ঢাকা ০৭:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
উপজেলা নির্বাচনে

আওয়ামীলীগ পরিবারের ক্ষমতা ব্যবহার করে নির্বাচনে জয়ী হচ্ছে স্বজনরা

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০২:৪৭:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ মে ২০২৪
  • / ১০৮ বার পড়া হয়েছে

ভোট প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করতে এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে অংশ নেয়নি আওয়ামী লীগ। তৃণমূলে বিভেদ এড়াতে মন্ত্রী-সংসদ সদস্যদের স্বজনদের সরে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেয় দল। কিন্তু উত্তরাধিকার বসাতে মরিয়া সংসদ সদস্যরা সেই নির্দেশনা মানেননি। সংসদ সদস্যের প্রভাব খাটিয়ে স্ত্রী-সন্তান ও ভাইকে উপজেলা চেয়ারম্যান বানিয়েছেন। এতে দল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা।

নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরী স্ত্রী ও ভাগনেকে জনপ্রতিনিধি করার পর এবার ছেলে আতাহার ইশরাক শাবাব চৌধুরীকে উপজেলা চেয়ারম্যান বানিয়েছেন। ২৬ বছর বয়সী তরুণ শাবাব চৌধুরীর কাছে হেরেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্ষীয়ান রাজনীতিক এ এইচ এম খায়রুল আনম চৌধুরী। নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর ছেলে আশিক আলীর বিরুদ্ধে কেউ প্রার্থীই হননি। একরামুল করিম চৌধুরীর মতো একই পথে হেঁটেছেন বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনের সংসদ সদস্য সাহাদারা মান্নান। সোনাতলায় নিজের ছোট ভাই মিনহাদুজ্জামানকে চেয়ারম্যান করার পর সারিয়াকান্দিতে ছেলে সাখাওয়াত হোসেনকে প্রথমবার জিতিয়ে নিয়ে এসেছেন।

ছেলের নির্বাচিত হওয়ার পেছনে সংসদ সদস্যরা বড় ভূমিকা পালন করছেন। এতে দল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দলের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতা-কর্মীরা জনপ্রতিনিধি হবেন, মানুষের সেবা করবেন; সেই আশা আর করতে পারছেন না। দলের স্বার্থে এই চর্চা থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি।

নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সহিদ উল্যাহ খান

নোয়াখালী ও বগুড়ার তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা বলছেন, স্থানীয় রাজনীতিতে সংসদ সদস্যদের স্বজনদের উল্লেখ করার মতো ভূমিকা ছিল না। তাঁদের নির্বাচিত হওয়ার পেছনে মূল শক্তি হিসেবে কাজ করেছে তাঁদের বাবা কিংবা মা স্থানীয় সংসদ সদস্য। যদিও সংসদ সদস্যরা বলছেন, তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা চাওয়ায় তাঁদের স্বজনেরা প্রার্থী হয়ে চেয়ারম্যান হয়েছেন।

উত্তরাধিকার বসাতে মরিয়া সংসদ সদস্যরা আওয়ামী লীগের নির্দেশনা মানেননি।

নোয়াখালীতে স্বজনদের স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী করানোর প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০০৯ সালে। সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর গ্রামের বাড়ি কবিরহাটে। প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হয়ে তিনি তাঁর স্ত্রী কামরুন্নাহার শিউলিকে কবিরহাট উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেন। পরের বছর ২০১০ সালে কবিরহাট পৌর নির্বাচনে ভাগনে জহিরুল হককে মেয়র প্রার্থী করেন। সেই থেকে জহিরুল কবিরহাট পৌরসভার মেয়র।

কবিরহাট আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেন, দল ক্ষমতায় থাকায় ও স্বামী সংসদ সদস্য হওয়ায় কামরুন্নাহার পরপর দুবার উপজেলা চেয়ারম্যান হন।

সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বাহার উদ্দিন  বলেন, তফসিলের কিছুদিন আগে সংসদ সদস্য তাঁর ছেলের ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে কবিরহাট থেকে সুবর্ণচরে আনেন। ৮ মের নির্বাচনে ২৬ বছর বয়সী শাবাব চৌধুরীর কাছে ৭০৩ ভোটে হেরেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ এইচ এম খায়রুল আনম চৌধুরী। তিনি আসলে হেরেছেন ক্ষমতা, অর্থবিত্ত ও সংসদ সদস্যের প্রভাবের কাছে।

খায়রুল আনম চৌধুরী বলেন, নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা থেকে শুরু করে ভোট-ফলাফল সবখানে সংসদ সদস্যের প্রভাব খাটানো হয়েছে। তাঁর নিশ্চিত বিজয় ছিনতাই করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা চাইলেও সংসদ সদস্যদের প্রভাবের বাইরে যেতে পারেন না। এটি ভবিষ্যতে দলের জন্য সুখকর হবে না।

নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী। তাঁর ছেলে আশিক আলী প্রথমবারের মতো হাতিয়ায় প্রার্থী হয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। মোহাম্মদ আলী  বলেন, ছেলেকে প্রার্থী করানোর ক্ষেত্রে তাঁর বিন্দুমাত্র ভূমিকা ছিল না। ছেলে আগে থেকেই উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের চাওয়া ছিল আশিক যেন প্রার্থী হয়।

বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য সাহাদারা মান্নান প্রথমবারের মতো ছেলে মোহাম্মেদ সাখাওয়াত হোসেনকে সারিয়াকান্দিতে এবং ছোট ভাই মিনহাদুজ্জামান লিটনকে দ্বিতীয়বারের মতো সোনাতলায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের অভিযোগ, সংসদ সদস্যের প্রভাব খাটিয়ে নেতা-কর্মীদের ভয়ভীতি ও প্রশাসনের ওপর কৌশল প্রয়োগ করে দুই উপজেলায় নিজের সর্বাত্মক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন সংসদ সদস্য।

সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা নিয়ে গঠিত বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল মান্নান। ২০২০ সালে তাঁর মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে প্রথমবার ও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য হন তাঁর স্ত্রী সাহাদারা মান্নান। পঞ্চম উপজেলা নির্বাচনে তিনি নিজের ভাই মিনহাদুজ্জামানকে সোনাতলায় প্রার্থী করিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেন। এবার সারিয়াকান্দিতে ছেলেকে প্রার্থী করতে ১৬ মার্চ অনুসারী নেতা-কর্মীদের বাসায় ডেকে চেয়ারম্যান প্রার্থী করার ঘোষণা দেন।

সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান রেজাউল করিম। তিনি বলেন, সংসদ সদস্য দুই উপজেলার সব সাংগঠনিক কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে স্বজনদের বসিয়েছেন। ২০১৯ সালে ভাইকে দলীয় মনোনয়নের মাধ্যমে উপজেলা পরিষদ দখল করেছিলেন। এবার নিজের ছেলেকে সারিয়াকান্দিতে বসিয়েছেন। ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে, নেতা-কর্মীদের হুমকি দিয়ে গোটা নির্বাচনী এলাকায় পরিবারতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন।

সারিয়াকান্দিতে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আশিক আহম্মেদ ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি আবদুস সালামসহ আওয়ামী লীগের আরও তিনজন প্রার্থী হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে শেষ মুহূর্তে সংবাদ সম্মেলন করে মাঠ ছাড়ার ঘোষণা দেন আশিক ও সালাম। তাঁদের একজন  বলেন, নির্বাচনের জন্য কয়েক বছর ধরে মাঠ গুছিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্য আছে। সংসদ সদস্যের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে টিকতে পারব না। বাধ্য হয়ে মাঠ থেকে সরে দাঁড়িয়েছি।’ এ বিষয়ে জানতে সাহাদারা মান্নানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সহিদ উল্যাহ খান বলেন, ছেলের নির্বাচিত হওয়ার পেছনে সংসদ সদস্যরা বড় ভূমিকা পালন করছেন। এতে দল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দলের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতা-কর্মীরা জনপ্রতিনিধি হবেন, মানুষের সেবা করবেন; সেই আশা আর করতে পারছেন না। দলের স্বার্থে এই চর্চা থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি।

