক্সি পরীক্ষা ও অন্যান্য অনিয়ম প্রতিরোধে নিরাপদ প্রযুক্তি, ডিজিটাল নজরদারি এবং আধুনিক পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। পিএসসির প্রযুক্তিগত ও পেশাগত সক্ষমতা বাড়াতে দক্ষ জনবল নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে।

জবাবদিহি ও দীর্ঘমেয়াদি প্রশাসনিক সংস্কার—
১৩. সরকারি কর্মচারী আইন, ২০১৮-এর ৮, ১৯ ও ২০ ধারাসহ প্রাসঙ্গিক বিধান পর্যালোচনা করে নিয়োগ, পদোন্নতি, মূল্যায়ন ও জবাবদিহির ক্ষেত্রে মেধা, সততা, দক্ষতা, কর্মসম্পাদন এবং প্রাতিষ্ঠানিক কার্ যকারিতাকে গুরুত্ব দিতে হবে। প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক বিবেচনার পরিবর্তে পেশাগত যোগ্যতা ও জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে।

সংগঠনটির বক্তব্য, সরকারি চাকরি কোনো রাজনৈতিক দলের অনুগত কর্মীদের পুরস্কৃত করার জায়গা নয়; এটি রাষ্ট্রের সেবা করার দায়িত্ব। তাই নিয়োগ হতে হবে যোগ্যতা, দক্ষতা ও সততার ভিত্তিতে। পিএসসিসহ সব সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীন, স্বায়ত্তশাসিত ও জবাবদিহিমূলক করতে হবে।

এসব সংস্কার বাস্তবায়ন না হলে জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাবিরোধী যেকোনো উদ্যোগের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ ও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তোলার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।