ইরানের স্থলবাণিজ্য বন্ধে ‘আয়রন গেট’ টাস্কফোর্স গঠন যুক্তরাষ্ট্রের
- আপডেট সময় ০৬:৩৬:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
- / ৩২ বার পড়া হয়েছে
ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়াতে নতুন কৌশল নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অস্ত্র সরবরাহ ও নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত পণ্য পরিবহনের স্থলপথগুলো চিহ্নিত করতে ‘আয়রন গেট’ নামে একটি নতুন টাস্কফোর্স গঠন করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। এর মাধ্যমে ইরানের অর্থনৈতিক সক্ষমতা দুর্বল করার পাশাপাশি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য কমিয়ে দিতে চায় ওয়াশিংটন। সাবেক মার্কিন উপসহকারী প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাইকেল মুলরয় আলজাজিরাকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দায়িত্ব পালন করা মুলরয়ের মতে, নতুন এই টাস্কফোর্স যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিরোধী অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশল আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে।
মুলরয় বলেন, সেন্টকম কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে। ইরানে অস্ত্রব্যবস্থা কোন কোন পথে প্রবেশ করছে, কীভাবে এসব সরবরাহ বন্ধ করা যায় এবং তেহরান কীভাবে স্থলপথ ব্যবহার করে জ্বালানি পরিবহন করছে, তা শনাক্ত করাই হবে এই টাস্কফোর্সের অন্যতম কাজ। তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংঘাত আরও বাড়ানোর নির্দেশ দিলে এসব স্থাপনা সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
মুলরয়ের ভাষায়, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র সঙ্গে নতুন পরিকল্পনার বড় পার্থক্য রয়েছে। আগের অভিযানটি মূলত সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিল। কিন্তু নতুন পরিকল্পনায় অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত স্থাপনাগুলোও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এই পরিকল্পনার উদ্দেশ্য হলো ইরান সরকারকে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা থেকে বিচ্ছিন্ন করা। একই সঙ্গে সরকারের অর্থের জোগান দেওয়ার পথও বন্ধ করে দেওয়া। সাবেক এই মার্কিন উপসহকারী প্রতিরক্ষামন্ত্রী এর আগে সিআইএর আধাসামরিক অভিযানবিষয়ক কর্মকর্তা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
মুলরয়ের মতে, ‘আয়রন গেট’ টাস্কফোর্সকে একটি ‘কমব্যাট্যান্ট কমান্ড’ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। এটি ইঙ্গিত দেয়, সম্ভাব্য সংঘাত বৃদ্ধি কিংবা নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর প্রস্তুতিও এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই পরিকল্পনায় ইরানের সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি দেশটির অর্থনীতি, জ্বালানি পরিবহনব্যবস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠতে পারে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ ধরনের নতুন হামলার কোনো নির্দেশ দিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে মুলরয় নিশ্চিত করে কিছু বলেননি।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা



















