সিনেটর নির্বাচিত হয়েই ‘হাবিবী পিএসি’ চালু করলেন আল-সাইয়েদ
- আপডেট সময় ১২:৪৪:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
- / ২৪ বার পড়া হয়েছে
মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটের হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার কয়েকদিন পরই আবদুল আল-সাইয়েদ “হাবিবী পিএসি”নামে একটি পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি চালু করেছেন।
পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি বা পিএসি হলো এমন সংস্থা যা কোনো প্রার্থীর সমর্থনে বা বিরোধিতায় অর্থ সংগ্রহ ও ব্যয় করে। বৃহস্পতিবারের এক ফেডারেল ইলেকশন কমিশন (এফইসি) ফাইলিং অনুসারে, হাবিবী পিএসি আল-সাইয়েদের স্পন্সরকৃত একটি লিডারশিপ পিএসি হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছে। এ ধরনের কমিটিগুলো একজন রাজনৈতিকের নিজস্ব প্রচারণা থেকে আলাদা হয়ে থাকে।
‘হাবিবী’ একটি আরবি শব্দ যা ভালোবাসার প্রকাশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যার অর্থ “আমার প্রিয়” বা “আমার ভালোবাসা”। আল-সাইয়েদ নির্বাচনী প্রচারণায় শব্দটি ঘন ঘন ব্যবহার করেছেন। এমনকি ডেট্রয়েটে দেওয়া বিজয় ভাষণেও তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে উদ্দেশ্য করে সরাসরি বলেছিলেন, “জেডি, হাবিবী, এতে এক চমৎকার পরিহাস রয়েছে যে জানুয়ারিতে আমাকে শপথ পাঠ করাতে আপনি সাংবিধানিকভাবে বাধ্য।”
এফইসি ফাইলিং অনুসারে, মঙ্গলবারের ভোটের পর লিডারশিপ পিএসি নিবন্ধনকারী কয়েকজন নতুন নির্বাচিত ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে একজন হলেন তিনি। অন্যান্যদের মধ্যে রয়েছেন অ্যারিজোনার নির্বাচিত কংগ্রেস সদস্য অমিশ শাহ-এর “পিএসি স্ট্রিট বয়” আইওয়ার নির্বাচিত সিনেটর জোশ টুরেক-এর “হুইলপিএসি”এবং নর্থ ক্যারোলিনার নির্বাচিত সিনেটর রয় কুপার-এর “ওয়ান এনসি পিএসি” ।
ওপেনসিক্রেটস-এর তথ্য অনুযায়ী, উচ্চাকাঙ্ক্ষী আইনপ্রণেতারা অন্য সদস্য, তাঁদের দল এবং অন্যান্য রাজনৈতিক কমিটিতে অনুদান দেওয়ার মাধ্যমে সহকর্মীদের মাঝে প্রভাব বাড়াতে এবং নেতৃত্বের পদ বা কমিটির চেয়ারম্যান হওয়ার লড়াইকে শক্তিশালী করতে লিডারশিপ পিএসি ব্যবহার করেন।
২০২৪ সালের নির্বাচন চক্রে, লিডারশিপ পিএসিগুলো ফেডারেল প্রার্থীদের ৭৯.৩ মিলিয়ন ডলার অনুদান দিয়েছে। এর বেশিরভাগই রিপাবলিকানদের পকেটে গেছে, যদিও একক বৃহত্তম দাতা হিসেবে ছিল একটি ডেমোক্র্যাটিক লিডারশিপ পিএসি।
মিশরীয় অভিবাসী মা-বাবার সন্তান আল-সাইয়েদ রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করেছেন। প্রচারণাকালে ট্রাম্প, জেডি ভ্যান্স এবং সিনেটর টেড ক্রুজ তাঁর আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, তাঁকে “জিহাদি”বলে আখ্যা দিয়েছিলেন এবং কোনো প্রমাণ ছাড়াই মুসলিম ব্রাদারহুড আন্দোলনের সাথে তাঁকে যুক্ত করার চেষ্টা করেছিলেন।
ভোটের কয়েক দিন আগে মিশিগানের ওয়ান্ডোট শহরের এক সমাবেশে আল-সাইয়েদ আল জাজিরাকে বলেছিলেন, করদাতাদের অর্থ— গণহত্যার কাজে বা বর্ণবাদী বিদেশি সরকারকে না দিয়ে দেশের মানুষের জীবন বাঁচাতে ব্যয় করা উচিত।
তিনি আরও যোগ করেন, ট্রাম্পকে হারানোই যথেষ্ট নয়, যে ব্যবস্থার কারণে তাঁর সৃষ্টি হয়েছে—সেই ব্যবস্থাকেও প্রতিস্থাপন করতে হবে।
রাজনীতি থেকে অর্থের প্রভাব দূর করা ছিল তাঁর অন্যতম মূল অঙ্গীকার। বিজয় ভাষণে তিনি বলেন, এই ফল প্রমাণ করেছে অর্থ ও সাধারণ মানুষের মধ্যকার লড়াইয়ে “সাধারণ মানুষই বিজয়ী হতে পারে”।
রেকর্ড গড়ে ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল মধ্যবর্তী নির্বাচনে তাঁর এই জয় এসেছে। ওপেনসিক্রেটস-এর এফইসি তথ্যের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই নির্বাচনে মোট ব্যয়ের পরিমাণ ১১.৯ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২২ সালে ছিল ৮.৯ বিলিয়ন ডলার।



