নিউজটি শেয়ার করুন

উপজেলা নির্বাচনে

আওয়ামীলীগ পরিবারের ক্ষমতা ব্যবহার করে নির্বাচনে জয়ী হচ্ছে স্বজনরা

আপডেট সময় ০২:৪৭:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ মে ২০২৪

ভোট প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করতে এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে অংশ নেয়নি আওয়ামী লীগ। তৃণমূলে বিভেদ এড়াতে মন্ত্রী-সংসদ সদস্যদের স্বজনদের সরে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেয় দল। কিন্তু উত্তরাধিকার বসাতে মরিয়া সংসদ সদস্যরা সেই নির্দেশনা মানেননি। সংসদ সদস্যের প্রভাব খাটিয়ে স্ত্রী-সন্তান ও ভাইকে উপজেলা চেয়ারম্যান বানিয়েছেন। এতে দল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা।

নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরী স্ত্রী ও ভাগনেকে জনপ্রতিনিধি করার পর এবার ছেলে আতাহার ইশরাক শাবাব চৌধুরীকে উপজেলা চেয়ারম্যান বানিয়েছেন। ২৬ বছর বয়সী তরুণ শাবাব চৌধুরীর কাছে হেরেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্ষীয়ান রাজনীতিক এ এইচ এম খায়রুল আনম চৌধুরী। নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর ছেলে আশিক আলীর বিরুদ্ধে কেউ প্রার্থীই হননি। একরামুল করিম চৌধুরীর মতো একই পথে হেঁটেছেন বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনের সংসদ সদস্য সাহাদারা মান্নান। সোনাতলায় নিজের ছোট ভাই মিনহাদুজ্জামানকে চেয়ারম্যান করার পর সারিয়াকান্দিতে ছেলে সাখাওয়াত হোসেনকে প্রথমবার জিতিয়ে নিয়ে এসেছেন।

ছেলের নির্বাচিত হওয়ার পেছনে সংসদ সদস্যরা বড় ভূমিকা পালন করছেন। এতে দল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দলের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতা-কর্মীরা জনপ্রতিনিধি হবেন, মানুষের সেবা করবেন; সেই আশা আর করতে পারছেন না। দলের স্বার্থে এই চর্চা থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি।

নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সহিদ উল্যাহ খান

নোয়াখালী ও বগুড়ার তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা বলছেন, স্থানীয় রাজনীতিতে সংসদ সদস্যদের স্বজনদের উল্লেখ করার মতো ভূমিকা ছিল না। তাঁদের নির্বাচিত হওয়ার পেছনে মূল শক্তি হিসেবে কাজ করেছে তাঁদের বাবা কিংবা মা স্থানীয় সংসদ সদস্য। যদিও সংসদ সদস্যরা বলছেন, তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা চাওয়ায় তাঁদের স্বজনেরা প্রার্থী হয়ে চেয়ারম্যান হয়েছেন।

উত্তরাধিকার বসাতে মরিয়া সংসদ সদস্যরা আওয়ামী লীগের নির্দেশনা মানেননি।

নোয়াখালীতে স্বজনদের স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী করানোর প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০০৯ সালে। সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর গ্রামের বাড়ি কবিরহাটে। প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হয়ে তিনি তাঁর স্ত্রী কামরুন্নাহার শিউলিকে কবিরহাট উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেন। পরের বছর ২০১০ সালে কবিরহাট পৌর নির্বাচনে ভাগনে জহিরুল হককে মেয়র প্রার্থী করেন। সেই থেকে জহিরুল কবিরহাট পৌরসভার মেয়র।

কবিরহাট আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেন, দল ক্ষমতায় থাকায় ও স্বামী সংসদ সদস্য হওয়ায় কামরুন্নাহার পরপর দুবার উপজেলা চেয়ারম্যান হন।

সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বাহার উদ্দিন  বলেন, তফসিলের কিছুদিন আগে সংসদ সদস্য তাঁর ছেলের ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে কবিরহাট থেকে সুবর্ণচরে আনেন। ৮ মের নির্বাচনে ২৬ বছর বয়সী শাবাব চৌধুরীর কাছে ৭০৩ ভোটে হেরেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ এইচ এম খায়রুল আনম চৌধুরী। তিনি আসলে হেরেছেন ক্ষমতা, অর্থবিত্ত ও সংসদ সদস্যের প্রভাবের কাছে।

খায়রুল আনম চৌধুরী বলেন, নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা থেকে শুরু করে ভোট-ফলাফল সবখানে সংসদ সদস্যের প্রভাব খাটানো হয়েছে। তাঁর নিশ্চিত বিজয় ছিনতাই করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা চাইলেও সংসদ সদস্যদের প্রভাবের বাইরে যেতে পারেন না। এটি ভবিষ্যতে দলের জন্য সুখকর হবে না।

নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী। তাঁর ছেলে আশিক আলী প্রথমবারের মতো হাতিয়ায় প্রার্থী হয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। মোহাম্মদ আলী  বলেন, ছেলেকে প্রার্থী করানোর ক্ষেত্রে তাঁর বিন্দুমাত্র ভূমিকা ছিল না। ছেলে আগে থেকেই উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের চাওয়া ছিল আশিক যেন প্রার্থী হয়।

বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য সাহাদারা মান্নান প্রথমবারের মতো ছেলে মোহাম্মেদ সাখাওয়াত হোসেনকে সারিয়াকান্দিতে এবং ছোট ভাই মিনহাদুজ্জামান লিটনকে দ্বিতীয়বারের মতো সোনাতলায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের অভিযোগ, সংসদ সদস্যের প্রভাব খাটিয়ে নেতা-কর্মীদের ভয়ভীতি ও প্রশাসনের ওপর কৌশল প্রয়োগ করে দুই উপজেলায় নিজের সর্বাত্মক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন সংসদ সদস্য।

সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা নিয়ে গঠিত বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল মান্নান। ২০২০ সালে তাঁর মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে প্রথমবার ও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য হন তাঁর স্ত্রী সাহাদারা মান্নান। পঞ্চম উপজেলা নির্বাচনে তিনি নিজের ভাই মিনহাদুজ্জামানকে সোনাতলায় প্রার্থী করিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেন। এবার সারিয়াকান্দিতে ছেলেকে প্রার্থী করতে ১৬ মার্চ অনুসারী নেতা-কর্মীদের বাসায় ডেকে চেয়ারম্যান প্রার্থী করার ঘোষণা দেন।

সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান রেজাউল করিম। তিনি বলেন, সংসদ সদস্য দুই উপজেলার সব সাংগঠনিক কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে স্বজনদের বসিয়েছেন। ২০১৯ সালে ভাইকে দলীয় মনোনয়নের মাধ্যমে উপজেলা পরিষদ দখল করেছিলেন। এবার নিজের ছেলেকে সারিয়াকান্দিতে বসিয়েছেন। ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে, নেতা-কর্মীদের হুমকি দিয়ে গোটা নির্বাচনী এলাকায় পরিবারতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন।

সারিয়াকান্দিতে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আশিক আহম্মেদ ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি আবদুস সালামসহ আওয়ামী লীগের আরও তিনজন প্রার্থী হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে শেষ মুহূর্তে সংবাদ সম্মেলন করে মাঠ ছাড়ার ঘোষণা দেন আশিক ও সালাম। তাঁদের একজন  বলেন, নির্বাচনের জন্য কয়েক বছর ধরে মাঠ গুছিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্য আছে। সংসদ সদস্যের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে টিকতে পারব না। বাধ্য হয়ে মাঠ থেকে সরে দাঁড়িয়েছি।’ এ বিষয়ে জানতে সাহাদারা মান্নানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সহিদ উল্যাহ খান বলেন, ছেলের নির্বাচিত হওয়ার পেছনে সংসদ সদস্যরা বড় ভূমিকা পালন করছেন। এতে দল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দলের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতা-কর্মীরা জনপ্রতিনিধি হবেন, মানুষের সেবা করবেন; সেই আশা আর করতে পারছেন না। দলের স্বার্থে এই চর্চা থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি।